• শনিবার, জুলাই ২৪, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪৬ দুপুর

শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের চালচিত্র

  • প্রকাশিত ১০:১৮ রাত জুন ৩০, ২০২১
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠে রাষ্ট্রের শিক্ষানীতিকে কেন্দ্র করে, সে বিবেচনায় কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ও ভাষা-সংশ্লিষ্ট শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠে রাষ্ট্র প্রণীত ভাষানীতিকে কেন্দ্র করে, কিন্তু বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের কোনো ভাষানীতি নেই

১. পূর্বকথা

আজ পহেলা জুলাই, ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ। শতবছর পূর্বে এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। সে হিসাবে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্ণ হলো। এই শতবর্ষ ধরে বিভিন্ন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা ও ভাষা-সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়। বিভিন্ন যুগপর্বে চালু করা এসব ভাষা ও ভাষা-সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কার্যক্রমকে একসঙ্গে সাজিয়ে দেখলে, আমাদের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভাষা শিক্ষা ব্যবস্থার চিত্র আমাদের সামনে পরিস্ফূট হয়। অধিকন্তু এই ভাষা ও ভাষা-সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কার্যক্রমগুলো থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিয়ার ভাষাচিন্তা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। 

কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠে রাষ্ট্রের শিক্ষানীতিকে কেন্দ্র করে।সে বিবেচনায় কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ও ভাষা-সংশ্লিষ্ট শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠে রাষ্ট্র প্রণীত ভাষানীতিকে কেন্দ্র করে। এখানে জানা প্রয়োজন যে, ভাষানীতি বলতে কী বুঝায়। ভাষানীতি হলো-রাষ্ট্রভাষা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা, ধ্রুপদী ভাষা ও বিদেশি ভাষা ইত্যাদি বিভিন্ন শ্রেণীর ভাষার গুরুত্ব অনুযায়ী গঠন, মর্যাদা ও প্রায়োগিকতা আরোপণ সম্পর্কিত নীতিমালা।কিন্তু বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের কোনো ভাষানীতি নেই। কিন্তু স্বায়ত্ত্বস্বাশিত বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ও ভাষা-সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কার্যক্রম চালুর সুযোগ ছিলো। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন ধাপে ভাষা ও ভাষা সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ইনস্টিটিউট গড়ে তুলে। বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠিত ভাষা ও ভাষা-সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ইনস্টিটিউট এবং বিভিন্ন সময়ে প্রবর্তিত নানা ভাষা ও ভাষা-সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কার্যক্রম মিলে শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্বিকভাবে যে ভাষা ও ভাষা-সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কার্যক্রম পরিস্ফূট তা এখানে তুলে ধরা হলো।

 .ভাষা ও ভাষা সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষাব্যবস্থার চালচিত্র

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ও ভাষা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার চালচিত্র তিনটিভাগে উপস্থাপন করা যেতে পারে:

 ..কলা অনুষদভুক্তভাষা ও ভাষা সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষাব্যবস্থার চালচিত্র

কলা অনুষদে ভাষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে পঠন-পাঠন হয়ে থাকে। কলা অনুষদের অন্তর্ভুক্ত ভাষা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো হলো-ভাষাবিজ্ঞানবিভাগ, বাংলা বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ, আরবি বিভাগ, সংস্কৃত বিভাগ, পালি ও বৌদ্ধ অধ্যয়ন বিভাগ, ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগএবংউর্দু বিভাগ। এই বিভাগগুলোর অধিকাংশই ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মলগ্নে প্রতিষ্ঠা করা হয়। শুরুতে বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগ একান্নবর্তী বিভাগ ছিলো।পরবর্তীতে সংস্কৃত ও পালি বিভাগএবং উর্দু ও ফার্সি বিভাগগুলো একান্নবর্তী বিভাগহিসাবেচালু ছিলো। এগুলো বিভিন্ন সময়ে আলাদা হয়ে বর্তমান ভাষাসংশ্লিষ্ট বিভাগে রূপ নিয়েছে। সর্বশেষ যে বিভাগটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, তা হলো-উর্দু বিভাগ, যা ২০০৭ সালে আলাদা বিভাগ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

