• রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৪০ রাত

যেভাবে একজন সফল উদ্যোক্তা হবেন

  • প্রকাশিত ০১:০৫ দুপুর মার্চ ৬, ২০২০
তরুণ উদ্যোক্তা
তরুণদের মধ্যে সব ধরনের ব্যবসায় উদ্যোগ (স্টার্টআপ) সৃষ্টির জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।সৈয়দ জাকির হোসেন/ঢাকা ট্রিবিউন

উদ্যোক্তা হতে হলে আপনার দরকার আত্ম- উৎসর্গিত মনোভাব। যে কোনো খারাপ পরিস্থিতি সামলে ওঠা ও ব্যর্থতা গ্রহণের সামর্থ্য আপনার থাকতে হবে

একজন উদ্যোক্তা হতে হলে আগে আপনাকে জানতে হবে উদ্যোক্তা কে অথবা উদ্যোক্তা কী জিনিস? উদ্যোক্তাকে সাধারণভাবে ব্যবসায়ীও বলা যায়। কিন্তু একজন উদ্যোক্তা আর ব্যবসায়ীর মধ্যে খানিকটা পার্থক্য আছে। যেমন- একজন মুদি দোকানদার ব্যবসায়ী হলেও উদ্যোক্তা নন। তিনি একজন উদ্যোক্তা তখনই হবেন যখন তিনি মানুষের কোনো একটি সমস্যা গৎবাঁধা নিয়মে সমাধান না করে একটু ইনোভেটিভ উপায়ে সমাধান করবেন। আরও বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে,আপনি একজন উদ্যোক্তা হতে পারবেন নীচের উপায়গুলোর মাধ্যমে।

উদ্যোক্তা হতে গেলে আপনাকে প্রথমেই যেকোন একটা সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে। হতে পারে আপনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে কোনো সমস্যায় পড়েছেন নাকি আপনার আশেপাশের কেউ সেই সমস্যার সম্মুখীন? অথবা সেটা কোনো সামাজিক সমস্যাও হতে পারে। মোটকথা একটি সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সেটির একটি উদ্ভাবনী সমাধান বের করা। এরপরের কাজ হলো সেই সমস্যা এবং তার উদ্ভাবনী সমাধানের একটি ব্যবসায়িক মডেল দাঁড় করা।

মোটামুটি এতটুকু হয়ে গেলেই কাজ অনেকটা শেষ হয়ে যায়। এরপর কাজটি এগিয়ে নেওয়া এবং এর একটি সফল পরিণাম দেওয়ার জন্য আপনাকে একটা টিম গঠন করতে হবে। আপনার টিমের কয়েকজন কো-ফাউন্ডার অথবা সহ-প্রতিষ্ঠাতা থাকবেন। কো-ফাউন্ডার হচ্ছেন তারা,যারা আপনার মতোই একটি সমস্যা নিয়ে ভাবেন অথবা চিন্তা করেন এবং আপনার টিমে অবশ্যই ভিন্ন ভিন্ন সেক্টরের মানুষ থাকতে হবে। যেমন: কেউ ইঞ্জিনিয়ার,কেউ মার্কেটিংয়ের আবার কেউবা সামাজিক বিজ্ঞানের। এতে করে টিমে বৈচিত্র্য আসবে।

টিম গঠন করার পর আপনাকে সমস্যা এবং তার উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। সমস্যার সমাধান হতে পারে কোনো পণ্য হতে পারে অথবা সেবা। যা-ই হোক না কেন, তার জন্য আপনাকে একটা প্রটোটাইপ বানাতে হবে প্রথমে। প্রটোটাইপ হলো আপনার সমাধানের একটা বাস্তবিক মডেল যা আপনার সমাধানকে চিত্রিত বা বর্ণনা করবে। যেমন: আপনি খাদ্যের মান নির্ণয়ের জন্য যদি একটি পণ্য বানাতে চান যা একইসঙ্গে আর্দ্রতা এবং pH নির্ণয় করবে তাহলে আগে আপনাকে তেমন একটা পণ্য তৈরি করতে হবে যা এই সমস্যাকে বর্ণনা করতে পারে। এটাই হচ্ছে প্রটোটাইপ।

প্রটোটাইপিংয়ের পর পণ্যটি বাজারে ছাড়তে হবে। তার আগে তা অন্তত ৫ জন ভোক্তার কাছ থেকে এর সম্পর্কে মতামতো জেনে নিতে হবে। এর মাধ্যমে বোঝা যাবে আপনার পণ্য বা সেবাটির মার্কেট  ভ্যালু। ভোক্তাদের মতামত পজিটিভ হলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার প্রোডাক্ট বাজারে আসার জন্য প্রস্তুত।

মার্কেটে প্রোডাক্ট আনা এবং মার্কেটে আসার আগে প্রোডাক্টের লঞ্চ আসলে অনেক টাকার ব্যাপার। যা হয়ত একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।এক্ষেত্রে আমাদের সাহায্য করেন Angel Investor বা দেবদূত বিনিয়োগকারী। তিনিই মূলত টাকা বিনিয়োগ করে থাকেন একটা নির্দিষ্ট মালিকানার বিনিময়ে। সেজন্য আপনাকে জানতে হবে এরকম বিনিয়োগকারীরা আসলে কী চান, কীভাবে চান, কোন পর্যায়ে এসে তারা বিনিয়োগ করবেন, কী দেখে বিনিয়োগ করবেন?

আপনার প্রোডাক্ট লঞ্চ হয়ে যাওয়ার পর তা যখন মার্কেটে আসবে তখন আপনার টার্গেট থাকবে প্রাথমিকভাবে মার্কেটে বেশ বড় একটা পরিমাণ প্রোডাক্ট আনা। এজন্য আপনার কর্মী, পরিবেশক ইত্যাদি লাগবে,খরচ বাড়বে। ধরে নেওয়া যাক, আপনি মার্কেটে ১ লাখ প্রোডাক্ট আনবেন। সেজন্য আপনার বেশ ভাল পরিমাণ টাকার দরকার। যে বা যারা এই টাকা বিনিয়োগ করবেন, তাদের বলা হয় ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট। এই ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা এনে বিনিয়োগ করবে এবং ৫-৭ বছর পর ‍‍‍“রিটার্ন জেনেরেট” করে টাকা ফেরত দেবে।

এগুলো ছিল উদ্যোক্তা হওয়ার প্রাথমিক কিছু ধাপ। তবে উদ্যোক্তা হতে হলে আপনার দরকার আত্ম- উৎসর্গিত মনোভাব। যে কোনো খারাপ পরিস্থিতি সামলে ওঠা ও ব্যর্থতা গ্রহণের সামর্থ্য আপনার থাকতে হবে। যে কোনো ব্যবসা পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞতা না থাকলে আপনার উচিত কোথাও কাজ করে বা কোনো পার্টটাইম জব করে ব্যবসার খুঁটিনাটি হাতে-কলমে শেখা। এতে করে আপনার নেটওয়ার্কিং বাড়বে, যা পরবর্তীতে ক্লায়েন্ট ডেভেলপমেন্ট ও প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্টে সাহায্য করবে।

একজন উদ্যোক্তা হতে গেলে শুরুতেই আপনার দরকার একটা সমস্যা এবং এই সমস্যাটা আসে আমাদের আশপাশ থেকে। সাধারণত মানুষ যেটা করে,সে প্রথমে একটা সমাধান বের করে এবং সেটা কোন সমস্যার ক্ষেত্রে প্রযোজন্য তা বের করে। অর্থাৎ সে কাজটা আসলে উল্টোভাবে করে। আমাদের প্রথমেই উচিত সমস্যা বের করে তার একটা উদ্ভাবনী সমাধান বের করা। কখনোই প্রথমে সমাধান দেওয়া যাবে না। একজন উদ্যোক্তা হতে গেলে এই জিনিসটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে।

আপনার সমস্যার সমাধান বা আইডিয়ার বাস্তবায়ন করার জন্য আপনাকে প্রথমেই ২টি প্রশ্নের উত্তর পেতে হবে। প্রথমটি হলো, মানুষ আসলেই চায় কি না যে সমস্যাটার সমাধান হোক এবং দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, অনেক বেশি পরিমাণে মানুষ চায় কী না যে সমস্যাটার সমাধান হোক। যদি দুটো প্রশ্নের উত্তরই পজিটিভ হয় তাহলে বুঝতে হবে আপনার সমাধান বা আইডিয়াটা বাস্তবে রূপ দেওয়া যাবে।

একজন উদ্যোক্তা হতে গেলে আপনাকে অনেকের সঙ্গে কথা বলতে হবে। বিনিয়োগকারী,কাস্টমার,অন্যান্য উদ্যোক্তাসহ আরও অনেকে। ভাল যোগাযোগ দক্ষতা বা কমিউনিকেশন স্কিল না থাকলে বিষয়টি কঠিন। হয়ত আপনার কাছে খুব ভাল আইডিয়া বা ভাল পণ্য আছে। কিন্তু সঠিকভাবে যোগাযোগ করতে পারলে বা আপনার পণ্যের কার্যকারিতা বোঝাতে না পারলে খুব একটা লাভ হবে না। তাই একজন সফল উদ্যোক্তা হতে গেলে আপনার যোগাযোগে দক্ষ হতে হবে।


অন্বেষা জাফরিন

বিজনেস ডেভলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ, আইপেজ বাংলাদেশ লিমিটেড

*****************************************************************************************************************

প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রকাশিত লেখার জন্য ঢাকা ট্রিবিউন কোনো ধরনের দায় নেবে না।