• রবিবার, মে ০৯, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৮ সকাল

জিগম্যন্ট বাউম্যান: গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জ, প্রগতির মিথ, ও সামাজিক মাধ্যমের ফাঁদ

  • প্রকাশিত ১১:০৫ রাত এপ্রিল ১১, ২০২১
জিগম্যন্ট বাউম্যান
জিগম্যন্ট বাউম্যান। এএফপি

জিগম্যন্ট বাউম্যান এসময়কার একজন শক্তিশালী সমাজতাত্ত্বিক এবং দার্শনিক

জিগম্যন্ট বাউম্যান এসময়কার একজন শক্তিশালী সমাজতাত্ত্বিক এবং দার্শনিক। তিনি ১৯২৫ সালের নভেম্বর মাসের ১৯ তারিখে পোল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসের ৯ তারিখে ইংল্যান্ডে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৩৯ সালে জার্মানী পোল্যান্ড আক্রমন করার পটভূমিতে বাউম্যান এর পিতামাতা সোভিয়েত ইউনিয়নে আশ্রয় নেন। যুদ্ধ শেষে তিনি পোল্যান্ড ফিরে আসেন এবং ওয়ারসো

বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে তৎকালীন কম্যুনিস্ট সরকার বাউম্যানকে ইহুদিবিরোধী অবস্থান থেকে তার পদ ও বাড়ি থেকে উৎখাত করে ইসরায়েলে পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনার কিছু পরে ১৯৭১ সালে তিনি ইংল্যান্ডে এসে লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং ১৯৯০ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তার কাজ বর্তমান বিশ্বের নানা প্রান্তের অসমতা, গণতন্ত্রের ব্যার্থতা, প্রগতির ফাঁকাবুলির স্বরুপ উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ন মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

বাংলাদেশের সমসাময়িক বাস্তবতা বুঝতেও বাউম্যান এর দৃষ্টিভঙ্গী গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে যখন গণতন্ত্র, ব্যাক্তিগত স্বাধীনতা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেন্দ্রিক আলোচনা-সমালোচনা, উন্নয়ন ইত্যকার ধারণা সমকালীন সমাজ ও রাষ্ট্রে তুমুল আলোচিত ও সমালোচিত।

তাহলে দেখা যাক বাউম্যান ইত্যকার ইস্যুসমূহ নিয়ে কী মনোভাব পোষণ করতেন, যা তার কাজ ও কথার মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট হয়।

বাউম্যান ১৯৯০ সালে “তরল আধুনিকতা”র (লিক্যুইড মডার্নিটি) তত্ত্ব দিয়ে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। তরল আধুনিকতার তত্ত্ব আমাদের সময়কে বর্ণনা করে এমন একটা সময় হিসেবে যেখানে “সকল চুক্তি ক্ষণস্থায়ী, সাময়িক, এবং শুধুমাত্র পরবর্তী নোটিশ আসার আগপর্যন্ত বৈধ”। রাজনীতিকে তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন মানুষের প্রত্যাশা না মেটাতে পারার জন্য এবং একইসাথে ভবিষ্যত সমাজ নিয়ে তিনি অতিশয় নৈরাশ্যবাদীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। তিনি এই নৈরাশ্যবাদী অবস্থানের জানান দেন ২০১৪ সালে প্রকাশিত তার “ডাজ দি রিচনেস অব দি ফিউ বেনিফিট আস অল?” বইয়ের মাধ্যমে। এই বইতে তিনি মূলত যুক্তি দেন যে, সারা পৃথিবী ১৯৮০’র দশক থেকে শুরু হওয়া নব্য উদারনৈতিক বিপ্লবের মূল্য দিচ্ছে। কেননা এর মাধ্যমে শুধুমাত্র কতিপয় ব্যাক্তির সম্পদের পাহাড় গড়েছে এবং যেমনটা ভাবা হয়েছিলো যে সমাজের বাকি অংশ পুঞ্জীভূত সম্পদের ইতিবাচক ফলাফল ভোগ করবে তেমনটা বাস্তবে ঘটেনি। আদতে সমাজের বৃহৎ অংশে সম্পদের চুঁইয়ে পড়ার কোন নজির পরিলক্ষিত হয়নি। ফলে অসমতা বৃদ্ধি পেয়েছে আগের যেকোন সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। বাউম্যান তার সমালোচনার মধ্যে দিয়ে আধুনিক ব্যাক্তিকেন্দ্রীক সমাজ, গণতন্ত্র, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেন্দ্রিক তথাকথিত “কম্যুনিটি” ইত্যকার বিষয়াদিকে বিশ্লেষণ করেছেন।

সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি সন্দিহান ছিলেন। উপর্যুক্ত নানাবিধ বিষয় সম্পর্কে তার অবস্থান মৃত্যুর এক বছর আগে ২০১৬ সালে “এল পাইস” নামক স্প্যানিশ সংবাদপত্রে রিকার্ডো ডি ক্যুইরোল নামক প্রতিবেদকের কাছে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন। তার সাক্ষাৎকারটির চুম্বকাংশ এই লেখায় নিচে তুলে ধরছি-

প্রশ্ন: আপনি অসমতাকে বর্ননা করেছেন “সংক্রামক” (মেটাস্টেসিস) হিসেবে, তাহলে গণতন্ত্র কি হুমকির মুখে?

বাউম্যান: এই মূহুর্তে যা হচ্ছে তাকে আমরা গণতন্ত্রের সংকট হিসে

বে বর্ননা করতে পারি, গণতন্ত্রের প্রতি আস্থার পতন ঘটেছে। মানুষ বিশ্বাস করে আমাদের নেতারা শুধু দূর্ণীতিগ্রস্থ বা বোকাই নয়, একইসাথে অযোগ্য। কিছু করতে গেলে ক্ষমতার প্রয়োজন হয়, সে হিসেবে রাজনীতির দরকার আছে, কেননা রাজণীতি যা করা প্রয়োজন তারজন্য সিদ্ধান্ত গ্রহনের সক্ষমতাকে নির্দেশ করে। কিন্তু জাতিরাষ্ট্রের হাতে ক্ষমতা ও রাজনীতির এই বিয়ের অবসান হয়েছে। ক্ষমতার বিশ্বায়ন হয়েছে কিন্তু রাজনীতি রয়ে গেছে আগের মতই স্থানীয় পর্যায়ে। রাজনীতির হাতগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। মানুষ এখন আর গণতান্ত্রিক ব্যাবস্থায় ভরসা রাখতে পারছে না কারণ এটি তার দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো রাখেনি। উদাহরণস্বরুপ, আমরা এটির প্রকাশ দেখতে পাই অভিবাসন সংকটের মধ্যে দিয়ে। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা কিন্তু আমরা এখনো কাজ করছি খুবই সীমিত ও সঙ্কীর্ণ পরিসরে। আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ আন্তঃনির্ভরশীলতার প্রয়োজনীয়তার সাথে খাপ খাওয়ানোর মত করে গড়ে তোলা হয়নি। গণতন্ত্রের বর্তমান সংকট আদতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সংকট।

প্রশ্ন: স্বাধীনতা এবং সুরক্ষার মধ্যে দোল খাওয়া যে দোলকের কথা আপনি বলেছিলেন তা এখন কোনদিকে ঝুঁকে আছে বলে মনে করেন?

বাউম্যান: স্বাধীনতা এবং সুরক্ষার এমন দুটো মান যেগুলোর সম্মিলন ঘটানো অত্যন্ত কঠিন বিষয়। আপনি যদি অধিক সুরক্ষা চান তবে আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমান স্বাধীনতা পরিত্যাগ করতে হবে, আবার আপনি যদি অধিক স্বাধীনতা চান তবে আপনাকে সুরক্ষার বিষয়টি ছেড়ে দিতে হবে। এই দ্বিধা চিরকালই চলতে থাকবে। চল্লিশ বছর আগে আমরা স্বাধীনতার জয় হয়েছে বিশ্বাস করে ভোগবাদের এক মচ্ছব শুরু করি। বাড়ি, গাড়ি থেকে শুরু করে সবকিছুই সম্ভব মনে হচ্ছিলো লোন করার মধ্যে দিয়ে। আপনি শুধুমাত্র পরে পরিশোধ করলেই হবে। লোনগুলো শুকিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে, ২০০৮ সাল এই দিবাস্বপ্ন থেকে জাগরণের জন্য যে ডাক দিয়ে গেছে তা ছিলো ভীষণ তিক্ত এক অভিজ্ঞতা। এটা ছিলো এক ভয়াবহ বিপর্যয়, এর হাত ধরে যে সামাজিক পতন ঘটেছিলো তা বিশেষ করে মধ্যবিত্তদের কঠোরভাবে আঘাত করেছিলো। এটি তাদের এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে টেনে নামিয়েছে যে, যেখানে তারা এখনো রয়ে গেছে। তারা জানেনা যে তাদের কোম্পানী কি অর্থনৈতিক দৈন্যতার কারনে অন্য কোন কোম্পানির সাথে মিশে যাবে কিনা এবং তাদেরকে ছাঁটাই করা হবে কিনা। তারা জানে না তারা যা কিনেছে সেগুলো আসলেই তাদের কিনা। দ্বন্দ্ব এখন আর শ্রেণিসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ রইলো না, বরং প্রত্যেক ব্যাক্তির সাথে সমাজের দ্বন্দ্ব তৈরি হলো। এটি শুধুমাত্র আর সুরক্ষার ঘাটতি নয়, বরং স্বাধীনতারও ঘাটতি।

প্রশ্ন: আপনি বলেন যে, প্রগতি একটা মিথ, কারণ মানুষ আর বিশ্বাস করে না যে ভবিষ্যৎ অতীতের তুলনায় ভালো হবে।

বাউম্যান: আমরা আসলে দুই সময়ের মধ্যেকার একটা কাল পার করছি, একটা সময় আমাদের মধ্যে সবকিছুর বিষয়ে নিশ্চয়তা ছিলো আর অন্য একটা সময় যখন পুরনো কোন কিছুই আর কাজ করছে না। আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি না এই পরিস্থিতির বদলে কী ঘটবে। আমরা নতুন কাজ করবার তরিকাগুলো নিয়ে পরীক্ষা করছি কেবল। উদাহরণস্বরুপ, স্পেন ১৫ই মে আন্দোলনের মাধ্যমে বিষয়গুলোকে প্রশ্ন করার চেষ্টা করেছিলো, যখন মানুষ জনসাধারনের পরিসর দখল করে উন্মুক্ত বিতর্কের মাধ্যমে সংসদীয় প্রক্রিয়াগুলোকে এক ধরনের সরাসরি গণতন্ত্রের মাধ্যমে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু এটি বেশি দিন টেকেনি। কঠোর অর্থনৈতিক নীতিগুলো চলতে থাকবে, কেউই এগেুলোকে থামাতে পারবে না, কিন্তু এগুলোকে নতুন উপায়ে সম্পাদনের জন্য আন্দোলনগুলো কার্যকর হতেও পারে।

প্রশ্ন: আপনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, ১৫ই মে এবং বিশ্বব্যাপী হওয়া অকুপাই এর মতো আন্দোলনগুলো “কীভাবে পথ পরিষ্কার করতে হয় তা জানে, কিন্তু কীভাবে স্থায়ী কিছু তৈরি করতে হয় তা জানে না।"

