• বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ০২, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৩ সকাল

সেন্টমার্টিনে কেনো কুকুর মারবেন না?

  • প্রকাশিত ০৬:১৪ সন্ধ্যা ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০
সেন্টমার্টিন
ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

নির্বিচারে কুকুর হত্যা শিশু ও জনমনে গভীর হতাশা ও আতংকের উদ্রেক করে। মানুষের মতো এদেরও রয়েছে বেঁচে থাকার সমান অধিকার

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে গত ক’দিনেই স্থানীয়দের দ্বারা নির্বিচারে মারধর বা বিষ প্রয়োগে প্রায় ২০০ কুকুর মেরে ফেলা হয়েছে। (সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন)

সেন্টমার্টিনে কুকুর বেশি হওয়ার কারণ ‘‘দেশি’’ ও ‘‘সংকর’’ এই দুই জাতের কুকুরের আধিক্য। বিভিন্ন সময় ট্যুরিস্ট, জেলে ও ব্যবসায়ীদের হাত ধরে এসেছে ওরা। নির্মল বিনোদন ও নিরাপত্তার খাতিরে সঙ্গে নিয়ে আসা কুকুরগুলোকে বেশিরভাগক্ষেত্রে রেখেই চলে গেছেন তারা।

মালিকবিহীন হয়ে পড়া এসব কুকুর সেন্টমার্টিনের স্বাস্থ্যকর পরিবেশে ক্রমেই বংশবৃদ্ধি লাভ করছে। এভাবে বংশবৃদ্ধিতে একটি প্রাকৃতিক ভারসাম্য বা নিয়ন্ত্রণ থাকে। কিন্তু সেন্টমার্টিনে কোনো সুপরিকল্পিত খাদ্যবর্জ্য ব্যবস্থাপনা নাই। যেখানে-সেখানে ডাস্টবিন, উচ্ছিষ্ট খাবার। প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই অনুকূল পরিবেশে কুকুরের সংখ্যা অনেক বাড়ছে।

কেনো কুকুর মারবেন না?

কুকুর মারার কাজটি বেশ অমানবিক, বিপজ্জনক। পরিবেশ দূষণ ও রোগ সংক্রমণের বড় কারণ। বাস্তুসংস্থানে জীবিত নির্দিষ্ট একটি প্রজাতির সঙ্গে পরিবেশগত নিবিড় সম্পর্ক (Biological Niche) বিদ্যমান। নির্বিচারে কুকুর হত্যা এই সম্পর্ককে বিনষ্ট করবে। নির্বিচারে কুকুর হত্যা এলাকাভিত্তিক নতুন নতুন কুকুরের অভিবাসন (migration) ও স্থানান্তর (Translocation) ঘটাবে এবং পূর্বাপর ভারসাম্য বজায় রাখবে। তথাপি, নির্বিচারে কুকুর হত্যায় বেঁচে যাওয়া কুকুরগুলোর প্রজনন হার অনেক বেড়ে যাবে। ইঁদুর, শেয়াল, নেকড়ে বা সদৃশ প্রাণীগুলোও তখন বেড়ে যাবে। নির্বিচারে কুকুর হত্যা শিশু ও জনমনে গভীর হতাশা ও আতংকের উদ্রেক করে। মানুষের মতো এদেরও রয়েছে বেঁচে থাকার সমান অধিকার।

‘‘প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯’’-এর ধারা ৭ অনুযায়ী নির্বিচারে মালিকবিহীন প্রাণি নিধন বা অপসারণ দণ্ডনীয় অপরাধ বলে বিবেচিত। এই ধারার উপ-ধারা (২) অনুযায়ী, অপরাধী ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

সেন্টমার্টিনে কেনো নয়?

ধরুন, সেন্টমার্টিনে এখন মোট ১০০০ টি কুকুর আছে। ৫০০ কুকুর মেরে ফেলা হলো। একবছর পর কতগুলো কুকুর থাকবে?

মুখে মুখেই বলে দেওয়া যায়, আর ৫০০ কুকুর থাকবে। ব্যাপারটি কিন্তু এমন নয়। এক বছর পর সেখানে কুকুরের সংখ্যা আগেকার ১০০০ থেকে দু-তিনগুণও বেড়ে যেতে পারে।

কুকুর নিধনের কারণে অবশিষ্ট কুকুরগুলো পরিবেশে বিদ্যমান মোট কুকুরের খাদ্য খাবে। এতে তাদের প্রজনন ক্ষমতা বেড়ে যাবে। প্রতি প্রজননে বাচ্চা কুকুরের মৃত্যুহার স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাবে। সেন্টমার্টিনে এলাকাভিত্তিক নতুন কুকুরের অভিবাসন (migration) ও স্থানান্তর (Translocation) ঘটানোর সুযোগ নেই। এভাবে কুকুর সংখ্যার ভারসাম্য পূর্বের অবস্থায় ফেরত আসবে বা ছাড়িয়ে যাবে। অর্থাৎ, কোনো এলাকায় কুকুর মারলে কুকুরের সংখ্যা কমে না; বরং বেড়ে যায়।

ভেবে দেখেছেন, সেন্টমার্টিনে ৫০০ কুকুরের মৃতদেহ কী ভয়ানক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটাতে পারে। এতো কুকুর মাটিচাপা দেওয়ার মতো জায়গাটাই বা কই?

উত্তরণ কী তাহলে???

সেন্টমার্টিনে কুকুর বৃদ্ধি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও ভারসাম্য বিনষ্ট করে। কুকুরের সংখ্যা কমানো বা নিয়ন্ত্রণের বিজ্ঞানভিত্তিক একমাত্র সমাধান স্পে-নিউটার বা কুকুর বন্ধ্যাত্বকরণ। সুপরিকল্পিত স্পে-নিউটার কার্যক্রমের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক কুকুর দেশের অন্যত্র এডপশনের ব্যবস্থা করতে হবে।


ডা. এম. মুজিবুর রহমান ডিভিএম, এমএস

এমডিভি এক্সপার্ট, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

e-mail: [email protected]

*****************************************************************************************************************

প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রকাশিত লেখার জন্য ঢাকা ট্রিবিউন কোনো ধরনের দায় নেবে না।