• সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৭ রাত

করোনাভাইরাস: বাংলাদেশের সাংবাদিকতার তিন চ্যালেঞ্জ

  • প্রকাশিত ০৪:২৪ বিকেল মে ৮, ২০২০
ঢাকা ট্রিবিউন
মাহমুদ হোসেন অপু/ঢাকা ট্রিবিউন

প্যারিস ভিত্তিক রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স বলছে, এই করোনাভাইরাস আক্রান্ত সময়ে পৃথিবীর বেশ কিছু দেশের মতো বাংলাদেশেও সাংবাদিকদের উপর খড়গ নেমে এসেছে

চারপাশের সবকিছুই কেমন যেন বদলে দিচ্ছে করোনাভাইরাস। এমনকি গণমাধ্যমেও এর প্রভাব পড়েছে। পরিবেশের মতো কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক সংবাদ এসেছে, কিন্তু সামগ্রিক ক্ষেত্রে করোনার প্রভাবটা নেতিবাচক। কোভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে প্রতিদিন সারা বিশ্বের হাজারো মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মারা যাচ্ছেন । বিভিন্ন পেশায় নানানমুখী সঙ্কট দিনের পর দিন বেড়েই চলছে। তেমনি দেশে দেশে সাংবাদিকতা পেশাও নানা প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছে।

করোনাভাইরাস শুধু মানুষের জান-মালের ক্ষতি করছে না, এর কারণে বেশ বড় সংখ্যক সংবাদসংস্থাকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে, এমনটাই বলছেন ওয়াশিংটন ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর জার্নালিস্ট এর গ্লোবাল ডিরেক্টর জুলি পোসেত্তি (আইসিএফজে, এপ্রিল ৯, ২০২০)।

এদিকে, আইসিএফজে এবং সাংবাদিকতার জন্য বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টো সেন্টার ফর ডিজিটাল জার্নালিজম সম্মিলিতভাবে একটি বৈশ্বিক-সাংবাদিকতার পরিস্থিতির ওপর করোনাভাইরাসের প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণা করতে যাচ্ছে। সেই গবেষণার প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে গবেষণা দলের প্রধান ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট স্কুল অব জার্নালিজমের অধ্যাপক এমিলি বেল বলেন, কোভিড-১৯ এর কারণে বর্তমানে সারাবিশ্বের নিউজ্রুমগুলো বেশ অর্থনৈতিক, মানসিক, এবং অন্যান্য চাপের মুখে পড়েছে।

একইক্ষেত্রে প্যারিস ভিত্তিক রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স বলছে, এই করোনাভাইরাস আক্রান্ত সময়ে পৃথিবীর বেশ কিছু দেশের মতো বাংলাদেশেও সাংবাদিকদের উপর খড়গ নেমে এসেছে। তাদের মতে, বাংলাদেশে  সাংবাদিকদের ওপর যে খড়গ নেমে এসেছে তা করোনাভাইরাসে নয়, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই খড়গ এসেছে সরকার ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে (আরএসএফ, এপ্রিল ৮, ২০২০)।

নিউজরুমগুলোতে নানামুখী চাপ ও ক্ষমতাসীনদের চাপ ছাড়াও বাংলাদেশের সাংবাদিকতা আরও দুটি সমস্যার মুখোমুখি। এক. অর্থাভাব, চাকরিচ্যুতি ও করোনাভাইরাসের প্রভাবে সৃষ্ট মন্দাভাব এবং একের পর এক সাংবাদিকের আক্রান্ত হয়ে পড়া।

বর্তমানে এই সমস্যাগুলোর যাতাকলে পড়ে পিষ্ট বাংলাদেশের সাংবাদিকতা। তবুও করোনাভাইরাস সঙ্কটের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের কথা সরকারের কাছে পৌঁছে দিতে এবং জনগণকে সচেতন করে তুলতে বাংলাদেশের জাতীয় এবং স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বেশ চেষ্টা করে চলেছে। সেই চেষ্টার একটা ফিরিস্তি জানা যাক।

গণমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্থানে গত এক মাসে কমপক্ষে ১২ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন, কেউ কেউ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন মারাত্মকভাব জখম হওয়ার কারণে। এসব সাংবাদিকদের অপরাধ, তারা করোনাকালীন সময়ে সরকারের ত্রাণ বিতরণ নিয়ে প্রতিবেদনের কাজ করেছিলেন। সাংবাদিক নির্যাতনের এই অভিযোগের তীরটা সরকার দলীয় নেতা কর্মী বা স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধির দিকে। তাদের দ্বারা এসব সাংবাদিক নিপীড়ন, নির্যাতন ও হুমকি-ধামকির মুখোমুখি হয়েছেন বলে খবরে এসেছে।

ভোলার স্থানীয় সাংবাদিক সাগর চৌধুরী মারাত্মকভাবে আহত হন ৩১ মার্চে। তিনি বোরহানউদ্দীন উপজেলার স্থানীয় কাউন্সিলরের ত্রাণচুরি নিয়ে সংবাদ প্রচার করেন। এ জন্য তাকে স্থানীয় বড় মানিকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন হায়দারের ছেলে নাবিল হায়দার ফোনে ডেকে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন এবং তা ফোনে ভিডিও করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন। হবিগঞ্জে সাংবাদিক শাহ সুলতান আহমেদের অপরাধ তিনি নবীগঞ্জ উপজেলার আশুকান্দি ইউনিয়নে ত্রাণে অনিয়ম ও চুরি নিয়ে একটি ফেসবুক লাইভ দেন। এ কারণে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান ও তার লোকজন ১ এপ্রিল তাঁকে মারাত্মকভাবে জখম করেন। সুলতানের সহকর্মীরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। এই হামলায় পাঁচ সাংবাদিক আহত হন। শাহ সুলতান আহমেদ সংবাদ প্রতিদিন এর স্থানীয় প্রতিনিধি (ডেইলি স্টার, এপ্রিল ২, ২০২০)।

শুধু হামলা নয়, সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন মামলার মাধ্যমেও। ত্রাণচুরি ও প্রশাসনের সমালোচনা করে সংবাদ প্রকাশ ও ফেসবুকে স্ট্যাটাস পোস্ট দেওয়ার জন্য ৮ সাংবাদিকের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের গুজব রটানোর মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গীতে সাংবাদিক মো. আল মামুন, জাগো নিউজের সম্পাদক মহিউদ্দিন সরকারসহ চার সংবাদকর্মী, নরসিংদীতে নিউজ ২৪ এর সংবাদদাতা হৃদয় খানসহ আরও দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধেদুটি মামলা হয়েছে।

বাংলাদেশে যেখানে সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে এত বাধা আসছে, সেখানে সম্প্রতি একটি বৈশ্বিক  সূচকে নজর দেওয়া যাক। আর এস এফের সম্প্রতি প্রকাশিত এ বছরের প্রেস ফ্রিডম ইন্ডেক্সে, বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের স্থান ১৫১তম, যা গত বছরের চেয়ে নেমেছে একধাপ। বাংলাদেশ তার সকল প্রতিবেশী, এমনকি সামরিক সরকার নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র মিয়ানমারের চেয়ে নিচের অবস্থানে আছে।

তাদের হিসেবে, ৮ এপ্রিল পর্যন্ত সাত সংবাদকর্মী ভোলা ও হবিগঞ্জে সরকার দলীয় কর্মীদের দ্বারা মারাত্মক ভাবে জখম এবং হেনস্তার শিকার হন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন (আরএসএফ, এপ্রিল ৮, ২০২০)। এই সাংবাদিক নির্যাতনের অন্যতম কারণ, তাঁরা করোনাকালীন সময়ে সরকারের ত্রাণ কার্যক্রমে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের অনিয়ম, চুরি ও দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রচার করেছেন বা প্রতিবাদ করেছেন।

শুধু করোনাকালীন সময়ে ত্রাণের অনিয়মের ক্ষেত্রে নয়, নির্বাচনের সময় সাংবাদিকদের ওপরও হামলা হচ্ছে। আর এস এফ বলছে, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কভার করতে গিয়ে ১০ সাংবাদিক আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমর্থক-কর্মীদের দ্বারা শারীরিকভাবে প্রহৃত এবং লাঞ্ছনার শিকার হয়েছিলেন।

এদেশের সাংবাদিকেরা বৈরী সময়ের মধ্যে, এটা স্পষ্ট। কিন্তু এই সরকার নিজেদের ‘গণমাধ্যম বান্ধব’ বলে দাবি করে। সেক্ষেত্রে সাংবাদিকের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন-হয়রানির বিচার করে সরকারের উচিত তাদের দাবি দাবির সত্যতা নিরূপণ করা। একইসঙ্গে স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রধান অন্তরায় হিসেবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি রহিত করা।

করোনার প্রকোপের মধ্যে মরার উপর খাঁড়ার ঘা এর মত বেশ কিছু গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের উপর চেপে এসেছে অর্থকষ্ট। গণমাধ্যমকর্মীরা জানিয়েছেন, অন্তত ৫টি গণমাধ্যম সংবাদকর্মীদের বেতন বকেয়া বা মার্চ মাসের বেতন সম্পূর্ণ দেওয়া হয়নি।

অবস্থা এমন যে সাংবাদিকদের জন্য সরকারের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিতে হয়েছে জাতীয় প্রেসক্লাবে। টিসিবির একটি বিশেষ ট্রাক থেকে সাংবাদিকেরা পণ্য কিনছেনও। অন্যদিকে বিভিন্ন খাতে সরকার ৭২ হাজার কোটি টাকার প্রনোদনা দিলেও গণমাধ্যমের কপালে একটা পয়সাও জোটেনি। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের জন্য প্রণোদনার কথা কাণাঘুষা চলছে। তবে তা এখনও নিশ্চিত নয়।

করোনার কারণে স্বাভাবিক প্রভাব পড়েছে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপণদাতা ও গ্রাহকদের ওপর। এর সাথে যুক্ত  হয়েছে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনদাতাদের বকেয়া পরিশোধ না করার বিষয়টি। ফলে, গণ্যমাধ্যমগুলোর বেশিরভাগই অনিশ্চয়তায় পড়েছে। কয়েকটি পত্রিকা তাদের প্রিন্ট সংস্করণ বন্ধ করেছে। এই পরিস্থিতিতে এটি স্পষ্ট যে সাংবাদিক সমাজে এক ভয়ানক অস্থিরতা বিরাজ করছে। এমনকি সাংবাদিকদের ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপগুলোতে প্রতিদিনেই এসব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

একজন সাবেক সংবাদকর্মী হিসেবে বলতে পারি,  এই পরিস্থিতি দেশের সাংবাদিকদের জন্য অস্বস্তিকর। টিভি চ্যানেলগুলোতেও ছাঁটাইয়ের খবর শোনা যাচ্ছে। সাংবাদিক নেতা আকতার হোসেন তাঁর ফেসবুকে ২৫ এপ্রিল লিখেনে,  এস এ টিভি, জিটিভি ও তার সহযোগী অনলাইন গণমাধ্যম সারাবাংলা এবং আলোকিত বাংলাদেশ ৬৬ জন সংবাদকর্মীকে ছাঁটাই করেছে। করোনার সময়ে এই চাকরিচ্যুতিতে এসব সাংবাদিকেরা পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায়―তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এসময় যাদের জোরালো ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার কথা তারা কিন্তু নিশ্চুপ আছেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনগুলোর নেতারা  কোথায়―এই প্রশ্ন বারবার উঠছে।

কিন্তু, এটা দুর্ভাগ্য সাংবাদিক নেতাদের দলা-দলি ও নিস্প্রভ আচরণ সংগঠনগুলোকে একেবারে নিষ্প্রাণ করে ফেলছে। তাই দ্রুত এই নেতৃত্বের জায়গাগুলো সক্রিয় করে নিজেদের দাবিগুলো আদায়ে সচেষ্ট হওয়া সময়ের দাবি। তাদের সরকারের কাছে প্রণোদনাসহ বিজ্ঞাপনের পাওনা টাকা এবং অন্যান্য বিজ্ঞাপনদাতাদের চাপ প্রয়োগে সচেষ্ট হতেই হবে। নতুবা করোনা পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ  হতে পারে। একই সঙ্গে এই পরিস্থিতিতে কী করণীয়, এই শিল্প কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে সে জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রথিতযশা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক, গবেষক, গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ ও ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে দিক নির্দেশনামূলক পরামর্শ আশা করি। তবে তাদেরও প্রস্তুতি কতটা আছে, তা ভিন্ন বিতর্ক।

সাংবাদিকদের জন্য তৃতীয় সমস্যাটি হলো একের পর এক গণমাধ্যমকর্মীর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়া এবং করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু। ইতিমধ্যে সময়ের আলো পত্রিকার আমাদের প্রিয় হুমায়ুন কবির খোকন ভাই গত এপ্রিল ২৮ এ মৃত্যুবরণ করেন করোনা আক্রান্ত হয়ে।

