• বুধবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:০৫ রাত

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ

  • প্রকাশিত ১১:৩৩ সকাল জুলাই ১১, ২০১৯
জনসংখ্যা তরুণ বেকার
ছবি: সৈয়দ জাকির হোসাইন/ঢাকা ট্রিবিউন

নগরায়ন, বন উজাড়, জলবায়ুর পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা ক্রমশই বাড়ছে। এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট  দুর্যোগ। সেইসাথে বিশ্বজুড়ে জাতিগত দ্বন্দ্ব ও বিবাদ নানা কারণে বাস্তুচ্যুতি ও জোরপূর্বক অভিবাসন তো রয়েছেই। এসব দুর্যোগ ও দ্বন্দ্বে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) সারাবিশ্বে পালিত হয় বিশ্বজনসংখ্যা দিবস। ১৯৮৭ সালের এই দিনে বিশ্বেও মোট জনসংখ্যা পাঁচশো কোটিতে উন্নীত হয়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইউএনডিপি’র গভর্ন্যান্স কাউন্সিল বছরের এই দিনটিকে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব করে। সেই থেকে দিনটিকে বিশ্বজনসংখ্যা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও আগ্রহ সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে ১৯৮৯ সাল থেকে জাতিসংঘের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালন করে আসছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, জনসংখ্যা বিষয়ক নানাবিধ সমস্যাগুলো সকলকে জানানো এবং তা গুরুত্ব অনুসারে সমাধান করা। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো এবারও বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব সহকারে দিবসটি পালন করছে।

একটি রাষ্ট্রের যে কয়েকটি মৌলিক উপাদান রয়েছে তার মধ্যে জনসংখ্যা অন্যতম। আর এই জনসংখ্যা কোনো দেশের জন্য সম্পদ আবার কোনো দেশের জন্য বোঝা। অনেক দেশে অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে সম্পদ হিসেবে বিচেনায় না করে বোঝা হিসেবে বিবেচনায় নেয়। তবে সমসাময়িক প্রযুক্তি এবং উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত জনসংখ্যা দক্ষ করতে পারলে তা সম্পদে পরিণত করা সম্ভব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দিকে তাকালে দেখা যায়, অপুষ্টি, পর্যাপ্ত শিক্ষার সুযোগ, বেকারত্ব, চিকিৎসা সেবার অপ্রতুলতার মূলে রয়েছে অতিরিক্ত জনসংখ্যা। আর এসব বিষয়কে সামনে রেখে জনসংখ্যা বিষয়ক সমস্যাগুলো সকলকে অবহিত করা এবং তা গুরুত্ব সহকারে সমাধানের প্রচেষ্টা করাই হলো দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে প্রতি মিনিটে বিশ্বে ২৫০টি শিশু জন্মগ্রহণ করে। যেসব রাষ্ট্র এই জনসংখ্যাকে বোঝা হিসেবে দেখে, তারা জনসংখ্যা বৃদ্ধিকেই নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। তবে জনসংখ্যা সমস্যা নিয়ে কিছুটা বৈশ্বিক বিতর্কও আছে। অনেকের মতে পৃথিবীর যে সীমিত সম্পদ রয়েছে তাতে সর্বোচ্চ ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি লোককে জায়গা দেওয়া সম্ভব। তাদের মতে ধীরে ধীরে জনসংখ্যা কমিয়ে আনা উচিত। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও উন্নত বণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে বর্ধিত জনসংখ্যার চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করেন অনেকে বিশেষজ্ঞ। জনবহুল সমস্যায় জর্জরিত চীন এক সন্তান নীতির মাধ্যমে জনসংখ্যা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। আবার কিছু দেশ ঋণাত্মক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের কারণে উল্টো বৃদ্ধি নীতিও গ্রহণ করেছে।

পৃথিবীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই প্রবণতা খুব বেশি আগের নয়। মূলত কৃষি বিপ্লবই জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। এর পূর্বকার সময় খাদ্যাভাব পরোক্ষভাবে জনসংখ্যাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধির চিত্র হলো- 

বিশ্ব জনসংখ্যা বছরে:

বৎসর

বিশ্বজনসংখ্যা

বাৎসরিক পরিবর্তন

নিট পরিবর্তন

ঘনত্ব(জনঃ/কি:মি:)

শহুরে জনঃ:

শহুরে জনঃ( শতকরা হার)

২০১৯

৭,৭১৪,৫৭৬,৯২৩

১.০৭ %

৮১,৭৫৭,৫৯৮

৫২

২,১৪৭,৪৮৩,৬৪৭

২৮ %

২০১৮

৭,৬৩২,৮১৯,৩২৫

১.০৯ %

৮২,৫৫৭,২২৪

৫১

২,১৪৭,৪৮৩,৬৪৭

২৮ %

২০১৭

৭,৫৫০,২৬২,১০১

১.১২ %

৮৩,২৯৭,৮২১

৫১

২,১৪৭,৪৮৩,৬৪৭

২৮ %

নগরায়ন, বন উজাড়, জলবায়ুর পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে বৈশ্বিকউষ্ণতা ক্রমশই বাড়ছে। এরসাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট  দুর্যোগ। সেইসাথে বিশ্বজুড়ে জাতিগত দ্বন্দ্ব ও বিবাদ নানা কারণে বাস্তুচ্যুতি ও জোরপূর্বক অভিবাসন তো রয়েছেই। এসব দুর্যোগ ও দ্বন্দ্বে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আর এসব দিক বিবেচনায় বিশ্বে জনসংখ্যার ধনাত্মক কিংবা ঋণাত্মক হার যেটিই হোক তা বিশ্ববাসীর জন্য কল্যাণই বয়ে আনবে বলে আশা করা যায়।