Monday, June 17, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চার মাসে মিয়ানমারে জান্তার হামলার নিহত ৩৫৯

নভেম্বরে বিদ্রোহী তিন বাহিনীর হামলা শুরুর পর থেকে রাখাইনে সংঘর্ষের মুখে পড়ছে নিরাপত্তা বাহিনী

আপডেট : ২৬ মে ২০২৪, ১০:৫৩ পিএম

মিয়ানমারের জান্তার বিমান হামলায় এ বছরের প্রথম চার মাসে ৬১ শিশুসহ ৩৫৯ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৭৫৬ জন।

নভেম্বরে বিদ্রোহী তিন বাহিনীর হামলা শুরুর পর থেকে রাখাইনে সংঘর্ষের মুখে পড়ছে নিরাপত্তা বাহিনী। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জান্তা বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে আরাকান আর্মির সঙ্গে তাদের যুদ্ধবিরতি ছিল। কিন্তু নভেম্বর থেকে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়।

সামরিক বাহিনী এখনও রাজ্যের রাজধানী সিত্তওয়ের দখলে আছে। তবে এএ যোদ্ধারা ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তে ঘাঁটিসহ আশেপাশের জেলার নানা অঞ্চল দখল করেছে।

১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের অল্প সময়ের মধ্যেই মিয়ানমারের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী। দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে সে সময় থেকেই গড়ে উঠতে থাকে জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।

দশকের পর দশক ধরে সামরিক বাহিনীর জবর-দখলের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে আরকান আর্মিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী। তবে তাদের এই লড়াই নতুন গতি পেয়েছে ২০২২-২৩ সাল থেকে। এরপর থেকে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যাও।

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পরে জান্তার হামলায় মারা যান ৬৩ জন, এরপর যথাক্রমে ২০২২ সালে ২৬০ জন, ২০২৩ সালে ৬১৩ জন মারা যান।

এই বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মায়ানমার জুড়ে লাগাতার গোলাবর্ষণ ও মোট ৮১৯টি বিমান হামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

রাখাইন রাজ্য ১৮৭টি বিমান হামলার মাধ্যমে সর্বোচ্চ আক্রমণের সম্মুখীন হয়েছে, তারপরে সর্বোচ্চ ১১৯টি হামলার শিকার হয়েছে সাগাইং অঞ্চল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমান হামলাগুলো ২০২৪ সালের প্রথম চার মাসে ৫০টি ধর্মীয় ভবন, ৩৮টি স্কুল ও ১১টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র ধ্বংস করে অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সামরিক বিশ্লেষক বলেন, জান্তা স্থল বাহিনী কাচিন, উত্তর শান, রাখাইন, কারেনি (কায়াহ), চিন এবং কারেন রাজ্যের মতো অঞ্চলগুলো হারাতে থাকায় বিমান হামলা বাড়াতে পারে।

বিশ্লেষক আরও বলেছেন, এই বিমান হামলার উদ্দেশ্য বিপ্লবী বাহিনীকে ব্যাহত করা ও বেসামরিক নাগরিকদের মুক্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা থেকে বিরত রাখা।

প্রতিবেদনে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন স্থানে ছয়টি কথিত রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে, জান্তা এ বছরের ২০ এপ্রিলের মধ্যে ২,৪৭১টি বিমান হামলা চালিয়েছে, যার ফলে অন্তত ১,২৯৫ জন নিহত হয়েছে।

About

Popular Links