Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এক টাকায় গিটার, বাঁশি শেখান দিল্লির এই প্রকৌশলী

রাওয়ের মতে, মন ভাল রাখাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ বেশির ভাগ মানুষের কাছেই টাকা থাকে। তবুও তাদের মন ভাল থাকেনা। এই ভাবনা থেকেই তার সুরকে বেছে নেওয়া।

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:৩২ পিএম

প্রতিদিন ভোরে বের হন নিজের গিটার কেস, বাঁশি, নোটবুক। প্রায়ই তাকে খালি পায়ে হাঁটতে দেখা যায় ভারতের দিল্লির অন্ধ্রভবনের দিকে।  কোন সাধু-মহাত্মা নন, কিন্তু তাদের চেয়েও কম নন এই সঙ্গীতের শিক্ষক।

অপেক্ষারত ছাত্রছাত্রীর কাছে এভাবেই রোজ ভোরে বেরিয়ে পড়েন তিনি। ক্লাস নেন ফুটপাথে কিংবা মাঠে বসে। আর গুরুদক্ষিণা হিসেবে শিক্ষার্থীদের থেকে এক টাকাই নেন দিন প্রতি। হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী চেনে গিটার রাও নামে।

প্রতিদিন প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী আসে তার কাছে গিটার শিখতে। পঞ্চান্ন বছরের যশবীর রাও শুধু গিটারই নয়, বাঁশিও শেখান সমান দক্ষতার সাথে। বাজাতে পারেন বেহালা আর কি বোর্ডও।

মুখে চাপ দাড়ি, পাঞ্জাবি বা সুতির জামা। থাকেন ছোট একটা ঝুপড়িতে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের মতোই জীবনযাপন তার। কিন্তু ২০০৯ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন এক বহুজাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মী হিসেবে। পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এই গানওয়ালার মনে ধরলনা কর্পোরেট চাকরির চাকচিক্য। ফলাফল, দ্রুতই অবসাদ তাকে জেঁকে ধরে আষ্টেপৃষ্ঠে।

ছাড়লেন চাকরি। এদিকে কলেজ জীবনে শেখা গানকে আবারও নিজের জীবনে ফিরিয়ে আনতে ক্রমশই ধার-দেনা করতে লাগলেন। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন পরিবারের থেকেও। অবসাদ যেন আরও জেঁকে বসে। রাওয়ের এক ঘনিষ্ঠ জানায়, এক বার তিনি ভারতের তিরুপতি মন্দিরে যান, আর সেখানেই প্রথম গিটার বা বাঁশি শেখানোর ভাবনা আসে তার।

এর পর দিল্লিতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করে তার কাছে আবেদন করেন, ভারতবাসীর মধ্যে যে সঙ্গীত প্রেম রয়েছে, তা আরও বাড়িয়ে তুলতে প্রতিটি স্কুলে ছোট থেকেই যেন পাঠ্যক্রমে সঙ্গীত অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই প্রকল্পের নাম দিলেন, 'সঙ্গীত ভারত ক্যাম্পেন' ।

তার এক ছাত্র বলেন, "মাত্র কয়েক দিনেই ‘গুরুজি’র থেকে অনেক কিছু শিখে ফেলেছি। তিনি বলেন, গুরুদক্ষিণা হিসাবে এক টাকা দিতে"।

ফুটপাথবাসী কি কর্পোরেট কর্মী, জাত ধর্ম নির্বিশেষে মানুষরা আসেন তার কাছে গিটার শিখতে। সবাইকেই শেখান তিনি। কেউ অতিরিক্ত কিছু দিতে চাইলে ক্লাস শেষের পর অন্ধ বা অনাথকে বাদ্যযন্ত্র কিনে দিতে অনুরোধ করেন। শিক্ষার্থীরা ভালবেসে তাকে অনেক সময় খাওয়ায়, কেউ কেউ আবার জামাকাপড়ও দেয়। এ ভাবেই দিব্যি দিন কেটে যায় তার।

তার কাছে সুর শিখতে এসেছেন সামরিক অফিসার ও আমলারাও। সাক্ষাৎকার নিতে এসে কেউ কেউ শিখে গেছেন গিটারের প্রাথমিক পাঠও।

ভারতের দিল্লির অন্ধ্র ভবনে ভোর ৬টা থেকে ৯টা, বিজয় চকে দুপুর ২টা থেকে ৬টা, ইন্ডিয়া গেটে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা- এই হল তার ক্লাসের সময়সূচী। রাওয়ের মতে, মন ভাল রাখাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ বেশির ভাগ মানুষের কাছেই টাকা থাকে। তবুও তাদের মন ভাল থাকেনা। এই ভাবনা থেকেই তার সুরকে বেছে নেওয়া।

এসবের মধ্যেই তেলঙ্গানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সঙ্গীতে স্নাতক স্তরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন রাও। এইবার তার লক্ষ্য সঙ্গীতে ডক্টরেট ডিগ্রি।

About

Popular Links