• বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৬, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:০৭ দুপুর

শুদ্ধ নির্বাচন কমিশন ও হালাল নির্বাচনের খোঁজে

  • প্রকাশিত ০৫:০৭ সন্ধ্যা মে ২২, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:১০ সন্ধ্যা মে ২২, ২০১৮
bangladesh-election-commission-1526987435944.jpg

বাংলাদেশের মানুষের মতো এত নির্বাচনপাগল বিশ্বে খুব কম দেশেই আছে। পাড়ার স্কুল পরিচালনা বোর্ডের নির্বাচন হোক বা জাতীয় নির্বাচন সব কিছুতেই এই মানুষগুলোর প্রচণ্ড আগ্রহ। এই দেশে নির্বাচন অর্থ উৎসব। জাতীয় নির্বাচন মানে টাকা পয়সার খেলা আর প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনের সময় দেশের পুরো আবহাওয়াটাই বদলে যায়। সম্প্রতি মালেশিয়ার সাধারণ নির্বাচন হয়ে গেলো। নির্বাচনের দু’দিন আগে পেশাগত কাজে মালয়েশিয়ায় যেতে হয়েছিল। পুরো শহর ঘুরে বোঝা গেলো না আর মাত্র দু’দিন পর এখানে জাতীয় নির্বাচন হবে। শহরে কয়েকটি পোস্টার দেখা গেলো তাও দড়ি দিয়ে ঝুলানো। নির্বাচনে ৯২ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডা. মাহাথির মোহাম্মদ জয়ী হয়েছেন। তিনি এর আগে ১৯৮১ সাল হতে ২০০৩ পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার পর অবসরে যান। অবসরে যাওয়ার পূর্বে তার উপ-প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে সমকামিতার অভিযোগে কারাগারে পাঠান। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের আগে মাহাথির ঘোষণা করেন নির্বাচনে জিতলে তিনি দু’বছর দেশ শাসন করবেন, তারপর প্রধানমন্ত্রী হবেন আনোয়ার ইব্রাহিম। রাজাকে বলে ইব্রাহিমকে কারামুক্ত করা হয়েছে। দেশটির রাজনীতিই আলাদা। এই নির্বাচনের পর আমাদের দেশের অনেক বিশ্লেষক আওয়ামী লীগকে মালয়েশিয়া হতে শিক্ষা নিতে বলেছেন। তারা হয়তো জানেন না দেশটিতে অনেকটি এক দলীয় শাসন চলেছে মাহাথিরের পূর্বের শাসনামলে, এখনও ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা তেমন একটা নেই। সরকারের সমালোচনা সেখানে অলিখিতভাবে নিষিদ্ধ। সেই অন্য প্রসঙ্গ।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নির্বাচন দেখার সুযোগ হয়েছে। বাংলাদেশের মতো তেমন হুজ্জত নেই। বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনও নির্বাচন দলীয় ব্যানারে হতো না বা দলীয় প্রতীকও ব্যবহার করা যেতো না। শেখ হাসিনা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে বর্তমানে দলীয়ভাবে নির্বাচন করার সুযোগ করে দিয়েছেন। নির্বাচনে দলীয় প্রতীকও ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে স্থানীয় হোক আর সংসদ নির্বাচন হোক, এই মুহূর্তে তা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র মধ্যে সীমাবদ্ধ। কোনও কোনও এলাকায় জাতীয় পার্টিও জয় লাভের ক্ষমতা রাখে। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টি নির্বাচন করলে বাড়তি কিছু আসনে জয়লাভ করে। জামায়াত বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দল নয়। তাদের ভরসা বিএনপি। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত করার নামে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান একাত্তরের ঘাতক দল জামায়াতকে রাজনীতি করার লাইসেন্স দিয়েছিলেন। উপমহাদেশে বামদলগুলো এখন অস্তমিত। তাদের বাগাড়ম্বর এখন টিভির পর্দায় সীমাবদ্ধ। এরশাদের পতনের পর জনগণের ভোটে বিএনপি প্রথম সরকার গঠন করে ১৯৯১ সালে। এর আগেও একবার জিয়ার আমলে ১৯৭৯ সালে সংসদ নির্বাচনের নামে একটি তামাশা হয়েছিল। সেই নির্বাচনে বিএনপিকে ২০৭টি আসনে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল আর মালেক উকিলের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৩৯টি