• বুধবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:০২ রাত

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও বাংলাদেশ

  • প্রকাশিত ০৩:০৭ বিকেল জুন ২, ২০১৯
এসডিজি
জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজির তালিকা। ছবি: সংগৃহীত

এমডিজির ৮টি লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ করলেও প্রকাশিত এই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, এসডিজির ১৭ টি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৮ টি তেই ‘লাল কার্ড’ পেয়েছে বাংলাদেশ, ২০১৭ তে যার সংখ্যা ছিলো ১০টি। 

‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি)' বা টেকসই উন্নয়ন বলতে ঐ ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে বোঝায় যার মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাও নিশ্চিত হয় আবার প্রকৃতি এবং বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমেও কোনো বাজে প্রভাব পড়ে না। ভিন্নভাবে বললে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা  হলো, ভবিষ্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত একগুচ্ছ লক্ষ্যমাত্রা।

টেকসই উন্নয়নের ব্যাপারটা প্রথম আলোচনায় আসে ১৯৮৭ সালে, ব্রুন্টল্যান্ড কমিশন এর রিপোর্টে। ২০০০ সালে শুরু হওয়া ‘মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল’ বা এমডিজি অর্জনের সময় শেষ হয় ২০১৫ সালে। এরপর জাতিসংঘ ঘোষণা করে ১৫ বছর মেয়াদি ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল’ বা এসডিজি। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ২০১৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদে এসডিজির ১৭টি লক্ষ্য পূরণ করতে হবে।

২০১৫ সালে জাতিসংঘ দারিদ্র্য বিমোচন, বিশ্ব রক্ষা এবং একটি নতুন টেকসই উন্নয়নের এজেন্ডা হিসেবে সকলের জন্য সমৃদ্ধি নিশ্চিতে ১৭টি লক্ষ্য ও ১৬৯ টি সহায়ক লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করে। 

এসডিজির লক্ষ্যগুলো প্রণয়ন ও প্রচার করেছে জাতিসংঘ যা  নির্ধারণ করা হয় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘ সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সামিট' নামক সম্মেলনে। 

উল্লেখ্য যে, এসডিজি বা সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল, এমডিজি বা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে প্রতিস্থাপিত করেছে, যার মেয়াদ ‌শেষ হয়েছে ২০১৫ সালে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ১৭ টি লক্ষ্যমাত্রা হলো:

•  এসডিজি ১. দারিদ্র্য বিমোচন

•  এসডিজি ২. খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টির উন্নয়ন ও কৃষির টেকসই উন্নয়ন

•  এসডিজি ৩. সকলের জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা

•  এসডিজি ৪. মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতকরণ

•  এসডিজি ৫. লিঙ্গ সমতা

•  এসডিজি ৬. সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা

•  এসডিজি ৭. সকলের জন্য জ্বালানি বা বিদ্যুতের সহজলভ্য করা

•  এসডিজি ৮. স্থিতিশীল ও অংশগ্রহণমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পূর্ণকালীন উৎপাদনমূলক কর্মসংস্থান ও কাজের পরিবেশ

•  এসডিজি ৯. স্থিতিশীল শিল্পায়ন এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা

•  এসডিজি ১০. দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তঃরাষ্ট্রীয়বৈষম্য হ্রাস

•  এসডিজি ১১. মানব বসতি ও শহরগুলোকে নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাখা

•  এসডিজি ১২. সম্পদের দায়িত্বপূর্ণ ব্যবহার

•  এসডিজি ১৩. জলবায়ু বিষয়ে পদক্ষেপ

•  এসডিজি ১৪. টেকসই উন্নয়নের জন্য সাগর, মহাসাগর ও সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ ও পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত করা

•  এসডিজি ১৫. ভূমির টেকসই ব্যবহার

•  এসডিজি ১৬. শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক সমাজ, সকলের জন্য ন্যায়বিচার,সকল স্তরে কার্যকর, জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং

•  এসডিজি ১৭. টেকসই উন্নয়নের জন্য এ সব বাস্তবায়নের উপায় নির্ধারণ ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের স্থিতিশীলতা আনা।

জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশন্স নেটওয়ার্কের এসডিজি সূচক এবং ড্যাশবোর্ডস রিপোর্ট ২০১৮ অনুযায়ী, ১৫৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১১তম। সবদিক মিলে বাংলাদেশের স্কোর ৫৯ দশমিক ৩। ২০১৭ সালে এর অবস্থান ও স্কোর ছিলো যথাক্রমে ১২০ ও ৫৬ দশমিক ২। শুধু ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বাদে দক্ষিণ এশিয়ার নেপাল, ভুটান র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। ৫৯ দশমিক ১ স্কোর নিয়ে ভারত আছে ১১২ নম্বরে, ৫৪ দশমিক ৯ স্কোর নিয়ে পাকিস্তান আছে ১২৬ নম্বরে। আফগানিস্তানের অবস্থান ১৫১, ৪৬.২ স্কোর নিয়ে।

এমডিজির ৮টি লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ করলেও প্রকাশিত এই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে এসডিজির ১৭ টি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৮ টি তেই ‘লাল কার্ড’ পেয়েছে বাংলাদেশ, ২০১৭ তে যার সংখ্যা ছিলো ১০টি। বর্তমানে বাংলাদেশ যে ৮টি টেকসই লক্ষ্যমাত্রায় প্রত্যাশার তুলনায় পিছিয়ে আছে, সেগুলো হলো-

•  এসডিজি ২. খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টির উন্নয়ন ও কৃষির টেকসই উন্নয়ন

•  এসডিজি ৩. সকলের জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা

•  এসডিজি ৭. সকলের জন্য জ্বালানি বা বিদ্যুতের সহজলভ্য করা

•  এসডিজি ৯. স্থিতিশীল শিল্পায়ন এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা

•  এসডিজি ১১. মানব বসতি ও শহরগুলোকে নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাখা

•  এসডিজি ১৪. টেকসই উন্নয়নের জন্য সাগর, মহাসাগর ও সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ ও পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত করা

•  এসডিজি ১৬. শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক সমাজ, সকলের জন্য ন্যায়বিচার, সকল স্তরে কার্যকর, জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং

•  এসডিজি ১৭. টেকসই উন্নয়নের জন্য এ সব বাস্তবায়নের উপায় নির্ধারণ ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের স্থিতিশীলতা আনা।

বাকীগুলোর মধ্যেও কোনোটাতেই পূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি এখনো। বাংলাদেশ সরকারসহ দেশের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য। তন্মধ্যে ‘ইউথ চেইঞ্জ মেকার’ অন্যতম। দেশের তরুণদের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিতের মাধ্যমে তারা এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করতে বদ্ধ পরিকর। ‘ক্যাম্পেইন ফর এসডিজিস’ নামক ফেসবুক গ্রুপ ও পেইজের মাধ্যমে ‘ইউথ চেইঞ্জ মেকার’ এর এসডিজি বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যারা এটা নিয়ে কাজ করতে ইচ্ছুক তারা ‘ইউথ চেইঞ্জ মেকার’ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।


মোঃ রায়হানুল ইকবাল ইভান, কো-অর্ডিনেটর ও ঢাকা টিম লিডার,ইউথ চেইঞ্জ মেকার