• বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৩ রাত

ঈদ-উল-আযহা, ফেসবুক এবং বিবিধ...

  • প্রকাশিত ০১:০৭ দুপুর আগস্ট ২১, ২০১৮
গরু
গোমূত্রের সাবান-শ্যাম্পু আনছে আরএসএস প্রভাবিত সংস্থা। ছবি: বিগ স্টক

বিতর্কের নয়, ঈদ হোক আনন্দের, সহমর্মিতার, সুস্থধারার।

কাউ-ফি নিয়ে হাউকাউ? থাকুন নিরাপদ... দূরত্বে!

সেলফি তোলা ভালো। কুলফি খাওয়া আরও ভালো। কিন্তু কাউ-ফি? ঈদ-উল-আযহা এলেই শুরু হয় কুরবানির পশুটার সাথে সেলফি প্রতিযোগিতা। ট্রেন্ড নামক গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে গরুর সাথে সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করার আগে, একটা মিনিট সময় নিন। ছবিটিতে নিজেকে এবং কুরবানির পশুটিকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করেছেন তো? 

মৌসুমি পশু অধিকার রক্ষক! কিন্তু কাচ্চি?

বছরের এই সময়টাই আমাদের মাংসাশী মন এই অবলা পশুদের জন্য নরম হয়ে আসে। আবেগি মন বড়ই উদ্ভট! সারা বছর কাচ্চি-সহ নানা রকম বিরিয়ানির জয়গান গাইলেও, কুরবানির সময় আমরা পশু অধিকার নিয়ে বিশেষভাবে সচেতন হয়ে পড়ি। ইশ! এই সচেতনতা যদি অতিথি পাখিদের দিকে বন্দুক উঁচানোর আগে আসতো? কিম্বা স্রেফ মজার ছলে পাশের বাসার কি রাস্তার কুকুরটাকে-বিড়ালটাকে কষ্ট দেয়ার সময়ও একটু ভাবতাম ওদের অধিকারের কথা! নিন কাচ্চির শপথ, কাচ্চি দিবেন ছেড়ে! 

আচ্ছা, আমি কি রাজু? 

কুরবানি শেষ করেই যদি আপনি ‘আইজ সারাদিনে আমি ম্যালা কাম করসি’  লিখে সারাদিনের যাবতীয় কাজের একটি ফর্দ তুলে ধরেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাহলেই আপনি একজন রাজু। অবশ্যই লিখুন কি কি কামলা খাটলেন সারাদিন কিন্তু তার আগে, কুরবানি শেষে নিজের ঘরের আঙিনাটা ও এর আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছেন তো? গরিব-দুস্থ, প্রতিবেশী-আত্মীয়-অনাত্মীয়ের হক আদায় করেছেন তো?  

এবং কুরবানির ভিডিও...

আল্লাহ নবী ইব্রাহিম (আঃ) কে নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তুকে কুরবানি দিতে। স্রষ্টার হুকুম মানতেই সবচেয়ে প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে (আঃ) কুরবানি দিতে রাজি হয়ে গেলেন। এরপরের ঘটনা আমাদের জানা।

একটি কুরবানির পশু কতোটা গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝতে হলে আমাদের আগে বুঝতে হবে কুরবানির পশু শুধুমাত্র খাবার হিসেবে বিবেচ্য নয়। মুসলমানদের জন্য তাকওয়ার মানদণ্ড হল কুরবানি। যে বস্তুটা প্রিয় হলো না, হয়তো হাট থেকে এনেই ফেলে রাখা হল অনাদরে, এরপর পশুটার প্রতি কুরবানির সময়ও ন্যূনতম সম্মান না দেখিয়ে ছবি তুললামম, ভিডিও করলাম। কুরবানির মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হল এতে। প্রিয় বস্তু হলে কি এমনটা হত? 

আর রক্তের নদী? 

২০১৬ সালে ঈদ-উল-আযহার দিন হওয়া বৃষ্টির পানি আর কুরবানির পশুর রক্তে সয়লাব হয়ে যায় শান্তিনগর মোড় আর মালিবাগ এলাকা। এই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হতেই তৈরি হওয়া ত্রাস এতোটাই ভয়াবহ ছিল যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও উঠে আসে এই খবর। 

আচ্ছা, গত বছর ভাইরাল হওয়া ছবিটার কথা খেয়াল আছে? রক্ত নদীর উপর দিয়ে দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে ফুটফুটে একটা বাচ্চা মেয়ে। বেশ বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল ছবিটা নিয়ে। শুধু স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমেই নয়, আন্তর্জাতিক মাধ্যমেও। বলা হচ্ছিল বিবেক বর্জিত ফটোশপের কথাও। কিন্তু ছবিটি ফটোশপ ছিল না তা ছবিটির ফটোগ্রাফার নাসিফ ইমতিয়াজ নিজেই প্রমাণ দিয়েছিলেন। ছবিটি তোলা হয়েছিল নারায়ণগঞ্জে। বাজে 'ড্রেনেজ সিস্টেমে'র কারণে রক্তের নদী  সৃষ্টি নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে আর কুরবানির জন্য সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর ছবিটার উদ্দেশ্য। 

এ বছরও বৃষ্টি-বাদল আছে, 'ড্রেনেজ সিস্টেম' অদ্যাবধি ঠিক হল কি না হল তার অপেক্ষায় না থেকে কুরবানির সময়ে তৈরি হওয়া যাবতীয় বর্জ্য আসুন নিজ দায়িত্বেই পরিষ্কার করি,  ময়লা ফেলি নির্দিষ্ট স্থানে।

বিতর্কের নয়, ঈদ হোক আনন্দের, সহমর্মিতার, সুস্থধারার।