বাউম্যান: এ ধরনের আন্দোলনগুলোতে দেখা যায় জনসাধারণ তাদের মধ্যকার ভিন্নতাগুলো পাশে সরিয়ে রেখে কিছু সময়ের জন্য একটা সাধারণ লক্ষ্যকে সামনে রেখে পরিচিত কিছু চত্ত্বরের সামনে জড়ো হয়। যদি সেই লক্ষ্য কারো প্রতি রাগ উগরে দেওয়ার মত নেতিবাচক লক্ষ্য হয় তবে আন্দোলন সফল হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। একভাবে আন্দোলনগুলো সংহতির একটা বিষ্ফোরন হতে পারে, কিন্তু সমস্যা হলো বিস্ফোরণগুলো হয় অত্যন্ত শক্তিশালী কিন্তু খুবই স্বল্প আয়ুর।

প্রশ্ন: কিন্তু স্পেনে ১৫ই মে আন্দোলন নতুন রাজনৈতিক শক্তি সৃষ্টিতে অবদান রেখেছিলো।

বাউম্যান: এক পার্টি ছেড়ে অন্য পার্টি বদল করা সমস্যার সমাধান করবে না। পার্টিগুলো যে ভুল তা নয় কিন্তু। সমস্যা হলো পার্টিগুলোর হাতে সবকিছুর নিয়ন্ত্রন থাকে না। স্পেনের সমস্যাগুলো বিশ্বব্যাপী সমস্যাগুলোর একটা অংশ। এটা ভাবা গুরুতর ভুল যে আপনি অভ্যন্তরীনভাবে সবকিছুর সমাধান করতে পারবেন।

প্রশ্ন: কাতালান স্বাধীনতা প্রকল্প নিয়ে আপনার ভাবনা কি?

বাউম্যান: আমি মনে করি আমরা এখনো ভার্সাইল চুক্তির নীতিগুলো অনুসরণ করছি, যেখানে প্রত্যেক জাতির স্ব-শাসনের অধিকার প্রতিষ্ঠিতি হয়েছিলো। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে যেখানে কোথাও আর সমজাতীয় ভূ-খণ্ডের অস্তিত্ব নেই সেখানে স্ব-শাসনের ধারণা এটা একটা কল্পকাহিনীর মত শোনায়। বর্তমানে প্রতিটি সমাজ ডায়াস্পোরাদের সংগ্রহশালায় পরিণত হয়েছে। মানুষজন যে সমাজগুলোর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে এবং কর দেয়, কিন্তু একইসাথে তারা তাদের পরিচয় বা সত্তা ছেড়ে দিতেও চায় না। আপনার সত্তা বা পরিচয়ের সাথে আপনি যেখানে বসবাস করেন তার যোগাযোগ এই সময়ে এসে ভেঙে গেছে। কাতালুনিয়ার পরিস্থিতিও স্কটল্যান্ড বা লম্বার্ডির মত আদিবাসী পরিচয় এবং নাগরিকত্বের দ্বন্দ্বকে সামনে নিয়ে আসে। তারা ইউরোপীয়ান, কিন্তু তারা ব্রাসেলস এর সাথে মাদ্রিদ হয়ে যোগাযোগ করতে চায় না, তারা চায় এই যোগাযোগটা হোক বার্সেলোনার মধ্যে দিয়ে। একইরকম যুক্তি প্রায় প্রতিটি দেশেই উদয় হচ্ছে। আমরা এখনো প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে বানানো নীতিগুলো অনুসরর করছি, কিন্তু ইতিমধ্যে বিশ্ব অনেক বদলে গেছে।

প্রশ্ন: মানুষজন যেভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায় আপনি সে বিষয়ে সন্দিহান, আপনি এগুলোকে তথাকথিত “আর্মচেয়ার এক্টিভিজম” হিসেবে অভিহিত করেন, এবং বলেন যে, ইন্টারনেট আমাদেরকে সস্তা বিনোদনে নিমজ্জিত করেছে। তাহলে কি আপনি বলবেন যে সামাজিক নেটওয়ার্কগুলো মানুষের জন্য নতুন আফিম হিসেবে কাজ করছে?

