Monday, June 17, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চাদে নতুন সরকার, প্রেসিডেন্ট প্রয়াত ইদ্রিস ডেবির ছেলে

এরমধ্য দিয়ে আবারও উত্তর-মধ্য আফ্রিকার দেশটিতে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরল ইদ্রিস ডেবির পরিবার

আপডেট : ২৫ মে ২০২৪, ০১:০৬ এএম

চাদের প্রেসিডেন্ট ইদ্রিস ডেবির মৃত্যুর তিন বছর পর দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন ইদ্রিস ডেবির ছেলে মোহাম্মদ ইদ্রিস ডেবি।

এরমধ্য দিয়ে আবারও উত্তর-মধ্য আফ্রিকার দেশটিতে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরল ইদ্রিস ডেবির পরিবার। 

বৃহস্পতিবার রাজধানী এন জামেনায় এক অনুষ্ঠানে নির্বাচনী জনসভায় মোহাম্মদ ইদ্রিস ডেবি বলেছিলেন,  “আমার ভাই ও বোনেরা, আমি বলতে চাই আমি আপনার পছন্দকে সম্মান করি। আপনাদের মতামত আমাদের গণতন্ত্রের প্রাণশক্তিতে অবদান রাখে।”

গত ৬ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের ৬১% পেয়েছে ডেবির দল। যদিও এই ফলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো।

১৯৯০ এর দশকের প্রথম দিকে একটি অভ্যুত্থানের পর থেকে চাদ শাসন করেছিলেন ইদ্রিস ডেবি। ২০২১ সালে বিদ্রোহীরা তাকে হত্যা করে। এরপরই তার ছেলে মোহাম্মদ ইদ্রিস ডেবিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করা হয়।

নতুন সরকারকে ফ্রান্সসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকৃতি দিয়েছিল। এমনকি তাকে ক্রান্তিকালীন নেতা হিসেবেও বর্ণনা করা হচ্ছিল। যারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাবেক উপনিবেশ মালি, বুর্কিনা ফাসো এবং নাইজারের সামরিক শাসনের পক্ষে ভূমিকা রাখছিল। বর্তমানে চাদে ফ্রান্সের এক হাজার সৈন্য রয়েছে।

বৃহস্পতিবারের শপথের মধ্য দিয়ে আফ্রিকার অন্যতম দরিদ্র দেশ তেলসমৃদ্ধ চাদে সামরিক শাসনের সমাপ্তি ঘটেছে। যদিও এটির প্রতিবাদ করেছে বিরোধীরা।

সরকারে যারা

নির্বাচনে ডেবির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মাসরা বুধবার পদত্যাগ করেন। বৃহস্পতিবার নতুন সরকার শপথ নিয়েছে। 

এতে আল্লামায়ে হালিনা নতুন প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন মোহাম্মদ ইদ্রিস ডেবি।

সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের জেরে দমন-পীড়নের পর মাসরা দীর্ঘ দিন নির্বাসনে ছিলেন। তবে এরপর একটি পুনর্মিলন চুক্তির অধীনে দেশে ফিরে এসে বছরের শুরু থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

নির্বাচনে ১৮.৫৪% ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। জালিয়াতির অভিযোগে ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করেও লাভ হয়নি।

ডেবির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন ফ্রান্সের বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রী ফ্রাঙ্ক রিস্টার ও ফ্রাঙ্কোফোনিসহ আট আফ্রিকান রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছরের। তবে তাতে বদলি আনার সুযোগ আছে।

৩০ বছরের বেশি সময় ধরে চাদের রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন ইদ্রিস ডেবি। ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণার এক দিন পর তার মৃত্যুর খবরটি জানানো হয়। ৭৯% ভোট পান তিনি। বেঁচে থাকলে তিনি ষষ্ঠবারের মতো ক্ষমতায় আসতেন। তবে তার বিরুদ্ধে দমন–পীড়নের অভিযোগ তুলে বিরোধীদের বেশির ভাগই নির্বাচন বর্জন করেছিল।

ইকোনমিস্ট বলছে, চাদে বিশাল ফরাসি সেনা ঘাঁটি রয়েছে। সাহেলের বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়তে ৫,১০০ সেনা রয়েছে। সেখানে সাহেলের ইসলামিক স্টেট বা আইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়তে ফ্রান্স যখন মিত্র খুঁজছিল, তখন সাড়া দেয় চাদ। দেশটির শাসক ইদ্রিস ডেবি ১,২০০ সেনা নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসো সীমান্তে পাঠায়।

ইদ্রিস ডেবির ক্ষমতায় আসার আগে চাদের সাবেক স্বৈরশাসক হিসেবে হাবরে নিষ্ঠুরতার জন্য কুখ্যাত হয়ে উঠেছিলেন। তিনি ১৯৮২ সালে পশ্চিমাদের মদদে দেশটির ক্ষমতা দখল করেন। তিনি আট বছর ক্ষমতায় ছিলেন।

কথিত আছে, দেশটির ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন তিনি। বন্দীদের অনেকেই ‘‘লা পিসকিন’’ নামের মাটির নিচের এক কারাগারে মারা গেছেন। মাটির নিচের একটি সুইমিং পুলকে কারাগার বানিয়ে সেখানে নির্যাতন, ধর্ষণ ও পিটিয়ে হত্যা করা হয় বিদ্রোহীদের। তবে যুক্তরাষ্ট্র তার পক্ষে ছিল। রোনাল্ড রিগ্যান হাবরেকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়ে তার ‘‘স্বাধীনতা প্রতিশ্রুতির’’ প্রশংসা করেছিলেন।

হাবরের সরকারকে উৎখাত করেছিলেন ডেবি। তার অধীনে দেশটির গোপন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা নৃশংসতা কম করলেও পুরোপুরি বন্ধ করেননি। ডেবির অনেক বিরোধীকে নির্যাতন করা হয়েছে। কাউকে কাউকে হত্যা করা হয়েছে। অনেক নির্বাচন কৌশলে নিজের পক্ষে এনেছেন তিনি। তবে তিনি ফ্রান্সের কাছ থেকে যে সমর্থন পেয়ে এসেছেন, তা এ ধরনের ঘটনায় কোনো প্রভাব ফেলেনি। বরং তার পক্ষ হয়ে ফ্রান্স বিদ্রোহীদের ওপর ২০১৯ সালে বোমাবর্ষণ করে।

ডেবির মৃত্যুর পর ফ্রান্স সরকার বলেছিল, তারা ‘‘একজন সাহসী বন্ধু’’কে হারিয়েছে। অবৈধ ক্ষমতা হস্তান্তরের নিন্দা করার পরিবর্তে ফ্রান্সের কর্মকর্তারা চাদের স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাদের সমর্থনের কথা বলেছেন। নাইজেরিয়া সরকারও একই ধরনের মনোভাব দেখিয়েছিল। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের তাৎক্ষণিক উদ্দেশ্য হলো চাদের স্থিতিশীলতা এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য গণতন্ত্র অর্জন করা।

এবারের ২০২৪ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে চাদের স্থিতিশীলতা এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য গণতন্ত্র অর্জন করাই মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

About

Popular Links