এই বিভাগগুলোর কতকগুলোর নাম থেকে সহজে অনুমেয় যে, পালি ও বৌদ্ধ অধ্যয়ন বিভাগ এবং ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে যথাক্রমে পালি ভাষার সাথে বৌদ্ধধর্ম এবং ফার্সি ভাষার সাথে ফার্সি সাহিত্যের পঠন-পাঠন হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলা বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ, আরবি বিভাগ, সংস্কৃতবিভাগ ও উর্দু বিভাগে কী পঠন-পাঠন হয়ে থাকে, তা বিভাগের নাম থেকে পরিষ্কার নয়। কিন্তু এগুলোর পাঠ্যসূচী পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, বাংলা বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ, আরবি বিভাগ, সংস্কৃতবিভাগ ও উর্দু বিভাগে যথাক্রমে বাংলা সাহিত্য, ইংরেজি সাহিত্য, আরবি ভাষা ও ইসলাম ধর্ম, সংস্কৃত ভাষা ও বৈদিক ধর্ম এবং উর্দু ভাষা ও সাহিত্যের পঠন-পাঠন হয়ে থাকে।

 

৩.২. আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে ভাষা  ভাষাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষাব্যবস্থার চালচিত্র

আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট (আভাই) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে। কিন্তু ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠাকালে এর নাম ছিলো- বিদেশি ভাষা বিভাগ, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাথে একান্নবর্তী বিভাগ হিসাবে সামজিক বিজ্ঞান অনুষদের অঙ্গীভূত ছিলো। বর্তমান স্থানে নতুন শিক্ষাভবন স্থাপন করা হলে, বিদেশী ভাষা বিভাগকে ১৯৭৪ সালে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট (আভাই) নামে এই শিক্ষাভবনে স্থানান্তর করা হয়। আভাই-এর সংবিধি (5th Statutes of the Dhaka University, https://www.du.edu.bd/download/statutes/DU-6th-Statutes.pdf) অনুযায়ী এখানে আরবি, বাংলা (বিদেশিদের জন্য), বর্মী, চীনা, ইংরেজি, ফরাসি, জার্মান, হিন্দি, ইন্দোনেশীয়, ইতালীয়, জাপানি, মালয়, নেপালি, ফার্সি, রুশ, সিংহলি, স্পেনীয়, সোয়াহিলি, তামিল, থাই, তুর্কি এবং উর্দু ভাষার পঠন-পাঠন ও গবেষণা হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে আভাইতে ১৫টি ভাষার পঠন-পাঠন হয়ে থাকে। সাম্প্রতিকালে আভাইতে চীনা, ফরাসি ও জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষাক্রম চালুকরণের ফলে, বিদেশী ভাষার সাথে ভাষা বিজ্ঞান, সাহিত্য ও সংস্কৃতির পঠন-পাঠন শুরু হয়েছে।

 ৩.৩.অন্যান্য বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে ভাষা শিক্ষার চালচিত্র

 আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট (আভাই) ও কলা অনুষদভুক্ত বিভিন্ন বিভাগে ভাষা ও ভাষা সংশ্লিষ্ট বিষয় পঠন-পাঠনের বাইরেও, বিভিন্ন অনুষদ ও ইনস্টিটিউটে সীমিত পর্যায়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষাসহ কয়েকটি বিদেশী ভাষার পঠন-পাঠন হয়ে থাকে।তাছাড়া ১০০ নম্বরের বাংলা ও ইংরেজি ভাষার কোর্স বিভিন্ন বিভাগের পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ভাষা বিজ্ঞান বিভাগ, আন্তর্জাতিক ব্যবসা অধ্যয়ন বিভাগ, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটে ১০০নম্বেরর বিভিন্ন বিদেশী ভাষার কোর্স মূল পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 .ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ও ভাষা-সংশ্লিষ্ট শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নে করণীয়