আসন। সেবারই প্রথম মিডিয়া ক্যু শব্দটি চালু হয়েছিল। কোনও কোনও নির্বাচনি এলাকায় নির্বাচন শেষ হওয়ার একঘণ্টার মধ্যে একলাখ ভোট গণনা শেষ হয়েছিল। এরপর টিভি রেডিওতে চব্বিশ ঘণ্টার জন্য ভোট গণনা বন্ধ করা হয়েছিল। এরও আগে নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছিল যখন জিয়া ১৯৭৭ সালে ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোটের মাধ্যমে নিজের জন্য প্রায় শতভাগ ভোটের ব্যবস্থা করেছিলেন। এটি ছিল তার কথায় রেফারেন্ডাম। এখানে অন্য কোনও প্রার্থীও ছিল না। জিয়া পরবর্তীকালে সেনা বাহিনীর প্রধান থাকা অবস্থায় ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সর্বদলীয় প্রার্থী জেনারেল ওসমানিকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। বিএনপি কথায় কথায় আওয়ামী লীগ নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে বলে চিৎকার করে এবং কোনও নির্বাচনে পরাজিত হলে প্রথমেই বলে এই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। সুতরাং নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠিত করতে হবে, পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হবে। বিজয় লাভ করলে বলে নির্বাচন কমিশন যদি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতো, তা হলে তারা আরও বেশি ভোটে বিজয় লাভ করতো। তাদের এই সংস্কৃতিটা শুরু হয়েছে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর যখন আবু হেনা প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন। আবু হেনা একজন পেশাদার আমলা ছিলেন, তবে তিনি ১৯৯৬ সালে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন জাতিকে উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু মুশকিল হলো—সেই নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করতে পারেনি। সুতরাং আবু হেনাকে পদত্যাগ করতে হবে। এই নিয়ে তারা দীর্ঘদিন দেশে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রাখে এবং আওয়ামী লীগের এই দফার শাসনামলের প্রায় অর্ধেক সময় তারা দেশকে অচল করে রাখে।

সদ্য সমাপ্ত খুলনার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে ৬৭ হাজার ৯৪৬ ভোটে পরাজিত করেন। এর আগেরবার মঞ্জু, তালুকদার আবদুল খালেককে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই নির্বাচনে মোট কেন্দ্র ছিল ২৮৯টি। তিনটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণে অনিয়ম হলে নির্বাচন কমিশন তা বন্ধ করে দেয়। এই নির্বাচনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—কোনও একটি নির্বাচন কেন্দ্রেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। ঠিক একইসময় অনুষ্ঠিত পশ্চিম বঙ্গের স্থানীয় সরকার (পঞ্চায়েত) নির্বাচনে সহিংসতায় ১৩ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৬২ দশমিক ১৯ ভাগ ভোটার ভোট দিয়েছেন। নির্বাচন শেষে যথারীতি বিএনপি প্রার্থী ও তার দল নির্বাচনে ব্যাপক ‘কারচুপি’র অভিযোগ তুলে এই নির্বাচন বাতিলের দাবি করেছে। মির্জা ফখরুলরা নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠনের দাবিও জানিয়েছেন। আগাম ঘোষণা দিয়েছেন এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে আগামীতে কোনও নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। শুক্রবার দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ এক সভায় বলেছেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কিনা, তা তারা ভেবে দেখবেন। অনেকের মতে, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কিভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়, তার পূর্ব প্রস্তুতির এটি একটি অংশবিশেষ।

