Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাংলাদেশে পালিত হলো ‘বৈশ্বিক অভিগম্যতা সচেতনতা দিবস’

সারাবিশ্বে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা ১০০ কোটিরও বেশি, বাংলাদেশে এই সংখ্যা ১ কোটি ৬০ লাখ

আপডেট : ১৮ মে ২০২৩, ০৯:৩৭ পিএম

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল অভিগম্যতার ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে ২০১২ সাল থেকে প্রতি বছর মে মাসের তৃতীয় বৃহস্পতিবার বৈশ্বিক অভিগম্যতা সচেতনতা দিবস বা গ্লোবাল অ্যাক্সেসিবিলিটি অ্যাওয়ারনেস ডে (জিএএডি) পালিত হয়। 

“প্রযুক্তি হবে সকলের জন্য প্রবেশগম্য” প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশেও পালিত হয়েছে বৈশ্বিক অভিগম্যতা সচেতনতা দিবস। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৮ মে) ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত আইসিটি টাওয়ারে এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) এবং ফ্রেন্ডশিপের (সোশ্যাল পারপাস অর্গানাইজেশন) যৌথ আয়োজনে সচেতনতামূলক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জানানো হয়, সারাবিশ্বে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা ১০০ কোটিরও বেশি, যার মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ বাংলাদেশে বসবাস করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন। এছাড়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফ্রেন্ডশিপের ডেপুটি ডিরেক্টর আহমেদ তৌফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর।

২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সেবা প্রদানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এর সচিব জনাব মো. সামসুল আরেফিন মহোদয় বলেন, “ইতোমধ্যে একটি এক্সেসিবিলিটি গাইডলাইনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন তখনই সম্ভবপর হবে, যখন নাগরিকের জন্য নাগরিকবান্ধব অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সরকারি সেবা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাবে। এ লক্ষ্যে এ বছরের মধ্যেই ওই বিভাগের সব ওয়েবসাইট এবং ডিজিটাল সেবা প্রবেশগম্য করার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।”

ফ্রেন্ডশিপের ডেপুটি ডিরেক্টর আহমেদ তৌফিকুর রহমান বলেন, “ফ্রেন্ডশিপ প্রত্যন্ত চরে, দক্ষিণাঞ্চলের উপকূল এলাকায় এবং কক্সবাজারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কাজ করে থাকে। এখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবা বাস্তবায়নে এটুআই ও ফ্রেন্ডশিপ একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।”

সভাপতির বক্তব্যে এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, “প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনবান্ধব ডিজিটাল সেবা তৈরিতে বাংলাদেশ বিশ্বের সঙ্গে একযোগে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের স্লোগানই হলো সবার জন্য অভিগম্য ডিজিটাল সেবা। এটুআই থেকে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গসহ সব স্তরের জনগণের জন্য বিদ্যমান ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল সেবা অভিগম্যের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

এটুআইয়ের ইনক্লুসিভ ডিজিটাল বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্ভাবনী কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প পরিচালক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর। সেই সঙ্গে তিনি ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ ও ডিজিটাল সেবায় অভিগম্যতা নিশ্চিতের অনুরোধ জানান।

অভিগম্যতা সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে এটুআইয়ের ন্যাশনাল কনসালটেন্ট (এক্সেসিবিলিটি) ভাস্কর ভট্টাচার্য বাংলাদেশের কয়েকটি অভিগম্যতা সম্পন্ন ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল সেবা প্রদর্শন করেন। সহায়ক প্রযুক্তির সাহায্যে একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কীভাবে ডিজিটাল সেবা এবং ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারেন, সে সম্পর্কে তিনি ব্যবহারিক ধারণা উপস্থাপন করেন।

উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ও ইউএনডিপির সহায়তায় পরিচালিত এসপায়ার টু ইনোভেট- এটুআই ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিমূলক স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিভিন্ন উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ দিবসটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল (ওয়েব, সফটওয়্যার, মোবাইল ইত্যাদি) অভিগম্যতা, বিভিন্ন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সহায়ক ডিজিটাল প্রযুক্তি সম্পর্কে সবাইকে অবহিতকরণ এবং চিন্তার দ্বার উন্মোচনকরণ নিয়ে কাজ করে।

সভায় জানানো হয়, স্থানীয় পর্যায়ে এ দিবস উদযাপনের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা প্রতিবন্ধীবান্ধব ওয়েব, মোবাইল অ্যাপ এবং ডিজিটাল সেবাসমূহ সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন। এছাড়া, সেবা প্রদানকারী সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব ডিজিটাল সেবা প্রবেশগম্য করার বিষয়ে সচেতনতা এবং উৎসাহ পাবেন বলে আশা করা যায়।

এটুআইয়ের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ইনোভেশন জনাব মানিক মাহমুদের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে এটুআই এবং ফ্রেন্ডশিপসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা ওয়েব বা ই-সেবার অভিগম্যতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাদের মূল্যবান মতামতের মাধ্যমে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদানকারী নির্বাচিত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

About

Popular Links