• সোমবার, জুন ১৪, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:২৮ দুপুর

ডিজিটাল কৃষি বদলে দিচ্ছে কৃষকদের জীবন

  • প্রকাশিত ০৯:১৫ রাত মে ১০, ২০২১
কৃষক-কৃষি
ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষক, ফাইল ছবি মেহেদী হাসান/ঢাকা ট্রিবিউন

প্রযুক্তিগত ব্যবহারে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য এসেছে। দেশের শিক্ষিত ও তরুণ সমাজও এখন নতুন করে কৃষি কাজের দিকে ঝুঁকে পড়ছে  

মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী গ্রামের ইসলাম জোয়ার্দার (৫৭) বিরি ধান যা জিংক ধান নামে পরিচিত সেই ধান উৎপাদন করে বদলে ফেলেছেন নিজের জীবন এবং তার চিন্তাধারাকে। তিনি বলেন, “পয়সার জন্য মালেয়শিয়ায় কাজ করেছি। সেখান থেকে যা আয় করতে পারিনি এখন সেই আয় জিংক ধান থেকে করতে পারছি। কয়েক বছর আগে আমি প্রচলিত পদ্ধতিতে আমাদের এলাকায় যে ধান আবাদ হয় সেই ধান উৎপাদন করতাম। কিন্তু অনেক পরিশ্রম করেও ভালো আয় হতো না। এখন জিংক ধান উৎপাদন করে এর তিনগুনের বেশি আয় করতে পারছি। সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে আমি ১০-১৫ লাখ টাকা আয় করি।” 

তিনি আর বলেন, “আমাদের দেশের গবেষকরা বিরি জাতের ৫টি জিংক ধান উৎপাদন করেছেন। এ ধানের জন্য উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি এবং যত্ন প্রয়োজন। কৃষিক্ষেত্র ডিজিটাল হওয়ায় এ ধান চাষ করতে তাই কোনো অসুবিধা হচ্ছে না এবং আমরা কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ব্যাপক সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছি। ” 

একই উপজেলার জটারপুর গ্রামের জিয়াউর রহমান (৩০) আইএ পাসের পর আরো পড়ালেখার ইচ্ছে থাকলেও দরিদ্র বাবাকে সাহায্য করার জন্য পড়ালেখা ছেড়ে চাষাবাদে মনযোগ দেন। জিয়াউর বলেন, “কৃষির বহু বিষয় ডিজিটাল হওয়ায় চাষাবাদ এখন কষ্টকর বা অবহেলিত পেশা নয়। বরং তরুণরা দিন দিন এ পেশায় এগিয়ে আসছে। এখন আমরা কৃষি বিষয়ক নানা ধরনের অ্যাপস ব্যবহার করে অনেক কিছু সহজে ও দ্রুত জানতে পারছি এবং সে অনুযায়ী কাজ করছি। আগে এক বিঘা জমিতে ২১-২২ মণ ধান উৎপাদন হতো, এ বছর আমি একই জায়গায় ৩১ মণ ধান পেয়েছি। আগে জানতাম না কীভাবে সারি করে কত দূরত্ব রেখে চারাগাছ লাগাতে হয় কিংবা বিভিন্ন পোকামাকড়ের আক্রমণ ও রোগব্যাধি হলে সঠিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারতাম না। এখন এসব জেনে বুঝে তা প্রয়োগ করতে পারছি।” 

ইসলাম বা জিয়াউরের কথার মাধ্যমে বোঝা যায় কৃষকরা ডিজিটাল হচ্ছেন। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে “এটুআই”য়ের প্রযুক্তিগত সাহায্য নিয়ে কৃষিকাজ এবং কৃষকদেরকে ডিজিটাল করার লক্ষ্য নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় বেশকিছু উদ্যোগ ও পদক্ষেপ নেয়। কৃষিক্ষেত্র ডিজিটাল হওয়ার জন্য তারা এটুআইকে পাইওনিয়র বলে উল্লেখ করেন। প্রযুক্তিগত পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে কৃষকের পরিশ্রম কমিয়ে কৃষি কাজকে সহজসাধ্য করার লক্ষ্যে সরকার ডিজিটাল মাধ্যমে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। ই-কৃষি বা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিছু কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আরো নতুন কিছু করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এতে কৃষি এবং কৃষকরা অনেক উপকৃত হচ্ছেন বলে কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন।