বাংলাদেশে কোনও নির্বাচন আসলে সেই নির্বাচন এবং দেশের গণতন্ত্র নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হতে শুরু করে অনেক সুশীল ব্যক্তি ও কিছু মিডিয়া মাতম করতে শুরু করেন। আর এই মাতমটা বেশি হয় যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকে তখন। বাংলাদেশে একশরও বেশি দেশের রাষ্ট্রদূত আছেন। এই দেশের কোনও কিছু নিয়ে তাদের কখনও তেমন কিছু একটা বলতে কোনও সময় শোনা যায় না এবং এটি তাদের কোনও কাজও নয়। ব্যতিক্রম শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অথচ ভারতে তারা সেই দেশের কোনও বিষয় নিয়ে কখনও টু শব্দ করে না। বেশ কিছুদিন ধরে তারা বলে আসছে, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন তারা অংশগ্রহণমূলক চায়। এর মানে হচ্ছে তারা চায় আওয়ামী লীগ যেকোনও ছাড় দিয়ে বিএনপিকে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিক। একটি দেশের নির্বাচনে কোনও দল নির্বাচনে আসবে কিনা, সেটি সেই দলের একান্ত নিজস্ব সিদ্ধান্ত। আর যদি তারা প্রত্যাশা করে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করে তার ও তার গুণধর পূত্রের সব মামলা প্রত্যাহার করে, তাদের পরামর্শে নির্বাচন কমিশন গঠন করে তাদের সরকার নির্বাচনে নিয়ে আসুক, সেটা তো হবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের সামিল। তাদের জন্য আরও ভালো হয় যদি আসন্ন নির্বাচনে যেকোনোভাবে বিএনপিকে বিজয়ী ঘোষণা করলে। এতে তারা কোনও দ্বিমত করবে না বলে মনে হয়।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট একই পুনরাবৃত্তি করছেন এবং তার ভাষায় খুলনায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়মের সংবাদে তিনি হতাশ হয়েছেন। তিনি ভুলে যান, তার দেশের বিদেশনীতির ফলে সারা বিশ্বে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যেভাবে ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া, আফগানিস্তান, ইয়েমেন ধ্বংস করে দিয়েছে এবং তাদের হঠকারি কর্মকাণ্ড ও জেরুজালেমে একতরফাভাবে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর করে সেখানে ইসরায়েলকে গণহত্যা চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে, তাতে সারা বিশ্বের মানুষ শুধু হতাশই নয়, ক্ষুব্ধও। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদ, ইসলাম ও অভিবাসীবিরোধী শক্তি যেভাবে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে, যেভাবে ক’দিন পর পর বাচ্চাদের স্কুলে ঢুকে বন্দুকধারীরা নির্বিচারে হত্যা করছে, তাতে শুধু বিশ্ববাসী নয়, তার দেশের সংবেদনশীল মানুষও ক্ষুব্ধ ও বিচলিত। বার্নিকাটের ‘হতাশা’র জবাবে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা বলেছেন, ‘খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন মার্কিন নির্বাচনের চেয়ে ভালো হয়েছে’। তার বক্তব্য যথার্থ ও সময়পোযোগী। বাংলাদেশের এক শ্রেণির মানুষের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন হতে শুরু করে সব কিছুই বুঝি নিখুঁত। এমন ধারণা একেবারেই ভ্রান্ত। জুনিয়ার বুশ প্রথমবার তো নির্বাচনে হারার পরও আদালতের হুকুমে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। হয়েই তিনি মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংস করার কাজটি শুরু করেছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন, তাতে রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে এখনও সে দেশে তোলপাড় চলছে। দেশটির বর্ণবাদের আঁচ পাওয়া যায় তাদের কোনও একটি বিমানবন্দরে অবতরণের পর। নাম যদি হয় ‘মোহাম্মদ’ বা ‘আবদুল’ তা হলে তার জন্য কী ধরনের হয়রানি অপেক্ষা করছে, তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। হতে পারেন তিনি ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল কালাম অথবা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। কোনও একজন বন্দুকধারী স্কুলে ঢুকে নিরীহ বাচ্চাদের হত্যা করলে ধর্মবিশ্বাসে সে যদি মুসলমান হয়, তা হলে সে নির্ঘাত একজন জঙ্গি অথবা আইএস সদস্য। গায়ের রঙ সাদা হলে ঘাতক মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। দেশের এখন অর্ধেক মানুষ (সাদা) মানসিকভাবে অসুস্থ আর মুসলমানরা সবাই জঙ্গি। কালো বা হিসপানিকরা জন্ম থেকেই দুর্বৃত্ত। যুক্তরাষ্ট্র পুলিশের মতো এত নিষ্ঠুর আচরণ, বিশেষ করে কালোদের সঙ্গে অন্য কোনও দেশের পুলিশকে করতে দেখা যায় না। অবশ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো মাঝে মধ্যে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কথা বলে। তবে তাদের কথাবার্তায় শালীনতা আছে। এই তো গেলো আমাদের দেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মহাচিন্তার কথা। এই সব বিষয় নিয়ে রাতের ঘুম হারাম করেন দেশের কিছু তামাদি বুদ্ধিজীবী আর বাতিল রাজনীতিবিদ। তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিভিন্ন দোকানের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে সবকিছু বরবাদ হয়ে গেলো। গণতন্ত্র ভেজাল আর নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে গেছে। যারা শেখ হাসিনার আমলে গণতন্ত্র ভেজাল হয়েছে বলে হৈ চৈ বাঁধান, তারা কতটুকু খাঁটি—সেই প্রশ্ন তারা নিজেদের করতে পারেন। ড. কামাল হোসেন একজন বিজ্ঞ আইনজীবী ও সম্মানিত ব্যক্তি। রাজনীতিতে তার যা কিছু অর্জন, তা বঙ্গবন্ধুর ছায়াতলে আর আওয়ামী লীগের ছাতার নিচে। ১৯৭০ সালে তিনি বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেওয়া আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনে বিজয় লাভ করেছিলেন। ১৯৭৩ সালে জাসদের শাহজাহান সিরাজকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঢাকার একটি আসন হতে জয়লাভ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু-উত্তর সময়ে নির্বাচন করতে গিয়ে ১৯৮৬ সালে মিরপুরে আবু হোসেন বাবলার (জাপা) কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। এরপর তিনি আর কখনো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হননি। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিচারপতি সাত্তারের সঙ্গে ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছিলেন শোচনীয় ভাবে। তিনিও ক’দিন পর পর হালাল গণতন্ত্রের সন্ধানে পত্রিকায় বিবৃতি দেন মাহমুদুর রহমান মান্না। এক সময়ের তুখোড় ছাত্র নেতা ছিলেন। ছাত্রলীগ হতে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রী। তার পর বাসদ। আবার আওয়ামী লীগ। বর্তমানে নিজে যুক্তফ্রন্ট করছেন। তার সঙ্গে আর কারা কারা আছেন, তা এখনও পরিষ্কার নয়। পত্রিকার খবর অনুযায়ী তিনি ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ফেলে দিতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত বিচারপতি আবদুল আজিজ মার্কা একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে একটা ভেজাল নির্বাচন কমিশন না হচ্ছে আর যতক্ষণ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একটি সরকার গঠন না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই অক্ষমদের আর্তনাদ চলতেই থাকবে। তাদের আসল খায়েস হচ্ছে, খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রপতি আর তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর আসনে দেখা। তারপরই আওয়ামী লীগ আর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হরেক রকমের জেহাদের সমাপ্তি হবে বলে মনে হয়। সময়ের নতুন স্লোগান ‘শুদ্ধ নির্বাচন কমিশন আর হালাল গণতন্ত্র চাই’। আসলে দেশের মানুষ হালাল রাজনীতিবিদ দেখতে চায়।

লেখক: বিশ্লেষক ও গবেষক