Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দীপাবলিতে কলকাতায় শব্দবাজির তাণ্ডব

দীপাবলিতে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শব্দের দাপট বাড়তে থাকে। কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ, বিকট শব্দে ফেটেছে বাজি যা নির্দিষ্ট ডেসিবলের থেকে অনেক বেশি

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:৫৫ পিএম

দীপাবলিতে প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন নির্দেশনা ছিল। কিন্তু সবকিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শব্দবাজির তাণ্ডব চলেছে কলকাতাজুড়ে। ভারতের শহরটিতে পাল্লা দিয়ে নেমেছে বাতাসের মানও। শীর্ষ আদালত ও জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশনায় বলা ছিল, রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে শুধু সবুজ বাজি পোড়ানো যাবে। তাও বিশেষ কিছু স্থানে নীরবতা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছিল।

এসব নির্দেশনা এবারও থেকে গেল কাগজে-কলমে। বাজি পোড়ানোর প্রতি পুলিশের নজরদারি ছিল। আগাম ঘোষণা দিয়ে ড্রোনে নজরদারি চালানো হয়েছে। পুলিশ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ কন্ট্রোলরুম বসিয়েছিল। বিভিন্ন এলাকায় ধরপাকড়ও হয়েছে। তারপরেও বাজি পোড়ানোয় এবারও তেমন কোনো হেরফের হয়নি।

রবিবার (১২ নভেম্বর) কালীপূজা ও দীপাবলির সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শব্দের দাপটও বাড়তে থাকে। কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ, বিকট শব্দে ফেটেছে বাজি যা নির্দিষ্ট ডেসিবলের থেকে বেশি।

শহরের আবাসিক এলাকায় মধ্যরাতে শব্দের মাত্রা থাকার কথা ৫০ ডেসিবলের নিচে। কালীপূজার রাতে তা প্রায় ৭৫ ডেসিবলের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। যেসব এলাকায় শিল্প সংস্থা রয়েছে, সেখানে শব্দমাত্রা একটু বেশিই থাকে। সেই রাতে মাত্রা পৌঁছে যায় ৯০-এর আশপাশে।

শব্দবাজি নিয়ে অভিযোগ জমা পড়ে প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমে/পেক্সেলস

শব্দ কাঙ্ক্ষিত মাত্রার থেকে অনেকটাই বেশি ছিল হাসপাতাল এলাকায়। কলকাতা মেডিকেল কলেজ, আরজি কর মেডিকেল কলেজ, পিজি হাসপাতালের আশেপাশে অন্যান্য দিন শব্দের মাত্রা যে ডেসিবলে থাকে, তার থেকে অনেক বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

শব্দের মাত্রা ১০০ ডেসিবলের বেশি ছিল বহু এলাকায়। অভিযোগ, সবুজ শব্দবাজির মাত্রা ৯০ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ ডেসিবল করে দেওয়ায় শব্দের তাণ্ডবও টের পাওয়া গেছে। ফলে শব্দবাজির জায়গায় সবুজ বাজিতেও “নীরব” দীপাবলি নিশ্চিত করা যায়নি।

কলকাতার পরিবেশ কর্মীদের সংগঠন “সবুজ মঞ্চ” নিজস্ব কন্ট্রোল রুম খুলেছিল। সেখানে শব্দবাজি নিয়ে অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগ এসেছে প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমে। বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র বলেন, “বাজির দাপট কিছুটা কম বলেই মনে হয়েছে। পর্ষদের চারটে ড্রোন শহরের পাশাপাশি হাওড়ায় নজরজারি চালায়। ছয়টি দল টহল দিয়েছে। যেখান থেকে অভিযোগ এসেছে, ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছে পর্ষদ।”

শুধু শব্দ নয়, বায়ুদূষণে কালীপূজার রাতে দিল্লিকে পাল্লা দিয়েছে কলকাতা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে দূষণের মাত্রা অনেকটাই বেড়ে যায়। কলকাতা একটা সময় এমনই ধোঁয়াশায় ঢেকে যায় যে, দ্বিতীয় হুগলী সেতু থেকে হাওড়া ব্রিজ দেখা যাচ্ছিল না।

দীপাবলির রাত ১২টা নাগাদ কলকাতার জনবহুল ও জনবিরল এলাকায় বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা “পিএম ২.৫”-এর মাত্রা কোথাও ৩৫০, কোথাও ৪৫০-এ পৌঁছে যায়। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের এই মাপকাঠিতে সবচেয়ে খারাপ বাতাসের মান ধরা হয় ৫০০।

একটি বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দীপাবলির পরের দিন সকালে কলকাতার পরিস্থিতির উন্নতি হয়। আগের রাতে যেখানে ভয়াবহ দূষণ ছিল, সেই ইনডেক্স নেমে আসে ২০০-এর নিচে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির তুলনায় কলকাতার তাপমাত্রা কম এবং বাতাস ভারি। ফলে দিল্লিতে বাতাস দ্রুত বদলে না গেলেও কলকাতার পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত হয়।

কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ দেশটির জাতীয় স্তরে বাতাসের গুণমানের ওপর নজরদারি রাখে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, দীপাবলিতে কলকাতার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স-এ তেমন হেরফের হয়নি। কোথাও দূষণের মাত্রা “অতি খারাপ” হিসেবে চিহ্নিত হয়নি।

এসব বিতর্কের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটা থেকেই যায়, প্রতি বছর কি একই দৃশ্য দেখতে হবে? পরিবেশ আন্দোলনের প্রবীণ কর্মী নব দত্ত বলেন, “শুধু প্রশাসনিক কড়াকড়ি দিয়ে হবে না। সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। প্রশাসনকে দেখতে হবে, যাতে বেআইনি বাজির কারবার না হয়। একই সঙ্গে যেসব বেআইনি বাজি গোপনে বিক্রি হচ্ছে, সেগুলির ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে সাধারণ মানুষকে।”

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. তড়িৎ রায় চৌধুরী বলেন, “পাঁচ-সাত বছর আগে পরিস্থিতি যা ছিল, তার থেকে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। দূষণ রুখতে গেলে আমাদের পৌঁছাতে হবে তার উৎসে। পুলিশ-প্রশাসনকে যেমন শব্দবাজি তৈরি বন্ধ করতে হবে, তেমনি মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিতে চালাতে হবে প্রচার। তা হলে মানুষই বাজির ব্যবহার কমিয়ে ফেলবে।”

About

Popular Links