Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী কারা, কেন তারা ফিলিস্তিনি ভূমিতে বাস করে?

জল্লাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে অবৈধ বসতি স্থাপন করে বসবাসরত ইসরায়েলিরা

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৬:৪৭ পিএম

৭ অক্টোবর, সকাল ৬টা। সংবাদমাধ্যমের খবরে উঠে আসে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রসঙ্গ। তবে সবসময় যা শোনা যায়, তেমন নয়। জানা যায়, ইসরায়েল নয়, হামলা চালিয়েছে স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। ২০ মিনিটে পাঁচ হাজার রকেট নিক্ষেপ করে তারা। যোদ্ধারা ঢুকে পড়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে। জিম্মি করে অনেককেই। জবাবে ফিলিস্তিনকে “জনমানবশূন্য দ্বীপে” পরিণত করার ঘোষণা দেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সেখান থেকে শুরু। টানা তিন মাস ধরে ফিলিস্তিনকে “পৃথিবীর জাহান্নামে” পরিণত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। হাজার হাজার হতাহত। যার মধ্যে নারী-শিশুই বেশি। একদিকে ইসরায়েলের সেনারা ফিলিস্তিনে ঢুকে হামলা চালাচ্ছে। আরেকদিকে জল্লাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে অবৈধ বসতি স্থাপন করে বসবাস করা ইসরায়েলিরা।

১৯৬৭ সালে ইসরায়েল ফিলিস্তিনে দখলদারিত্ব শুরু করে। এরপর থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে সাত লাখের বেশি ইসরাইলি অবৈধ বসতি স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে, ৩০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনির বসবাস। 

জাতিসংঘের তথ্য বলছে, ইসরায়েলের হামলার পর থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা করছে বসতি স্থাপনকারীরাও। প্রতিদিন তিন থেকে আটটি করে আবার কোথাও তার চেয়েও বেশি হামলায় নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা।

এসব হামলায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হচ্ছেন। আর “প্রতিবেশীর” এমন হামলার কারণে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন শত শত ফিলিস্তিনি।

জেনে নেওয়া যাক, বসতি স্থাপনকারী কারা ও কোথায় থাকেন তারা?

বসতি স্থাপনকারী কারা?

ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরে তাদের জমিতে অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে বসবাস করা ইসরায়েলি নাগরিকরাই বসতি স্থাপনকারী। তাদের আবাসনগুলো ফিলিস্তিনিদের জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে।

সাত লাখ বসতি স্থাপনকারী থাকেন ফিলিস্তিনে। যা ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার (৭০ লাখ) ১০%। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১৫০টি এবং পূর্ব জেরুজালেমে ১২৮টি এমন অঞ্চল রয়েছে।

ফিলিস্তিনের অনুমোদন না থাকলেও ইসরায়েলি সরকার এসব বাড়ি করার অনুমোদন দেয়। একেকটি অঞ্চলে ইসরায়েলিদের ছোট ছোট দল থেকে ৪০০ জনের দলও বসবাস করে।

কেউ কেউ এখানে আসেন ধর্মীয় কারণে। আবার অনেকেই আসেন সরকারের দেওয়া অর্থের লোভ ও তুলনামূলকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় কম হওয়ার কারণে। এলাকাগুলোতে এক-তৃতীয়াংশের বেশি নাগরিক আল্ট্রাঅর্থোডক্স ইহুদি। 

পিউ রিসার্চ সেন্টারের মতে, পশ্চিম তীরে বসবাসকারী ইসরায়েলি ইহুদিরা এসব বসতির মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে।

তাদের যুক্তি, এই বসতির নাগরিকরা নিরাপত্তা দেয়াল হিসেবে কাজ করেন। ফিলিস্তিনিদের মধ্যে থাকায় তারা তাদের নজরদারিতে রাখতে পারেন। 

যদিও এমন ধারণার সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো। তাদের যুক্তি অনেকটাই ফিলিস্তিন তথা মানবতার পক্ষে। বামপন্থীদের মতে, বসতি সম্প্রসারণ দুই-রাষ্ট্র সমাধানকে চ্যালেঞ্জ করে। ফলে ইসরায়েলের শান্তির সম্ভাবনা বিনষ্ট হয়।

প্রথম বসতি কখন নির্মিত হয়েছিল?