বাউম্যান: আপনার পরিচয়ের প্রশ্নটি এখন আর আপনার জন্মের সাথে সম্পর্কিত নেই। বরং, এটি এখন একটা কাজ। আপনাকে আপনার নিজের কম্যুনিটি বা সম্প্রদায় তৈরি করতে হয়। কিন্তু সম্প্রদায়সমূহ কখনো সৃষ্টি করা হয়নি, আপনি কোন সম্প্রদায়ে হয় থাকেন কিংবা থাকেন না। সামাজিক নেটওয়ার্কগুলো যা তৈরি করতে পারে তা হলো বড়জোর একটা বিকল্প। কিন্তু একটা নেটওয়ার্ক এবং একটা সম্প্রদায়ের মধ্যে পার্থক্য হলো আপনি কোন একটা সম্প্রদায়ে অন্তর্ভুক্ত থাকেন, যেখানে নেটওয়ার্ক আসলে আপনার হাতে থাকে, আপনার মালিকানায় থাকে। নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রন থাকে আপনার হাতে। আপনি চাইলে কাউকে আপনার বন্ধুতালিকায় স্থান দিতে পারেন আবার চাইলে কাউকে আপনার বন্ধুতালিকা থেকে মুছে দিতে পারেন। আপনি আপনার পছন্দ মোতাবেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিদের সাথে যুক্ত থাকেন। এর ফলে মানুষজন একটু ভালো বোধ করে, কারণ ব্যাক্তিকেন্দ্রিক এই সমাজে একাকিত্ব, নিঃসঙ্গতা, পরিত্যাক্ত হওয়ার ভয় বড় ভয়। কিন্তু ইন্টারনেটে বন্ধু যুক্ত করা এবং ছেটে ফেলা এতই সহজ যে মানুষ সত্যিকারের সামাজিক দক্ষতাসমূহ শিখতে ব্যার্থ হচ্ছে, যেগুলো আপনার দরকার হবে যখন আপনি রাস্তায় বা কর্মক্ষেত্রে যাবেন, যে জায়গাগুলোতে আপনি অনেক রকম মানুষ পাবেন যাদের সাথে আপনার বোধগম্য একটা মিথষ্ক্রিয়ার সম্পর্কে যেতে হবে। 

পোপ ফ্রান্সিস নির্বাচিত হওয়ার পর তার প্রথম সাক্ষাৎকারটি দিয়েছিলেন ইউজেনিয় স্কালফেরী নামক একজন ইতালীয়ান সাংবাদিককে, যে ছিলো একজন স্ব-ঘোষিত নাস্তিক। এটা ছিলো একটা নমুনা, সত্যিকারের সংলাপ বলতে কখনোই এমন ব্যাক্তির সাথে আলাপ বোঝায় না যার সাথে আপনার চিন্তা ও দর্শনের মিল আছে। সামাজিক মাধ্যম আমাদের সংলাপে যুক্ত হতে শেখায় না, কারন বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়া এখানে খুবই সোজা। বেশিরভাগ মানুষ সামাজিক মাধ্যম অন্যদের সাথে একত্রিত হওয়ার জন্য ব্যাবহার করেনা, কিংবা তাদের জানাশোনা পরিধির বিস্তারের জন্য ব্যাবহার করে না, বরং বিপরীতটাই তাদের আচরনে পরিলক্ষিত হয়, তারা নিজেদের এমন একটা সীমাবদ্ধ ও সঙ্কীর্ন পরিসেরে আবদ্ধ করে ফেলে যেখানে শুধুমাত্র তারা দেখতে চায় নিজেদের প্রতিচ্ছবি বা শুনতে চায় নিজেদের প্রতিধ্বনি। সংক্ষেপে বলতে গেলে তারা শুধুমাত্র নিজেদের প্রতিফলন দেখতে পায়। সামাজিক মাধ্যমগুলো আনন্দলাভের জন্য বেশ কাজের, তবে এগুলো একটা ফাঁদ।


মো. মিজানুর রহমান; সহকারী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা



50
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail