Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জাতিসংঘের খাদ্যগুদামে ঢুকে গম-আটা নিয়ে গেলেন ফিলিস্তিনিরা

টানা যুদ্ধ ও কঠোর অবরোধের কারণে নাগরিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে শুরু করেছে

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৩, ০৭:৩৮ পিএম

ইসরায়েলের অবরোধে ফিলিস্তিনে দেখা দিয়েছে ব্যাপক মানবিক সঙ্কট। এরই মধ্যে জাতিসংঘের একটি খাদ্যগুদামে ঢুকে গম, আটাসহ মৌলিক জিনিসপত্র নিয়ে গেছে ফিলিস্তিনিরা।

গাজায় ইউএন রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সি ফর প্যালেস্টাইন রিফিউজিস (ইউএনআরডব্লিউএ) এর পরিচালক টমাস হোয়াইট বলেন, তিন সপ্তাহ ধরে চলা অবরোধ ও বোমা হামলার কারণে ফিলিস্তিনিরা বিপর্যস্ত। টানা যুদ্ধ ও কঠোর অবরোধের কারণে নাগরিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে শুরু করেছে।

রক্তপাত বন্ধ ও যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার জন্য রবিবার (২৯ অক্টোবর) আবারও উভয়পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস।

তিনি বলেন, “গাজার পরিস্থিতি ঘণ্টার পর ঘণ্টা আরও খারাপ হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা ও প্রয়োজনীয় মানবিক বিরতির পরিবর্তে ইসরায়েল সামরিক অভিযান জোরদার করেছে।”

ইসরায়েলে হামাসের হামলার কারণে অন্তত ২৩ লাখ মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তাদের খাদ্য, পানি ও বিদ্যুৎ নেই। ইসরায়েল প্রয়োজনীয় মৌলিক জিনিসপত্র ও ওষুধ সীমিত সরবরাহের অনুমতি দিয়েছে।

৭ অক্টোবর থেকে তীব্র বোমা হামলার শিকার উপত্যকাবাসী খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও ওষুধের অপেক্ষায় আছে।

মৃত্যু আট হাজার ছাড়িয়েছে

ইসরায়েলের হামলায় ফিলিস্তিনে মৃতের সংখ্যা আট হাজার ছাড়িয়েছে, এর বেশিরভাগই নারী ও শিশু। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।

এ সপ্তাহের শেষে বোমাবর্ষণের পরিমাণ আরও বেড়েছে। শুক্রবার থেকেই এই অঞ্চলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রবিবার ভোরে গাজার বেশিরভাগ অংশে যোগাযোগ পুনরুদ্ধার করা হয়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী রবিবার বলেছে, গত ২৪ ঘন্টায় তারা হামাসের কমান্ড সেন্টার, পর্যবেক্ষণ পোস্ট এবং অ্যান্টিট্যাঙ্ক মিসাইল উৎক্ষেপণ অবস্থানসহ ৪৫০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, রাতারাতি গাজায় আরও স্থল বাহিনী পাঠানো হয়েছে।

গাজায় পৌঁছাচ্ছে অল্প সাহায্য

গাজায় বাস্তুচ্যুত অনেকেই ইউএনআরডব্লিউএ পরিচালিত স্কুলে আশ্রয় নিচ্ছে। সংস্থাটি গাজায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করছে। সেখানে বহু হাসপাতাল বন্ধ হয়েছে। জ্বালানির অভাবে কিছু হাসপাতাল বন্ধের হুমকিতে রয়েছে। সংস্থাটি বলছে, মিশর থেকে ট্রাকে আসা মানবিক সহায়তা অপর্যাপ্ত। বাজারে সরবরাহ ফুরিয়ে যাচ্ছে। আমরা যে সাহায্য পাই তা নগণ্য।

সংস্থাটির মুখপাত্র জুলিয়েট তোমা বলেন, “যুদ্ধ শুরুর পরে ইসরায়েল সব চালান বন্ধ করেছে। গুদামে কোনো সরবরাহ আসছে না।”

গাজায় প্রায় ১৪ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত। এরমধ্যে ৬১৩,০০০ এর বেশি মানুষ ইউএনআরডব্লিউএ এর নিয়ন্ত্রিত জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। তবে তীব্র জনসমাগম, গোপনীয়তার অভাব এবং অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন এই জায়গাগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা হুমকিতে ফেলেছে। জাতিসংঘের সংস্থাটি বলেছে, কিছু আশ্রয়কেন্দ্র বর্তমানে সক্ষমতার চেয়ে ১০-১২ গুণ বেশি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে।

About

Popular Links