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ও ভাষা-সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কিত উক্ত পর্যালোচনা থেকে একটি কথা স্পষ্ট হয়েছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ও ভাষা-সংশ্লিষ্ট শিক্ষাব্যবস্থাটি সুষ্ঠু ও যুগোপযোগী নয়। একটিসুষ্ঠু ভাষা শিক্ষাব্যবস্থায় ভাষাগত দক্ষতা অর্জনে সহায়ক ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম সন্নিবেশিত থাকে এবং একই সাথে এই ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমগুলো দেশজ, আন্তর্জাতিক ও ধ্রুপদী চর্চার নিয়ামক হিসাবে যুক্ত হয়। সেজন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ও ভাষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে হলে, আধুনিক শাস্ত্রীয়কার্যক্রমে সহায়ক একটি কোমল অবকাঠামো নির্মাণ করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, ‘ভাষা’ অভিধায় যত শিক্ষা কার্যক্রম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত হয়, তার মোটামুটি দু’টি দিক রয়েছে―১) ভাষাগত দক্ষতার দিক এবং ২) জ্ঞানীয়/শাস্ত্রীয় দিক।কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত ভাষা ও ভাষা-সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় এই দু’টি দিককেই উপেক্ষা করা হয়েথাকে। নিম্নে বিষয়টির পর্যালোচনা পূর্বক, এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় বর্ণনা করা হবে। 

 ৪.১.ভাষাগত দক্ষতার দিক

ভাষাগত দক্ষতা কয়েকটি ক্রমোচ্চ ধাপে বিভক্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত অনেকগুলো ভাষা- ইংরেজি, জার্মান ও জাপানিইত্যাদি ভাষার দক্ষতার মান নির্ধারণে প্রমিত মানদণ্ড রয়েছে। ইংরেজি ভাষার দক্ষতা নিরূপণে সহায়ক প্রমিত মানদণ্ডের মধ্যে রয়েছে- IELTS ওToEFL। কিন্তু আমাদের জাতীয় ভাষা বাংলা ভাষার দক্ষতার মান নিরূপককোনো মানদণ্ড নেই। কিন্তু উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমটি অনুষ্ঠিত হতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েরই যথেষ্ট ভাষাগত দক্ষতা প্রয়োজন। কারণ জ্ঞানের আধার হলো ভাষা। ব্যক্তিবিশেষের জ্ঞান ভাষার কাঠামোতে পরিব্যপ্ত থাকে। কাজেই, শিক্ষক নিয়োগে, শিক্ষার্থী ভর্তিতে এবং পরীক্ষা পদ্ধতিতে ভাষাগত দক্ষতার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া উচিত।

 ৪.১.১.শূন্য থেকে ভাষা শিক্ষায় ভাষাগত দক্ষতার উপযোগিতা

পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হয়েছে যে, বিভিন্ন অনুষদভুক্ত কতকগুলো বিভাগ ও আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে শুন্য থেকে ভাষাগত দক্ষতা অর্জন উপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে। এসব ভাষার মধ্যে রয়েছে- i) প্রতিবেশী দেশসমূহের বিদেশি ভাষা: উর্দু ও হিন্দি, এবং ii) দূরদশসমূহের বিদেশি ভাষা: জাপানি, চীনা, জার্মান, তুর্কী, রুশ ও ফরাসি ইত্যাদি। এসব ভাষা কর্মক্ষেত্রে ব্যবহারে বা জ্ঞানার্জনের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করতে হলে, ভাষাগত দক্ষতার প্রয়োজন হয়। বিদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানই লোকবল নিয়োগে বা শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতায় ছাড় দেয় না। সেজন্য তারা বাংলাদেশের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কোনো সুযোগ দিতে- উভয়েরই ভাষাগত দক্ষতাকে বিবেচনায় নিয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়টি আমলে নেওয়া হয় না। ফলে আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থায় উদ্দীষ্ট ভাষাগতদক্ষতা জন্মায় না। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব বিভাগে বিদেশি ভাষার পাঠ দেওয়া হয়, তার অধিকাংশেরই পাঠ্যক্রমে ১টির বেশি বিদেশি ভাষা কোর্স নেই। কিন্তু ভাষাগত দক্ষতার মানদণ্ডে, যেমন- Common European Framework for Reference (CEFR),যাপ্রায়সব শিক্ষাবিদই অনুসরণ করে থাকেন, ভাষাগত দক্ষতার ৬টি ধাপের কথা বলা হয়েছে। এর প্রথম ধাপটি কৃতকার্যভাবে অতিক্রম করতে ১৫০ ঘণ্টার ক্লাস ও তার দ্বিগুণ সময় স্ব-অধ্যয়নের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই ধাপ অতিক্রমকারীরা কেবলই অভিযোজনমূলক দক্ষতা অর্জন করতে পারে। সে অর্থে ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে শুধুমাত্র নিম্নতম ভাষাগত দক্ষতা গঠন উপযোগী কোর্স প্রবর্তন করতেহলে, ১০ ক্রেডিট-এর সমান কোর্স প্রবর্তন করা দরকার। কিন্তু একটি ভাষাকে মোটামুটি রপ্ত করতে হলে, প্রায় ৪০ ক্রেডিট-এর সমপরিমাণ কোর্স প্রদান করা প্রয়োজন। তবে ভাষা বিজ্ঞান বিভাগ, বাংলা বিভাগ, আরবি বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ বা আভাই-এরযেসববিভাগেভাষা বিজ্ঞান পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, সেখানে ১/২টি বিদেশি ভাষা কোর্স ভাষা বিজ্ঞানে ব্যুৎপত্তি সৃজনে সহায়ক হতেপারে, তবেভাষাগতদক্ষতাজন্মাবেনা। কাজেই উক্ত বিভাগ ব্যতীতঅন্যান্য বিভাগ বা ইনস্টিটিউট, যেমন- ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটে ১টি কোর্সের মাধ্যমে, ভাষা শিক্ষাদানের যে কার্যক্রম চালু রয়েছে, তা অর্থহীন।

