Saturday, June 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গাজার ৩২% অঞ্চল দখল করেছে ইসরায়েল

এমনকি মানুষ বাড়ি ফিরতে পারলেও, অনেকের কাছে আর যাওয়ার বাড়ি নেই

আপডেট : ৩১ মে ২০২৪, ১০:২৯ পিএম

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার মোট আয়তনের প্রায় ৩২% অঞ্চল ইসরায়েল। গাজার চারপাশ ঘিরে বাফার জোন তৈরির নামে দখল করায় সেখানকার আয়তন কমে আসছে।

বুধবার (২৯ মে) গাজার আয়তন নিয়ে আল জাজিরার ফ্যাক্ট চেকিং ইউনিট এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

ফিলিস্তিনে যুদ্ধ চালানোর জন্য গাজার সীমান্তে বাফার জোন তৈরি করেছে ইসরাইল সেনাবাহিনী। দখল করা অঞ্চল হিসেবে ধরে নেওয়া এলাকায় মিশরের সীমান্তে ফিলাডেলফি করিডোরের এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যেটি বৃহস্পতিবার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।

বিমান হামলা, কামান হামলা ও বুলডোজারের মাধ্যমে গাজার এলাকার সম্পূর্ণ ধ্বংস করার পর এখন ধীরে ধীরে দখলের এলাকা বৃদ্ধি করছে ইসরায়েল।

মানবিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি-জেনারেল এবং জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী মার্টিন গ্রিফিথস বলেছেন, ‘‘গাজায় কোনো নিরাপদ স্থান নেই। সেখানে মর্যাদাপূর্ণ মানব জীবন নেই।’’

তিনি বলেন, ‘‘এমনকি মানুষ বাড়ি ফিরতে পারলেও, অনেকের কাছে আর যাওয়ার বাড়ি নেই।’’

জাতিসংঘের মতে গাজার জনসংখ্যার প্রায় ৮৫% বা ১.৯ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের মধ্যে অর্ধেক শুধু এ মাসেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

১৯৪৮ সালে নাকবার সময় ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের পথ তৈরি করার জন্য ইহুদিবাদী গ্যাং প্রায় সাত লাখ ফিলিস্তিনিকে তাদের বাড়িঘর এবং গ্রাম থেকে বিতাড়িত করেছিল।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ৩৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে, যা ১৯৪৭-১৯৪৯ সালে নিহতের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আরও অনেকে মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্যাটেলাইট ইমেজের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইসরায়েলের ১২০ বর্গ কিমি (৪৬ বর্গ মাইল) ৮০-৯০ শতাংশ অঞ্চল ধ্বংস করে দিয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলের আক্রমণ এখনও শেষ না হওয়ায়, দখলের অঞ্চল আরও বাড়তে পারে।

সানাদ নির্মিত একটি মানচিত্র দেখায়, গাজার সীমানা ভিতরের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। একটি ১.৫ কিমি-প্রশস্ত (০.৯৩ মাইল) স্ট্রিপ করা হয়েছে। যার মাঝখানে ৬.৫ কিমি (চার মাইল) চলে গেছে, এটি নেজারিম অক্ষ নামে পরিচিত।

এই সীমান্ত এলাকা ও মধ্য গাজা জুড়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী পরিচালিত ধ্বংসযজ্ঞ এবং বুলডোজিংয়ের গভীরতাও  তুলে ধরেছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, অবরুদ্ধ এলাকা সম্পূর্ণভাবে বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

সানাদ দেখেছে, উত্তরের গভর্নরেটে বেইট হানুন শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের কারণে গাজার সীমানা ২.৫ কিলোমিটার সরে এসেছে।

২৩ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন একটি বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘‘মার্কিনিরা গাজার আঞ্চলিক গঠনে যে কোনো স্থায়ী পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছে এবং এর জনসংখ্যার স্থায়ী বাস্তুচ্যুতি প্রত্যাখ্যান করেছে।’’

তবে মার্কিন হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই ব্যাপক বুলডোজিং ও অপসারণ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দোহা ইনস্টিটিউট অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের সহকারী অধ্যাপক তামের কারমোত বলেন, ‘‘ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ মিসরের জন্য ‘রেড লাইন বা চূড়ান্ত সীমা’। এটি ক্যাম্প ডেভিড চুক্তিকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তা নিয়ে দেশটি উদ্বিগ্ন।’’

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দেওয়া অনেক ‘‘চূড়ান্ত সীমাই’’ ইসরায়েল লঙ্ঘন করেছে উল্লেখ করে তামের বলেন, ‘‘ফিলাডেলফি করিডর দখলের সর্বশেষ ঘটনা গাজায় চলমান সংঘাতের ‘নতুন পর্যায়ের ইঙ্গিত’ দিচ্ছে। সম্ভবত গাজায় দীর্ঘ মেয়াদে ইসরায়েলি সেনা উপস্থিতি এবং গাজা উপত্যকা আবারও দখল হতে যাচ্ছে।’’

বৃহস্পতিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও ৫৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩৫৭ জন। এ নিয়ে গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় ৩৬ হাজার ২২৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮১ হাজার ৭৭৭ জন। নিহত ফিলিস্তিনিদের বেশির ভাগই শিশু ও নারী।

তবে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুধু হাসপাতালে পৌঁছানো হতাহতদের ভিত্তিতে তথ্য দিচ্ছে। কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় বিধ্বস্ত ভবন ও স্থাপনার ধ্বংসস্তূপে ১০ হাজারের বেশি মরদেহ পড়ে আছে বলে মনে করা হচ্ছে।

About

Popular Links