১৯৬৭ সালের জুনে ছয় দিনের যুদ্ধে পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম এবং গাজা উপত্যকা দখল করার পরই বসতি স্থাপন শুরু করে ইসরায়েল।

ওই বছরের সেপ্টেম্বরে পশ্চিম তীরে হেব্রনে নির্মিত প্রথম বসতির নাম দেওয়া হয় ইটিজিয়ন ব্লক। ওই বসতিতে এখন ৪০,০০০ ইসরায়েলি বাস করে।

প্রাচীনতম বসতির মধ্যে একটি কাফার জিওন। যেখানে এক হাজারের মতো নাগরিক বাস করেন। এছাড়া বৃহত্তম মোদি ইন ইলিট বসতিতে প্রায় ৮২,০০০ বসতি স্থাপনকারী রয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই উগ্র অর্থোডক্স ইহুদি।

যুদ্ধ পরবর্তী ইসরায়েলের সরকার এই নীতিতে অটল ছিল। ফলে অধিকৃত অঞ্চলে বসতি স্থাপনকারী জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

দখলকৃত পশ্চিম তীরের প্রায় ৪০% জমি এখন বসতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত। এই বসতিগুলোতে থাকা চেকপয়েন্ট ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলিদের নজরদারির সুযোগ করে দেয়। এমনকি পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনের একটি অংশকে আরেকটির সঙ্গে বড় দূরত্ব তৈরি করে এই বসতিগুলো। একই দেশ হয়েও তারা ভিনদেশিদের মতো থাকতে বাধ্য হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওই অঞ্চলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে এই বসতি।

ফিলিস্তিনে প্রথম ইহুদি বসতি স্থাপন অবশ্য আরও আগে। তখন ইহুদিরা এতো শক্তিশালী ছিল না। বরং আজকে ফিলিস্তিন যেমন ইসরায়েলের হাতে নির্যাতিত, ইহুদিরা তেমন ইউরোপে নির্যাতিত ছিল।

বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ব্যাপক বৈষম্য, ধর্মীয় নিপীড়ন ও নানা সঙ্কটের কারণে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক অঞ্চল ফিলিস্তিনে আসতে শুরু করে ইহুদিরা। সেখানে একটি ইহুদি সংখ্যালঘু গোষ্ঠী ছিল তখন। তবে তারা ছিল আরব।

১৯০৯ সালে আরব শহর জাফার উপকণ্ঠে একটি বসতি নির্মাণ হয়। যেটি এখন ইসরায়েলের বৃহত্তম শহর তেল আবিব।

ফিলিস্তিনে ইহুদিদের ব্যাপক অভিবাসন আরব বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটায়। তবে পরবর্তী সহিংসতায় ইহুদিদের সুসজ্জিত মিলিশিয়ারা ১৯৪৮ সালে ৭ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে জাতিগতভাবে নির্মূল করে। ওই ঘটনাকে ফিলিস্তিনিরা আরবি শব্দ নাকবা (বিপর্যয়) বলে অভিহিত করে।

সরকারের সমর্থনে বসতি স্থাপন

পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদিদের বসবাসের জন্য বসতি নির্মাণে প্রকাশ্যে অর্থায়ন করছে ইসরায়েল সরকার।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারী ইহুদিদের প্রতি বছর প্রায় ২০ মিলিয়ন শেকেল (পাঁচ মিলিয়ন ডলার) দেয়। ওই অর্থ ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি প্রতিবেদন প্রস্তুত, ড্রোন, স্যাটেলাইট পরিচালনা, যানবাহনসহ নানা কাজে ব্যবহার হয়। 