 সেজন্য শূন্য থেকে ভাষা শিক্ষায় ভাষাগত দক্ষতা বিষয়ক শিক্ষা কার্যক্রম সুচারুরূপে পরিচালনা করতেশিক্ষক নিয়োগে, শিক্ষার্থী ভর্তিতে এবং পরীক্ষা পদ্ধতিতে ভাষাগত দক্ষতার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া উচিত।

 ৪.১.২.দক্ষতাপুষ্ট ভাষায় ভাষাগত দক্ষতার উপযোগিতা

শিক্ষার্থীদেরঅনেকেই বাংলা, ইংরেজি, আরবি ও উর্দু-এ ৪টি ভাষায় ভাষাগত দক্ষতা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে থাকে। এর মধ্যে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতাটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীগণ লাভ করে থাকে শূন্য থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষাকার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। কিন্তু এই ভাষা দু’টির ১০০ নম্বরের ভাষাগত দক্ষতা বিষয়ক শিক্ষা কার্যক্রম অনেক বিভাগের পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অথচ, বিদ্যালয়পর্যায়ে ১২ বছর একটানা বাংলা ও ইংরেজি শেখার পর ১০০নম্বরের বাংলা ও ইংরেজি কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি দক্ষতায় কিছুই যোগ হয় না। তা সত্ত্বেও আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে (আভাই) শূন্য থেকে শুরু হওয়া বিদেশি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য পরিচালিত জুনিয়র/সিনিয়র সার্টিফিকেট কোর্সের কাঠামোটিকে ব্যবহার করে ইংরেজি ভাষা কোর্স প্রদান করা হচ্ছে। তার অর্থ হলো-একজন শিক্ষার্থী নিজ বিভাগ ও আভাই-এই দুই বিভাগে ইংরেজি পড়ছে। এই ব্যবস্থাটি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মূলনীতির পরিপন্থী। এই ধরনের বাংলা ও ইংরেজি মূলতবিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ। কাজেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালবে ১০০/২০০ নম্বরের বাংলা/ইংরেজি শিক্ষা কার্যক্রম ব্যয়সাপেক্ষ, কিন্তু অর্থহীন।

 ৪.১.৩.শিক্ষার মাধ্যম হিসাবে ভাষাগত দক্ষতার উপযোগিতা

 যে সব দেশে উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে, সেসব দেশে ভর্তি পরীক্ষায় যেসব প্রবণতা পরীক্ষা (Aptitude Test)পরিচালনা করা হয়, তার অর্ধেকের মতো অংশ থাকে ভাষাগত দক্ষতা নিরূপক বিষয়বস্তু। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ভর্তির ক্ষেত্রে বাংলা বা ইংরেজিতে দক্ষতা নিরূপক কোনো প্রবণতা পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় না। একইভাবে শিক্ষক নিয়োগে প্রার্থীর ভাষাগত দক্ষতা নিয়োগের শর্ত হিসাবে আমলে নেওয়া হয় না। কিন্তুশিক্ষক নিয়োগে ও শিক্ষার্থী ভর্তিতে ভাষাগত দক্ষতা নিরূপক পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যে সব বিভাগে ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, সেসব বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থী ভর্তিতেToEFL-এর মত কোন পরীক্ষা পদ্ধতির প্রবর্তন করা প্রয়োজন। তা না হলে শিক্ষা কার্যক্রম সুচারুরূপে পরিচালিত হবে না। জ্ঞানচর্চা ব্যহত হবে। বাস্তবে এখন তাই হচ্ছে।

 ৪.২.জ্ঞানীয়/শাস্ত্রীয় দিক

 ভাষা সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ভাষা বহির্ভূতবিভাগ-এই উভয় প্রকার বিভাগেই কোনো একটি ভাষার মাধ্যমে একটি জ্ঞানীয় বা শাস্ত্রীয় বিষয়পড়ানো হয়। কাজেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থী- এই উভয়েরই নিশ্চিত ভাষাগত দক্ষতা থাকলে, শিক্ষাব্যবস্থায়জ্ঞানীয়/শাস্ত্রীয় কার্যক্রম সুচারুরূপে পরিচালিত হয়।কিন্তুপ্রয়োজনীয় ভাষাগত দক্ষতানা থাকলে জ্ঞানীয়/শাস্ত্রীয় কার্যক্রম ব্যহত হয়। কিন্তু ভাষা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতেশিক্ষক ও শিক্ষার্থী-এই উভয়েরই উচ্চ পর্যায়ের ভাষাগত দক্ষতা না থাকায়, এসব বিভাগেরশিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগের কারণ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভাষা সংশ্লিষ্টবিভাগগুলোতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতার মান কীরূপ তা স্পষ্ট নয়। এর কারণশিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থী মূল্যায়নে ভাষাগত দক্ষতা পরিমাপক প্রমিত মানদণ্ড ব্যবহারনা করা। এসব বিভাগে জ্ঞানীয়/শাস্ত্রীয় কার্যক্রমের বিষয়টিও অস্পষ্ট।কিন্তু একটি ভাষা সংশ্লিষ্ট বিভাগে জ্ঞানীয়/শাস্ত্রীয়শিক্ষা কার্যক্রমের পরিধি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়টি স্পষ্ট করতে একটি ছক ব্যবহার করা হলো-



উক্ত ছকটিতে ভাষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্নবিভাগে জ্ঞান/শাস্ত্র চর্চার পরিধি সম্পর্কিত একটি অসম্পূর্ণ চিত্রপ্রতিভাতহয়েছে। বিভিন্ন বিভাগে কী কী বিষয়ে জ্ঞান/শাস্ত্র চর্চা হয়ে থাকে, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করতেহলে একটি জরিপের প্রয়োজন হবে।

এ ছকটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ ভাষা ও ভাষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের জ্ঞান/শাস্ত্রচর্চার চালচিত্র সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা নেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এখানে প্রদর্শিতভাষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের জ্ঞান/শাস্ত্র চর্চার চালচিত্র থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে সামগ্রিকভাবে যুগোপযোগী জ্ঞান/শাস্ত্র চর্চাসহায়ককোমল অবকাঠামোরঅনুপস্থিতিরয়েছেবলেজানান দেয়। কিন্তু ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহে জ্ঞান/শাস্ত্রচর্চার বিষয়বস্তু হিসাবে নিচের বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

 ৪.২.১. বাঙ্গালি সভ্যতা ও সংস্কৃতিশাস্ত্র

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাঙ্গালি জাতির সভ্যতা ওসংস্কৃতি সম্পর্কে পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে চারুকলা অনুষদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ও কলা অনুষদের কয়েকটি বিভাগে পঠন-পাঠন হয়ে থাকে। কিন্তু বঙ্গবিদ্যা বিষয়ক জ্ঞান/শাস্ত্র চর্চারবিষয়টি এই বিভাগগুলোতে সার্বিকভাবে পঠন-পাঠন হয় না। তবে, বর্তমান বাংলা বিভাগে এর কিছুটাপঠন-পাঠন হয়ে থাকে। কিন্তু বিভাগের নাম ‘বাংলা’ থাকায় এ বিভাগের জ্ঞান/শাস্ত্র চর্চারবিষয়টি উহ্য থাকে। কিন্তু এই বিভাগে বঙ্গবিদ্যার পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতেপারে এবং সে অনুসারে বিভাগের নামও পরিবর্তন করা যেতে পারে।