কৃষকের জানালা 

যে কোনো ফসলের পোকামাকড়জনিত রোগ, সারের ঘাটতিজনিত বা অন্যান্য রোগ হলে এর সমাধান বা পরামর্শের জন্য কৃষি কর্মকর্তাকে রোগাক্রান্ত ফসলের নমুনা দেখিয়ে রোগের লক্ষণের বিবরণ ব্যাখ্যা করে বোঝাতে হয়। এ পরিস্থিতির সহজ সমাধানের জন্য প্রধান ফসলগুলোর সমস্যার ছবি সংগ্রহ করে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তা ডাটাবেজে সাজানো হয়েছে। এখানে ছবি দেখে কৃষক বা কৃষি সেবাদানকারী কর্মকর্তা ফসলের সমস্যা চিহ্নিত করতে পারেন এবং ছবিতে ক্লিক করে সমস্যার বিবরণসহ সমাধান পান। এখানে ১২০টির বেশি ফসলের ১,০০০-এর বেশি সমাধান রয়েছে। যা অনলাইন বা অফলাইনের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়। কৃষকের জানালা উদ্যোগটি জাতিসংঘের তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত বিশেষায়িত সংস্থা আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) কর্তৃক ২০১৬ সালে ডব্লিউএসআইএস পুরুস্কার লাভ করেছে। 

বালাইনাশক নির্দেশিকা 

কোনো ফসল কোনো রোগ বা পোকামাকড়ে আক্রান্ত হলে কৃষকরা সাধারণত কীটনাশকের দোকানে গিয়ে দোকানদারের পরামর্শে কীটনাশক কেনেন। এতে তারা সঠিক কীটনাশক বাছাই করতে পারেন না এবং এর সঠিক মাত্রা সম্পর্কেও জানেন না। এজন্য তৈরি হয়েছে “বালাইনাশক নির্দেশিকা”। যার মাধ্যমে একজন কৃষক নিজে বা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মীর সাহায্যে তৎক্ষণাৎ ইন্টারনেটে ভিজিট করে সঠিক বালাইনাশকটি গ্রহণ করতে পারেন। এ অ্যাপ্লিকেশনটি বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই রয়েছে। এই অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে দেশে অনুমোদিত বালাইনাশকের পাশাপাশি কোন কোম্পানির কি কি বালাইনাশক বাজারে আছে এবং একটি গ্রুপের বালাইনাশক কোন কোন নামে ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানি বাজারজাত করেছে তাও জানা যাবে। 

কৃষি বাতায়ন

কৃষি বাতায়ন মূলত ই-কৃষি- যার মাধ্যমে দেশব্যাপী দ্রুত এবং সহজে কৃষি বিষয়ক যে কোনো তথ্য, পরামর্শ বা সেবা প্রদান করা হয়। এটি একটি চলমান প্রকল্প। এতে ইতোমধ্যে ৮২ লাখ কৃষকের ডাটা সংরক্ষণ করা হয়েছে। এটি কৃষক ও কৃষি বিষয়ক একটি সেন্ট্রাল ডাটাবেজ। সারা দেশের কোথায় কোথায় সার ও বালাইনাশকের দোকান রয়েছে এবং সেগুলোর নাম-ঠিকানা, ফোন নম্বরও এখানে রয়েছে। এখানে ৫,৫০০টি হাট-বাজারের তথ্য রয়েছে। এখান থেকে একজন কৃষক জানতে পারবেন তার আশেপাশে কোন কোন বাজার বা হাট রয়েছে এবং আজকে কোথায় কি বাজার বসবে তাও জানা যাবে। 

এখানে সারা দেশের কৃষিজমি, কোন এলাকায় কি ফসল উৎপাদন হয় এবং এসব ফসল কারা উৎপাদন করেন, কারা এসব কাজে কর্মরত তাদের ফোন নম্বরও আছে। জেলা, উপজেলা এবং কেন্দ্রীয়ভাবে বিভিন্ন কৃষি সংগঠনের নাম এবং কারা এর সাথে যুক্ত তাদের নাম ও ফোননম্বর রয়েছে। সরকার কৃষককে কোন সময় কেমন ভর্তুকি দিচ্ছে সেসব তথ্যও রয়েছে। নতুন যে সব রোগ আসছে সে সব সম্পর্কেও এখানে তথ্য থাকবে। এর আগে সরকার যে সব কৃষি পণ্য উৎপাদন করেছে সে বিষয়ে উৎপাদন পদ্ধতিসহ প্রয়োজনীয় সব কিছু রয়েছে। কৃষকরা কি কি প্রশিক্ষণ পেয়েছে, তাদের মোবাইল নম্বরসহ সবকিছু অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। থাকবে কৃষি বিষয়ক নানা তথ্য ও গল্প।   

কৃষকবন্ধু ফোন সেবা (৩৩৩১)

কৃষি বিষয়ক যে কোনো সেবা ও পরামর্শের জন্য সরকার কৃষকবন্ধু ফোনসেবার ব্যবস্থা করেছে। এলাকাভিত্তিকভাবে কৃষকগ্রুপ করা হয়েছে। এতে একজন কৃষক যখন ৩৩৩১ নম্বরে ফোন করেন তখন ঐ এলাকার কৃষি কর্মকর্তার কাছে কলটি দেয়া হয়। যাতে এলাকাভিত্তিক ভাষা কিংবা ফসল বা পোকামাকড়ের নাম ও সমস্যাগুলো তারা সহজে আলোচনা করে সমাধানে আসতে পারেন। এভাবে কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি) এবং বিভিন্ন কৃষিপণ্যের বাজারদরও জানা যাবে। ১৫ হাজার কর্মী প্রায় ২ কোটি কৃষককে সহজে এবং দ্রুত এ সেবা দিতে পারছে। 

কৃষি কল সেন্টার (১৬১২৩)

কৃষি কল সেন্টারের ১৬১২৩-এ ফোন করে বিনামূল্যে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (গবাদিপশু ইত্যাদি) বিষয়ে সমস্যার তাৎক্ষণিক বিশেষজ্ঞ সমাধান পাওয়া যাবে। 

কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র (এআইসিসি) স্থাপন

এটি তৃণমূল পর্যায়ে স্থাপিত কৃষকদের মাধ্যমে পরিচালিত একটি আইসিটিভিত্তিক তথ্যসেবা কেন্দ্র। যার মাধ্যমে কৃষকরা নিজেরা নিজেদের মধ্যে তথ্যসেবা গ্রহণ ও বিতরণ করছে। এর মাধ্যমে কৃষি বিষয়ক পরামর্শ অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ দ্বারা দেয়া হচ্ছে। দেশব্যাপী ৪৯৯টি তথ্যকেন্দ্র রয়েছে। 

কৃষি ও পল্লীঋণ সহজীকরণ

এটি একটি চলমান প্রকল্প। চট্রগ্রামে এটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে। প্রান্তিক চাষীদের কৃষিঋণে ভোগান্তি দূর করার জন্য কৃষি ও পল্লীঋণের প্রক্রিয়াকে অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রশিক্ষণও চলছে। এতে কৃষকদের আবেদন করা থেকে শুরু করে ঋণ বিতরণ কার্যক্রমকে অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এতে কৃষকরা ঋণের সুদের হারও জানতে পারবেন। এতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করতে এবং ঋণ অনুমোদিত হলে তারা এসএমএসের মাধ্যমে জানতে পারবেন। পাশাপাশি তারা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে সহজেই কৃষিঋণের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। 

