Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘ভাল করে বাঁচতে’ মধ্যবিত্তের জীবন ছেড়ে ফুটপাতে

তার মতে,  “সুখী হতে চাইলে গর্ব আর সম্মানের বোঝা ঝেড়ে ফেলে বন্যপ্রাণীর মতো জীবনযাপন করুন।”

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ০৮:২৩ পিএম

একটু ভাল করে বাঁচতে অনেকেই নাড়ির বাঁধন ছিড়ে পাড়ি জমান শহরে। কেউবা দূরদেশে। সেখানে হয়ত সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা দু' ধরনের গল্পই শোনা যায়। আবার বিভিন্ন কারণে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু হারিয়ে অনেকের আশ্রয় হয় ফুটপাতে। তবে স্বেচ্ছায় বাড়িঘর ছেড়ে ফুটপাতে দিনযাপনের উদাহরণ বোধহয় নজিরবিহীন। 

কিন্তু এমনটাই করে দেখিয়েছেন হংকংয়ের সিমন লি (৫২)। গত সাত বছর ধরে স্বেচ্ছায় বাড়িঘর ত্যাগ করে ফুটপাতে থাকছেন তিনি। ফুরফুরে ও নিশ্চিন্তভাবে জীবনযাপনের জন্য সহায়-সম্পদ, পরিবার আর সঙ্গিনীকে ত্যাগ করে, ভাল রোজগারের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন লি।

দেখে অবশ্য বোঝার উপায় নেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্যামিস্ট্রিতে গ্র্যাজুয়েশন নিয়েছিলেন তিনি। তারপর ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ভাল বেতনে চাকরিও করতেন তিনি। কিন্তু ছকে বাঁধা জীবন ভাল লাগলো না লি'র। চলে গেলেন 'এশিয়ার লাসভেগাস' খ্যাত ম্যাকাউয়ে। ২০০৪ সাল পর্যন্ত সেখানে বাচ্চাদের পড়াতেন। পরে চলে গেলেন চীনের ঝুহাই শহরে। দু'বছর সেখানে থেকে আবার ম্যাকাউয়ে ফিরে এলেন তিনি। ঝুহাইয়ের ক্যাসিনোর জুয়াড়িরা আবার বেশ 'দয়ালু'। বাজিতে জিতলে টাকার কিছু অংশ তারা শহরের ফুটপাতে থাকা মানুষদের মাঝে বিলিয়ে দেন তারা। তাই এই শহরেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন লি।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, লি'র এমন স্বেচ্ছা ভবঘুরে জীবনযাপনেও বাধ সাধে কর্তৃপক্ষ। ২০১০ সালে তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় হংকংয়ে। কিন্তু নিজেকে পাল্টানোর সামান্যতম ইচ্ছে ছিল না লি'র। শহরের ধণাঢ্য এলাকার একটি ম্যাকডোনাল্ড থেকে খাবার আর পার্শ্ববর্তী একটি শিখ মন্দির থেকে টুকটাক সহায়তা নিয়েই চালিয়ে নিচ্ছেন তিনি।

এটা জীবনধারণের কোনও আদর্শ পদ্ধতি না হলেও পুরো দুনিয়ার বিনিময়েও নিজেকে পরিবর্তন করতে নারাজ লি, “আমার কাছে এটা আত্মমুক্তি। আমাকে বিল দিতে হয়না, বাড়ি কিনতে হয়না, আমি যেখানে-সেখানে ঘুমাতে পারি”, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে বলেন তিনি।

সিমন লি'র পোশাকগুলো হংকংয়ের সমাজসেবীদের দান করা অথবা রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া। সরকার থেকেও কোনও ধরনের সহায়তা নেন না তিনি। রাস্তা কিংবা পার্কে ঘুমালেও পুরো হংকংয়েই ঘুরে বেড়ান তিনি। বলেন, লোকের ফেলে দেওয়া জিনিসের মধ্যে কোনও না কোনও কার্যকরিতা খুঁজে পাই আমি।

আরও মজার বিষয় হলো, ব্লগিং করতে ভালোবাসেন লি। প্রতিদিন হংকংয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির ইন্টারনেট ব্যবহার করে ব্লগিং করেন তিনি। অনলাইনে রয়েছে তার ছয় হাজারেরও বেশি ফলোয়ার।

তার মতে,  “সুখী হতে চাইলে গর্ব আর সম্মানের বোঝা ঝেড়ে ফেলে বন্যপ্রাণীর মতো জীবনযাপন করুন।”

বছর তিনেক ম্যাকাউয়ের এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার। পরে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। মা-বাবা আর তিন ভাইয়ের সঙ্গে চিন্তা-ভাবনার বনিবনা না হওয়ায় পরিবার থেকেও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন লি।

ঘরবাড়ি আর স্বজন বলতে কেউ না থাকায় 'কাল কী হবে' সে চিন্তা তাড়িয়ে বেড়ায় না তাকে। নিজেকে ভাগ্যের হাতে সঁপে দিয়ে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকেই উপভোগ করেন তিনি।

About

Popular Links