 ৪.২.২. ধ্রুপদী শাস্ত্র

বাঙ্গালি জাতির একটি হিরন্ময় অতীত রয়েছে।এই অতীত হলো বাঙ্গালি জাতির সভ্যতা ও ঐতিহ্য। বাঙ্গালি জাতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নির্মাণেঅতীতকে জানা প্রয়োজন। অতীতকে জানা মানে হলো ধ্রুপদী চর্চা প্রবৃত্ত হওয়া। কিন্তু বাঙ্গালি জাতির সভ্যতাও ঐতিহ্যের প্রায় সবকিছুই লিখিত হয়েছে-সংস্কৃত, পালি, ফার্সি ও তিব্বতি ভাষায়। তাইসংস্কৃত, পালি, ফার্সি ও তিব্বতি ইত্যাদি ধ্রুপদী ভাষা বিভাগকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ধ্রুপদী শাস্ত্র চর্চার অবকাঠামোকে এমনভাবে গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেন দেশে ধ্রুপদী চর্চার একটি আবহ সৃষ্টি হয়। উল্লেখযোগ্য, যে, বাঙ্গালি জাতি পালি ভাষার উত্তরাধিকার প্রাপ্তজাতি। কাজেই এই ভাষাকে রক্ষা করার দায়িত্ব বাংলাদেশের ওপর বর্তায়।

 ৪.২.৩. বিদেশ বিদ্যা বা আঞ্চলিক বিদ্যাচর্চা

 বিশ্বায়নের যুগে বিশ্বায়নের সুবিধানিতে, বাংলাদেশে আঞ্চলিক বিদ্যা/বিদেশ বিদ্যা বিষয়ে জ্ঞানসম্পন্ন অনেকগুলো চিন্তকবর্গ (Thinktank) গড়ে তোলা প্রয়োজন। সেজন্য, বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্ত ভাষা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে আঞ্চলিক বিদ্যা/বিদেশ বিদ্যা বিষয় জ্ঞানচর্চা সহায়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। সেলক্ষ্যে আরবি, উর্দু, ফার্সি বিভাগ এবং আভাই-তে এ বিষয়ে জ্ঞান চর্চার সুযোগ সৃষ্টিকরা যেতে পারে। তাছাড়া, জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ইংরেজি বিভাগসমূহের জ্ঞানচর্চার রেওয়াজকে উদাহরণ হিসাবে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ইংরেজি বিভাগটির কোমল অবকাঠামো ঢেলে সাজানো যেতে পারে। 

উল্লেখ্য যে, জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে যেসব দেশের রাষ্ট্রভাষাও দাপ্তরিক ভাষা ইংরেজি, সেসব দেশ (যেমন-কেনিয়া ও নিউজিল্যণ্ড) কেন্দ্রিক আঞ্চলিক বিদ্যা/বিদেশবিদ্যা সম্পর্কিত বিষয়ের পঠনপাঠন হয়ে থাকে। জাপানের এই উদাহরণকে সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগকে কেন্দ্র করে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ বিষয়ক জ্ঞানচর্চার কোমল অবকাঠামো গড়ে তোলা যেতে পারে।