এ বছরের ৪ এপ্রিল, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রীয় বাজেটে সেই অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৪০ মিলিয়ন শেকেল (১০ মিলিয়ন ডলার) করতে বলে।

বসতি স্থাপনকারীদের ফোন কল ও তাদের নিয়মিত তথ্য জানতে গত কয়েক বছর ধরে “ওয়ার রুম সি” নামে একটি হটলাইন পরিচালনা করছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

মূলত সংবিধানের দুটি আইনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জমি দখলের অনুমোদন দেয় ইসরায়েল।

১. পশ্চিম তীরের ভূখণ্ডের ২৬% ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় ভূমি। যেখানে বসতি স্থাপন করা যেতে পারে।

২. জনসাধারণের প্রয়োজনে সড়ক, বসতি ও পার্ক নির্মাণে ফিলিস্তিনি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

১৯৯৩ সালে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) সঙ্গে অসলো চুক্তি সইয়ের পর ইসরায়েলি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন বসতি নির্মাণ বন্ধ করে দেয়। তবে যেসব বসতি ইতোমধ্যেই ছিল, সেগুলোর আকার ঠিকই বড় হতে থাকে। বাড়তে থাকে জনসংখ্যাও।

১৯৯৩ সাল পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে বসতিতে বাস করছেন আড়াই লাখ মানুষ। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সেই সংখ্যা সাত লাখ ছাড়িয়েছে।

আর ২০১৭ সালে ইসরায়েল আবারও নতুন বসতি স্থাপন শুরু করার ঘোষণা দেয়।

১৯৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বসতি সম্প্রসারণকে জোরদার করেছেন। এছাড়াও ভূমি আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করতে কাজ করে ইসরায়েলি এমন বেসরকারি সংস্থা রয়েছে। ইসরায়েলের ইস্যু করা বিল্ডিং পারমিট ও জমির নথির অভাব দেখিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষও নিয়মিতভাবে ফিলিস্তিনি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ধ্বংস করে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, ইসরায়েলি বিল্ডিং পারমিট পাওয়ার প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে এটি পাওয়া প্রায় অসম্ভব।

ইসরায়েলি বসতি কি আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বৈধ?

এক কথায় না। কোনোভাবেই না

চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, “দখল করা এলাকায় দখলকারী শক্তির জনসংখ্যা স্থানান্তর করা নিষিদ্ধ। ফলে সকল বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ।”

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, “বসতিগুলো ইসরায়েলি ছিটমহলের মতো কাজ করছে। এগুলোর কারণে অধিকৃত পশ্চিম তীর খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে পড়েছে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠলেও এই অঞ্চলগুলো ছাড়া সেটি হবে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র। আর যদি এই অঞ্চল থাকেও তবে এটিকে ছোট ছোট দ্বীপের মতো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।”

বসতি স্থাপনকে একাধিক প্রস্তাব ও ভোটের মাধ্যমে নিন্দা করেছে জাতিসংঘ। ২০১৬ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবে বলা হয়, এই বসতির কোনো আইনি বৈধতা নেই।

তবে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর ধরে তাদের রক্ষাকবচের দায়িত্ব পালন করেছে। ইসরায়েলকে কূটনৈতিক নিন্দা থেকে রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে নিজেদের ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করেছে ওয়াশিংটন।

ইসরায়েল বসতি স্থাপনের অনুমোদন দেয় ও উৎসাহিত করে। যদিও নিজেদের আইনে তারা নতুন ফাঁড়ি স্থাপন অবৈধ মনে করে। 

এমনকি ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল শ্যারনের “বিচ্ছিন্নকরণ পরিকল্পনার” অংশ হিসেবে ২০০৫ সালে ৯,০০০ এর বেশি বসতি স্থাপনকারীকে গাজা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

ইসরায়েল কিভাবে পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রণ রাখে?