৫ মে পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৩ জন সংবাদকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মাত্র কয়েকজন সুস্থ হয়ে ফিরেছেন, যা আশার খবর (প্রথম আলো, মে ৫, ২০২০)। আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে টিভি ও পত্রিকার রিপোর্টারদের সংখ্যাই বেশি।এক এন টিভিতেই আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ জন। দেশে প্রথম গণমাধ্যমকর্মী আক্রান্ত হয় এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে। সে হিসেবে গত ৫ সপ্তাহে প্রতিদিন একজন এর বেশি করে সাংবাদিক আক্রান্ত হচ্ছেন।

করোনায় অন্যতম বড় ধাক্কা খায় দীপ্ত টেলিভিশন। চ্যানেলটির ছয় কর্মী আক্রান্ত হওয়ার পর তাদের সংবাদ পরিবেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং চ্যানেলটির দুইটি ফ্লোর লকডাউন করা হয়। এছাড়া প্রথম আলো, এটিএন নিউজ, যমুনা টিভিসহ সর্বমোট প্রায় ১৯ টি প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিক আক্রান্ত হয়েছেন বলা জানা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংবাদিকদের পোস্ট ও আলোচনা থেকে।   

এমনটা হওয়ার বোধহয়  কথা ছিল। কেননা হাতে গোনা কয়েকটি বাদে বেশিরভাগ গণমাধ্যম করোনা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে ছিল। সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তার ব্যাপারে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতাও চোখে পড়েছে। এর স্পষ্ট উদাহরণ গত ২৫ মার্চ খালেদা জিয়ার মুক্তির দিনের ঘটনাটি।

যেখানে সারাবিশ্বে শারীরিক বা সামাজিক দূরত্বের মেনে চলার কথাটি বারবার উচ্চারিত হচ্ছিল, সেখানে সাংবাদিক ও ক্যামেরাপারসনদের গাদাগাদি করে সংবাদ ও ফুটেজ সংগ্রহ করতে দেখা গিয়েছে। এ ছাড়া প্রবাসীদের অবাধ বিচরণ ও হোম কোয়ারেন্টাইন না মানা এসব বিষয়ে প্রতিবেদন করতে গিয়ে টিভি সাংবাদিকেরা কোনো ব্যক্তিগত সুরক্ষা ছাড়া কাজ করেছেন।

এতে আক্রান্ত সাংবাদিকদের মধ্যে টিভি সাংবাদিকই বেশি সংখ্যায়। খুব অদ্ভুতভাবে দেখা গিয়েছে, প্রথম সারির সংবাদ ভিত্তিক টিভি চ্যানেল একাত্তর, যমুনা টিভির সংবাদকর্মীরা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেননি। অন্যদিকে কিছুদিন আগে সময় টিভি সাবেক ক্রিকেটার খালেদ মাসুদ পাইলটের সাক্ষাৎকার নেন খুবই অল্প দুরত্ব থেকে। কিন্তু ঐসময় খালেদ মাসুদের মুখে মাস্ক ছিল না।

এত তথ্য-কথা-মতের হেতু হলো গণমাধ্যমকর্মীদের করণীয় কি তা বের করা। গণমাধ্যমকর্মীদের উচিত কর্মক্ষেত্রে বা অফিসে গেলে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা। মাস্ক, গ্লাভস ও প্রয়োজনে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) পরা এবং নিরাপদ থাকার সাংবাদিকতার আন্তর্জাতিক সংগঠন গুলোর উপদেশাবলী এবং সাংবাদিকতার অন্যান্য শিষ্টাচারগুলো মানা। এসব ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া মানেই নিজের, পরিবারের ও সহকর্মীদের বিপদ ডেকে আনা। সাংবাদিকদের অধিকারের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে ভাল অবস্থানে থাকা দৈনিক পত্রিকাগুলোর মধ্যে ঢাকা ট্রিবিউন, ডেইলি স্টার, নিউ এজ এবং প্রথম আলো পুরোপুরি বাসা থেকে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছে তাদের কর্মীদের। এটা নিশ্চয়ই বাকিদের জন্য উদাহরণস্বরূপ এবং অনুকরণীয়।


আহমেদ শাতীল আলম

ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপির সাংবাদিকতার স্নাতক (মাস্টার্স) শিক্ষার্থী


প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রকাশিত লেখার জন্য ঢাকা ট্রিবিউন কোনো ধরনের দায় নেবে না।

55
50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail