Monday, June 17, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চাঙ্গা বিরোধীরা, চিন্তায় বিজেপি: ষষ্ঠ দফায় ভোট ৫৯%

বিজেপি নেতাদের ধারণা, ভোট না বাড়লে সামগ্রিকভাবে আসন সংখ্যা বাড়ানোও কঠিন হয়ে দাঁড়াবে

আপডেট : ২৭ মে ২০২৪, ০৯:৪০ পিএম

ভারতে লোকসভা নির্বাচনের বিশেষ উৎসাহিত হতে পারছে না শাসক দল বিজেপি। প্রথমত ভোটের হার কম, আবার জনগণের মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের উৎসাহেরও প্রচণ্ড অভাব।

ফলে বিজেপি নেতাদের ধারণা, ভোট না বাড়লে সামগ্রিকভাবে আসন সংখ্যা বাড়ানোও কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

২০১৯ সালের ভোটে বিজেপি পেয়েছিল ৩০৩ আসন, এনডিএ জোট ৩৫৩। এবার আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং। বিজেপি ৩৭০ (সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদের দরুন), জোট ৪০০-এর বেশি আসন।

শনিবার (২৫ মে) দিল্লিসহ ছয়টি রাজ্য ও দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৫৮ টি নির্বাচনী আসনে ভোট হলো।

স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত এসব আসনে ভোট পড়েছে ৫৯%।

ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের ভোটার টার্নআউট অ্যাপ অনুসারে, সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে ভোট পড়েছে ৫৯.০৬%। ২০১৯ সালের গত নির্বাচনের একই পর্বে সামগ্রিক ভোট ছিল প্রায় ৬৩%।

আটটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে ৫৮টি নির্বাচনী এলাকায় ১১১ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ সাধারণ নির্বাচনের ষষ্ঠ পর্বে ভোটার ছিলেন।

শনিবার রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত যেসব অঞ্চলে ভোট হয়েছে সেগুলো হলো- বিহার (আটটি আসন), হরিয়ানা (সব দশটি আসন), জম্মু ও কাশ্মীর (একটি আসন), ঝাড়খণ্ড (চারটি আসন), দিল্লি (সব সাতটি আসন), ওড়িশা (ছয়টি আসন), উত্তরপ্রদেশ (১৪ আসন) এবং পশ্চিমবঙ্গ (আট আসন)।

৫৪৩ সদস্যের লোকসভা আসনের জন্য সাতটি ধাপে ১ জুন পর্যন্ত ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরইমধ্যে পাঁচটি ধাপের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। চার জুন ভোট গণনা হওয়ার কথা।

সপ্তম ও শেষ রাউন্ডের ভোট হবে ১ জুন, কলকাতাসহ ৫৭টি আসনে।

ষষ্ঠ ধাপের পর ৪৮৬টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।

রাজধানী নয়াদিল্লিতে শনিবার সকালে যারা ভোট দিয়েছেন তাদের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী কংগ্রেস দলের নেতা রাহুল গান্ধী।

তার সঙ্গে ছিলেন তার মা সোনিয়া গান্ধী ও বোন প্রিয়াঙ্কা ভদ্রা।

দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা পি কৃষ্ণমূর্তি রয়টার্সকে বলেছেন, আমরা আশা করি মানুষ তাপপ্রবাহের ভয় কাটিয়ে উঠবে এবং ভোট দেবে।

শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে একটি বার্তায় মোদি জনগণকে বড় সংখ্যায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

কম ভোটে কোন দল লাভবান হবে তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

নয়াদিল্লীর তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি ছিল। আর দুপুর ২টার দিকে ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অনুভূত হয়েছে।

ষষ্ঠ পর্বে প্রধান প্রার্থীরা হলেন- ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (বিজেপি) সম্বলপুর (ওড়িশা), মনোজ তিওয়ারি (বিজেপি) এবং কানহাইয়া কুমার (কংগ্রেস) উত্তর পূর্ব দিল্লি থেকে, মানেকা গান্ধী (বিজেপি) সুলতানপুর (উত্তরপ্রদেশ), অনন্তনাগ-রাজৌরি (জম্মু ও কাশ্মীর) থেকে মেহবুবা মুফতি (পিডিপি), তমলুক (পশ্চিমবঙ্গ) থেকে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (বিজেপি) এবং হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর (কারনাল)।

কয়েক দফার ভোটের গতিপ্রকৃতি বিজেপিকে চিন্তায় ফেলেছে অন্য কারণেও। তাদের প্রচার পুরোপুরি নরেন্দ্র মোদিনির্ভর। সব জায়গায় প্রার্থীরা মোদিকেই চাইছেন। দেশের প্রায় সব বড় বড় গণমাধ্যমে মোদি যেভাবে প্রচার পাচ্ছেন, বিরোধীরা তার ধারেকাছেও নেই। কিন্তু এত করেও ভোটের হাওয়া তোলা যায়নি। 

গতবারের নির্বাচনি প্রচারে মোদি বড় করে তুলে ধরেছিলেন পুলওয়ামা, বালাকোট, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। সেটা যে আলোড়ন তুলেছিল, এবারের প্রচারে রামমন্দির তা পারছে না।

নিরপেক্ষ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, এবার পুলওয়ামার মতো কোনো বিষয় নেই। সরকারের পক্ষে-বিপক্ষে এখনও কোনো হাওয়া দেখা যাচ্ছে না। জনমন প্লাবিত হতে পারে, এমন কোনো ইস্যুও এখনো দৃশ্যমান নয়। নরেন্দ্র মোদির ‘‘দৃঢ় নেতৃত্ব’’ ছাড়া সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বিজেপি ও এনডিএ নতুন কিছু তুলে ধরতে পারেনি। সেই কারণে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহের অভাব দেখা গেছে। ভোটের পর বিজেপি কিছুটা হলেও তাই চিন্তিত।

About

Popular Links