পশ্চিম তীরের মধ্য দিয়ে ৭০০ কিলোমিটার প্রাচীর তৈরি করেছে ইসরায়েল। তাদের দাবি, এই দেয়াল নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে। অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের তিন মিলিয়ন বাসিন্দাও এই দেয়ালের ভেতরে থাকেন তিন মিলিয়ন ফিলিস্তিনিও।

নিজের জমিতে ঢুকতে ফিলিস্তিনি কৃষকদের ইসরায়েলের অনুমতির জন্য আবেদন করতে হয়। নিয়মিত বিরতিতে এই আবেদন করতে হয়। আবার কর্তৃপক্ষ চাইলে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই অনুমতি না দেওয়া বা অনুমতি প্রত্যাহার করতে পারে।

যেমন বেথলেহেমের নিকটবর্তী ওয়াদি ফুকিনে ফিলিস্তিনি গ্রামের ২৯১ হেক্টর জমির ২৭০ হেক্টরই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে ইসরায়েল। ওই অঞ্চলকে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রিত (সি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০% এলাকা সি এর অধীনে পড়ে।

সীমানা প্রাচীর ছাড়াও ১৪০টি চেকপোস্টসহ পশ্চিম তীরে ৭০০টির বেশি সড়কে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে প্রতিদিন ইসরায়েলি ওয়ার্ক পারমিটসহ ওই সড়কে যাতায়াত করতে হয়।

অধিকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম এবং গাজার মধ্যে ফিলিস্তিনিরা অবাধে চলাফেরা করতে পারে না। এর জন্য অনুমতির প্রয়োজন হয়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং বি সেলেমের মতো মানবাধিকার গোষ্ঠীর মতে, ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর আধিপত্য বাস্তবায়নে ইসরায়েলি নীতি ও আইনগুলোকে আসলে বর্ণবাদ।

যুদ্ধের ডামাডোলে একই অঞ্চলে কেমন আছেন ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিরা?

৭ অক্টোবর থেকে প্রায় তিন শতাধিক হামলা চালিয়ে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনিকে ঘরছাড়া করেছে ইহুদিরা।

ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ঘাসান দাঘলাস জানান, “অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা আগে থেকেই অপরাধ করে আসছে। ৭ অক্টোবরের পরে আরও অপরাধ করার জন্য সবুজ সংকেত পেয়েছে তারা।”

পশ্চিম তীরে ফসল তোলার মৌসুম চলছে এখন। তবে বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণের কারণে অন্তত ৬০% চাষি নিজের ফসলের কাছে যেতে পারেননি।

২৮ অক্টোবর ফসল তুলতে গিয়ে দখলকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরে বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে মারা যান ফিলিস্তিনি এক কৃষক।

বসতি স্থাপনকারীদের হুমকির মুখে ১২ অক্টোবর অধিকৃত পশ্চিম তীরের ওয়াদি আস-সিক নামে বেদুইন গ্রামের ২০০ বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে যান। 

জাতিসংঘের তথ্য বলছে, বর্তমান সহিংসতা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়েছে। 

সাম্প্রতিক বছরে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে বারবার প্রার্থনা করার চেষ্টা করছে ইহুদিরা। যেখানে ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান দখল করতে চায় ইহুদিরা।

ইসরায়েলে হামাসের হামলার তিন দিন আগেও মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে ইসরায়েলিরা। 

২০২১ সালে ইসরায়েলি পুলিশ বসতি স্থাপনকারীদের প্রবেশের সুবিধার্থে মসজিদ প্রাঙ্গণে হামলা চালায়। ওই হামলা পরবর্তীতে মারাত্মক আকার ধারণ করে।

এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পশ্চিম তীরের শহর হুওয়ারাতে চরম ডানপন্থী বসতি স্থাপনকারীরা কয়েক ডজন বাড়ি ও গাড়িতে আগুন দিয়ে চালায়।

ওই সহিংসতার পর ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ “হুওয়ারাকে নিশ্চিহ্ন” করার আহ্বান জানান।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২২ সাল থেকে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার কারণে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১,১০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

About

Popular Links