Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের মধ্যে ইরানকে ‘দৃঢ়’ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি চীনের

চীন ও ইরানের মধ্যে বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৩, ১১:৫২ পিএম

ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে চীন দৃঢ় বিরোধিতা করে বলে জানিয়ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।

গত বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবারের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

লি কিয়াং বলেন, “ইসরায়েল-হামাস সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় ইরানকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করবে চীন।”

চীন ও ইরানের মধ্যে বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অস্থির আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরেও দুই দেশ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।”

ভারতে চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতেও একই কথা জানিয়েছে। দূতাবাস বলছে, “দুই পক্ষের উচিত দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক সহযোগিতা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা, বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা অগ্রসর করা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক উপকারী সহযোগিতা জোরদার করা। এছাড়াও শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন এবং থিঙ্ক ট্যাঙ্কসহ জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান করা উচিত। চীন-ইরান সহযোগিতায় নতুন এবং টেকসই অর্জনের জন্য কাজ করতে হবে।”

ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতেও সমন্বয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন লি কিয়াং।

গত ৭ আগস্ট ইসরায়েলে হামাসের হামলার সঙ্গে ইরানের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তেহরান সবসময়ই হামাসের বড় পৃষ্ঠপোষক।

ইসরায়েলে হামলার পরের দিন হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসেম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু ওবাইদাহ ইরানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আমরা ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানকে ধন্যবাদ জানাই, যারা আমাদের অস্ত্র, অর্থ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “ইহুদিবাদী দুর্গ ধ্বংস করতে তারা আমাদেরকে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েছে ও অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল দিয়ে সাহায্য করেছে।”

২০২০ সালে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সম্মিলিতভাবে ইরান থেকে প্রতি বছর ১০০ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে।

হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াহ ২০২২ সালে আল-জাজিরাকে বলেন, “ইরান গোষ্ঠীটিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিকাশে সহায়তা করার জন্য ৭০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে।

তিনি ইরানকে সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক হিসাবে চিহ্নিত করেন। এছাড়াও অন্য দেশও অর্থ দেয় বলে জানান।

এদিকে ইসরায়েলের উপর হামাসের হামলার বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি)। 

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ২৪ অক্টোবরের সংঘাতকে যুদ্ধ ও শান্তির মধ্যে প্রধান পছন্দ বলে অভিহিত করেন।

আমেরিকার থিঙ্ক ট্যাঙ্কের ইহুদি ইন্সটিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটির ফেলো গ্যাব্রিয়েল নোরোনহা বলেন, “২০২২ সালে ইরান থেকে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার অপরিশোধিত তেল কিনে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে অক্সিজেন যুগিয়েছে সিসিপি। এ বছরও তারা সেই ধারা অব্যাহত রেখেছে।”

ওয়াং ই বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব থেকে দূরে থাকতে ইরানের জন্য এই প্রচেষ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

২৬ অক্টোবর হাউস ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস কমিটির কাছে লিখিত বক্তব্যে মি. নরোনহা বলেন, “রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে পেরেছে ইরানের শাসক গোষ্ঠী।”

তার মতে, “ইরান মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সমর্থন করার জন্য ২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দিয়েছে। হামাসকে তার সামরিক বাজেটের প্রায় ৯৩% সরবরাহ করেছে ইরান।

এই অর্থের বেশিরভাগই চীনে তেল বিক্রি থেকে আসে। ২০২২ সালের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর চীন রেকর্ড সংখ্যক ইরানি তেল আমদানি শুরু করেছে।

সরকার ২০২২ সালের মাঝামাঝি ইরানের তেল আমদানির তথ্য প্রকাশ বন্ধ করে দেয়। ব্লুমবার্গের তথ্য বলছে, “একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন এখন ১০ বছরের উচ্চ হারে তেল আমদানি করছে।”

About

Popular Links