এসব অ্যাপস, ওয়েবসাইট, কল সেন্টার ইত্যাদি বাস্তবে কৃষকদের কতটা কাজে লাগছে এবং তারা কি তা ব্যবহার করছে জানতে চাইলে মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান খান বলেন, “দুই-তিন বছর আগেও কৃষকরা ই-কৃষি বিষয়ে এতটা জানতো না। এখন তারা বিভিন্ন প্রযুক্তি এবং অ্যাপস ব্যবহার করে চাষাবাদ করছেন। যারা এ বিষয়ে জানেন না তারা অন্যদের কাছে বুঝিয়ে নেন। তারা ইউটিউব দেখেও অনেক কিছু শিখছেন। অনেকে জমিতে গিয়ে আমাদের ভিডিও কল দেন। ফসলের সমস্যাগুলো দেখান এবং পরামর্শ নেন।” 

তিনি আরো বলেন, “এখন আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টির সম্ভাবনার থাকলে আমরা কৃষকদের তা জানিয়ে দেই এবং ধান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তা কেটে ফেলতে বলি। আবার তাপমাত্রা বেশি হওয়ার সম্ভাবনার থাকলে তাদেরকে জমিতে পানি রাখতে বা সেচ দিতে বলি। এমনকি দু’একদিনের মধ্যে যদি ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে তাদেরকে ফসলে সার প্রয়োগ বা কীটনাশক প্রয়োগ করতে নিষেধ করি। কেননা এ সময় তা কোনো কাজে আসবে না।”  

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জনাব আজম উদ্দীনের কাছেও এ বিষয়ে আরো বড় কিছু জানা যায়। তিনি বলেন, “বর্ষা মৌসুমে হাওর অঞ্চলে ভারতের মেঘালয় থেকে হঠাৎ পানির ঢল এসে সবকিছু ডুবিয়ে দিত। এতে সেখানকার ফসল ব্যাপকভাবে নষ্ট হতো। কিন্তু গত বছর ‘বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্য পোর্টাল’ থেকে এ ঢলের বিষয়ে আগাম খবর জানতে পারি এবং ঘটনার ৯দিন আগে কৃষকদের ধান কাটতে বলি। এভাবে তারা বিরাট ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পায়।” 

তিনি আরও বলেন, “ব্যাংকে যেমন প্রত্যেক গ্রাহককে আলাদাভাবে চেনা যায় তেমনি আমরাও উদ্যোগ নিয়েছি যাতে প্রত্যেক কৃষককে আলাদাভাবে চেনা যায় এবং তাদের কী ধরনের চাহিদা বা প্রয়োজন রয়েছে তা যেনো আমরা জানতে পারি এবং সে অনুযায়ী তাদেরকে সেবা দিতে পারি। এ ধরনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। আগামীতে কৃষি জমির ম্যাপিং, ক্রপ ইন্সুরেন্স ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করার কথাও সরকার ভাবছে।”                             

কৃষির এই প্রযুক্তিগত ব্যবহারে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য এসেছে বলে জানান সাবেক তত্ত্বাবধায়ক  উপদেষ্ঠা এবং পিপিআরসি’র নির্বাহী পরিচালক হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, “গত কয়েক বছর দেশ কৃষিতে অনেক এগিয়েছে। ইদানিং কৃষিক্ষেত্রে সরকার যেভাবে ডিজিটাল সেবার ব্যবস্থা করেছেন তাতে কৃষি আরও এগিয়ে যাবে বহুদূর। আমাদের আভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও কৃষির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই কৃষিক্ষেত্রে আরও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং কৃষকদের জন্য ডিজিটাল সেবা আরও সহজ এবং সময়োপযোগী করতে হবে।”


প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রকাশিত লেখার জন্য ঢাকা ট্রিবিউন কোনো ধরনের দায় নেবে না

50
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail