Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গুলিবিদ্ধ রাবি শিক্ষার্থীর পাশে ‘সুহানা অ্যান্ড আনিস আহমেদ ফাউন্ডেশন’

১১ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের সংঘর্ষ চলাকালে আঘাত পান আল আমিন। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা নিতে ভারতে যেতে পারছিলেন না

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৩, ১০:২৩ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের সংঘর্ষ চলাকালে আঘাত পান আল আমিন। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা নিতে ভারতে যেতে পারছিলেন না। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, তার বিভাগ ও বন্ধুদের সহায়তায় গত ২৫ মে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসা নিতে যান। তবে সেখানে যাওয়া ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেই অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। ফলে অপারেশন করাতে পারছিলেন না। তখন আল আমিনের পাশে দাঁড়ায় “সুহানা অ্যান্ড আনিস আহমেদ ফাউন্ডেশন”।

শুক্রবার (২৩ জুন) বিকেলে বিষয়টি ঢাকা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন আল আমিন নিজেই। আল আমিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি সাতক্ষীরা সদর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাসিন্দা।

এর আগে, “বসত ভিটা বিক্রি করে হলেও ছেলের চোখের চিকিৎসা করাতে চান বাবা” শিরোনামে একটি সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি “সুহানা অ্যান্ড আনিস ফাউন্ডেশন” কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। প্রতিবেদনটি দেখে আল আমিনের চোখের অস্ত্রোপচার করার যাবতীয় খরচ দেয় ওই ফাউন্ডেশন।

আল আমিন বলেন, “অর্থাভাবে অপারেশন করতে পারবো না ভেবে আমি ইন্ডিয়া থেকে দেশে ফিরছিলাম। ফেরার পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করতেই আমার ফোনে একটি কল আসে। আশা পাল নামের এক আপু আমাকে ‘সুহানা অ্যান্ড আনিস ফাউন্ডেশনের পরিচয় দিয়ে আমার যাবতীয় ডকুমেন্টস চান এবং আমার অপারেশনের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করতে চান। আমি তাদের কথা অনুযায়ী সকল ডকুমেন্টস সাবমিট করলে আমার অস্ত্রোপচার বাবদ এক লাখ ৮৬ হাজার ৭০৮ টাকা পরিশোধ করেছেন তারা।”

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে আল আমিন বলেন, “আগামী সপ্তাহে আমার অপারেশন করানো হবে। চিকিৎসক আশাবাদী অপারেশনের পর আমার অবস্থার উন্নতি হবে। আমি কীভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবো ভেবে পাচ্ছি না। আমার ভীষণ খারাপ মুহূর্তে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে সুহানা অ্যান্ড আনিস আহমেদ ফাউন্ডেশন। ওনাদের প্রতি আমার সব সময় ভালোবাসা থাকবে। তাদের এই ঋণ আমি কখনওই শোধ করতে পারবো না।”

এ বিষয়ে ফাউন্ডেশন কো ফাউন্ডার ও কো চেয়ারম্যান আনিস আহমেদ বলেন, “আমরা আমাদের ফাউন্ডেশন থেকে এই ধরনের সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করি। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা তার চিকিৎসাবাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ দেই। আমরা আল আমিনের ফলোআপ রাখছি। তার যাতায়াতসহ চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার আমাদের ফাউন্ডেশন বহন করবে।”

গত ১১ মার্চ সন্ধ্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাসচালকের সংঘর্ষ বাধে। পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। হামলা ও সংঘর্ষে আহত হন দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনজনকে ভিট্রিয়ল রেটিনাল ইনজুরির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় ঢাকায় পাঠানো হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ভারতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। ইতোমধ্যে ভারতের চেন্নাইয়ে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন দুই শিক্ষার্থী।

তবে চিকিৎসার পরও চোখে দেখতে পারছেন না মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আলিমুল ইসলাম। ঝাপসা দেখছেন ফারসি বিভাগের শিক্ষার্থী মিসবাহুল ইসলাম। আরেক শিক্ষার্থী আল আমিন অর্থাভাবে চিকিৎসা নিতে ভারতের চেন্নাইয়ে যেতে পারছিলেন না। পরে তার বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বন্ধুদের সহায়তায় এক লাখ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে গত ২৫ মে ভারতে চিকিৎসা নিতে যান। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা না থাকায় চিকিৎসা ছাড়াই বাড়িতে ফিরে আসেন আল আমিন ও তার বাবা।

২০১৭ সাল থেকে স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করে যাচ্ছে “সুহানা অ্যান্ড আনিস আহমেদ ফাউন্ডেশন”। এর মধ্যে রয়েছে- বিএসএমএমইউ হেমাটোলজি ও অঙ্কোলজি বিভাগে ক্যান্সার রোগীদের সেবায় নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ দেওয়া, ঢাকা মেডিকেল কলেজ বার্ন ইউনিটে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও আর্থিক অনুদান, ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও শরিয়তপুর সদর হাসপাতালে ইনকিউবেটর দেওয়া, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গরীব ও দুঃস্থ রোগীদের সেবায় জরুরী ঔষধ দেওয়া, আইসিডিডিআরবিকে অত্যাধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রাংশ দেওয়া ইত্যাদি।

এছাড়াও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন, প্রবীণ নিবাস, অটিজম ফাউন্ডেশন ইত্যাদিতে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আল আমিন ঈদের ছুটির পর চেন্নাই রওনা হবে তার চোখের অপারেশনের জন্য।

About

Popular Links