 ৪.২.৪. ভাষা শিক্ষাদান পদ্ধতিবিষয়কচর্চা

বিদ্যালয় পর্যায়ে যেসব ভাষার পঠন-পাঠনহয়ে থাকে, সেসব ভাষায় শিক্ষাদানে দক্ষ শিক্ষক সৃষ্টির জন্য ভাষা শিক্ষাদান পদ্ধতি সম্পর্কিতফলিত বিদ্যা চর্চার অবকাঠামো প্রয়োজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ইংরেজি শিক্ষাদান পদ্ধতি বিষয়কপঠন-পাঠন হয়ে থাকে আভাই-তেও ইংরেজি বিভাগে। আভাই-তে TESOL (নিয়মিত) ও ELT (অনিয়মিত) নামের দু’টি ভিন্নপ্রোগ্রাম চালু রয়েছে, যেখানে ইংরেজি ভাষা শিক্ষাদান সম্পর্কিত বিষয়ে পঠন-পাঠন হয়ে থাকে। অথচ আমাদের দেশে বিদ্যালয় পর্যায়ের পাঠ্যসূচীতে বাংলা, আরবি, ইংরেজি, সংস্কৃতও পালি ভাষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাছাড়া কিছু মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ফরাসি, জাপানি, চীনা ও মালয় ইত্যাদি বিদেশি ভাষার শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। সেজন্য এসব বিদেশি ভাষার প্রত্যেকটির জন্যই ভাষা শিক্ষাদানবিষয়ক ফলিত জ্ঞান চর্চার প্রয়োজনীতা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ইংরেজি ছাড়া অন্য কোনো ভাষারশিক্ষাদান পদ্ধতি সম্পর্কিত জ্ঞানচর্চার সুযোগ নেই। কাজেই জাতীয় চাহিদার কথা বিবেচনাকরে বাংলা, আরবি, ইংরেজি, সংস্কৃত ও পালি ভাষায় এবং ফরাসি, জাপানি, চীনা ও মালয় ইত্যাদি বিদেশি ভাষায় শিক্ষাদান বিষয়ক জ্ঞানচর্চার কোমল অবকাঠামোগড়ে তোলা প্রয়োজন।এই শিক্ষাদানবিষয়ক শিক্ষাকার্যক্রমের উপযুক্ত স্থান হতে পারে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট। 

 উপসংহার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষে পদার্পণ করেছে। এই শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা ও ভাষা-সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তৃতি ঘটেছে বটে, কিন্তু এই বিস্তৃতিতে যে ভাষার স্বরূপ সম্পর্কে অজ্ঞতার ছাপ রয়েছে। এই অজ্ঞতাটির সূত্রপাত হয়েছে “ভাষা হলো সংজ্ঞাপনের মাধ্যম” শীর্ষক ধারণাকে পুঁজি করে। কিন্তু আদতে ভাষা কেবলমাত্র সংজ্ঞাপনের মাধ্যম নয়। বরং ভাষা হলো একটি সংযুতি প্রসূত সংজ্ঞাপনের মাধ্যম যা প্রেক্ষাপটভেদে নানারকম প্রভাবক হিসেবে অবতীর্ণ হয়। বরং জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে ভাষা হলো―ক) বৃহত্তর জাতীয় সমাজে আত্তীকরণের মাধ্যম, খ) সামাজিকীকরণের মাধ্যম, গ) জাতীয়তাবাদের প্রতীক, ঘ) সভ্যতার বাহন, ঙ) সামাজিক সম্পদ ও চ) সাংস্কৃতিক সম্পদের নিয়ামক।

অপরপক্ষে, সাম্রাজ্যবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে ভাষা হলো―ক)ভাষিকসাম্রাজ্যবাদেরহাতিয়ার, খ) অন্যের সংস্কৃতিকে কলুষিত করার হাতিয়ার এবং গ) অন্যদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে পরাধীন করার হাতিয়ার বিশেষ। ভাষার এই বহুমূখী উপযোগিতাকে বিবেচনায় নিয়ে ভাষা ও ভাষা সংশ্লিষ্ট বিদ্যা সম্পর্কিত জ্ঞানচর্চার অবকাঠামো উন্নয়ন করা প্রয়োজন। সে অনুসারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমানভাষা ও ভাষা সংশ্লিষ্ট বিভাগ/ইনস্টিটিউটগুলোর শিক্ষা-প্রশাসনের পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।


 ড. এ বি এম রেজাউল করিম ফকির, অধ্যাপক, জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতিবিভাগ, পরিচালক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূতপূর্ব গবেষণা ফেলো, জাপান রাষ্ট্রভাষা ইনস্টিটিউট, ভূতপূর্ব অভ্যাগত শিক্ষক, টোকিও বিদেশবিদ্যা বিশ্ববিদ্যালয়


  প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রকাশিত লেখার জন্য ঢাকা ট্রিবিউন কোনো ধরনের দায় নেবে না 


 

50
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail