Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শিপিং কন্টেইনার দিয়ে বাসা-অফিস তৈরি করেন চেন্নাইয়ের ভানমতি

ভানমতি চেন্নাই ও তুতুকুড়ি বন্দর থেকে বাতিল শিপিং কন্টেইনার সংগ্রহ করেন

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:২৪ পিএম

বাতিল জিনিস যত বেশি কাজে লাগানো যায়, পরিবেশের জন্য সেটা ততই ভালো। ভারতের চেন্নাই শহরের এক নারী বাতিল শিপিং কন্টেইনার বাসা, অফিস এবং ক্যাফেতে রূপান্তরিত করে একাধিক সমস্যার সমাধান করছেন।

ভারতের চেন্নাই শহরের ওই নারীর নাম ভানমতি। তিনি প্রথমে ছোট আকারেই পরিত্যক্ত কার্গো উপকরণ বাসা ও অফিসে রূপান্তরের কাজ শুরু করেন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “শুরুর দিকে আমরা গাছের নিচে শুধু মেরামতির কাজ করতাম। আমাদের একটা ওয়েল্ডিং ও কাটিং মেশিন ছিল। শুধু আমি, আমার স্বামী ও একজন ওয়েল্ডার ছিলাম। তারপর কন্টেইনারের অর্ধেক অংশ নিজেদের ব্যবহারের জন্য সাজিয়ে তুললাম। আলো আর পাখা লাগিয়ে আমাদের মাথায় ব্যবসার আইডিয়া এল। এই সব কন্টেইনার দিয়ে থাকার জায়গা তৈরি করার সংকল্প নিলাম।”

ভানমতি চেন্নাই ও তুতুকুড়ি বন্দর থেকে বাতিল শিপিং কন্টেইনার সংগ্রহ করেন। তার দল সব ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করে মরচে প্রতিরোধ করতে এক স্তর “প্রোটেকটিভ কোটিং” বা রং লাগায়। তারপর গ্রাহকের বায়না অনুযায়ী কন্টেইনারগুলো সাজানো হয়।

ভানমতি বলেন, “মানুষ তাদের কন্টেইনার অর্ডার করতে এলে মনে হয় যেন তারা পারিবারিক পিকনিকে যাচ্ছেন। প্রথমদিকে পুরুষরাই সব সিদ্ধান্ত নিতেন। আজকাল মা, মেয়ে, বউ, শাশুড়ি, অর্থাৎ, পরিবারের মেয়েরাই ডিজাইন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তারাই রং, অভ্যন্তরীণ ফিচার, জানালা, টেবিল- সবকিছু বাছাই করেন।”

বাতিল শিপিং কন্টেইনারকে বাসায় রূপান্তরিত করতে প্রায় ২০ দিন সময় লাগে। রান্নাঘর, বাথরুম, জানালা ও বিদ্যুতের লাইনসহ এমন এক বাসার দাম প্রায় তিন লাখ ভারতীয় রুপি।

কংক্রিটের তৈরি বাসভবনের তুলনায় কিছু পরিবেশগত সুবিধাও রয়েছে। পরিবেশ অ্যাক্টিভিস্ট জিও দামিন বলেন, “এক কিলোগ্রাম সিমেন্ট উৎপাদন করতে গেলে এক কিলোগ্রাম কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন ঘটে। ফলে লোহার রড ও সিমেন্ট দিয়ে তৈরি কংক্রিটের বাড়ি বিশাল পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড সৃষ্টি করে। তাছাড়া নির্মাণের ব্যয় প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। ফলে মধ্য ও ক্ষুদ্র আয়ের মানুষের পক্ষে প্রচলিত বাসা কেনার সামর্থ্য কমে যাচ্ছে।”

এসব কন্টেইনার শুধু সাশ্রয়ী বাসায় রূপান্তরিত করা যায় না। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিকদের জন্যও এটি আকর্ষণীয় হতে পারে। ক্যাফের মালিক হিসেবে রমেশ নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “আমি নিজের মতো করে নিজস্ব ক্যাফে চালু করতে চেয়েছিলাম। আমি সেটিকে অনন্য করতে চেয়েছিলাম। তাই আমি এই কন্টেইনার বেছে নিলাম। সুবিধা হলো, এটিকে যেকোনো জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়। গ্রাহকদের কাছেও এটি আকর্ষণীয় এবং চালানোও সহজ। কারণ, এখানে কোনো ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ নেই, আকারে ছোট এবং পকেটের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।”

ভানমতি এখন পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি কন্টেইনার বাসা তৈরি করেছেন। বেশিরভাগ কন্টেইনারে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে, তবে কোনো ইনসুলেশন নেই। তিনি অদূর ভবিষ্যতে হাসপাতাল ও শপিং মল তৈরির কথাও ভাবছেন। কন্টেইনারের সত্যি কোনো অভাব নেই।

About

Popular Links