• রবিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০৪ বিকেল

শিল্পবিপ্লবের সেকাল-একাল

  • প্রকাশিত ০৫:৫২ সন্ধ্যা অক্টোবর ১১, ২০২১
শিল্প বিপ্লব

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের মাত্রা আরও একধাপ এগিয়ে নিতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ঘটতে যাচ্ছে বা ঘটে গেছে বললেও ভুল হবে না। তবে কী কী নিয়ামকের মাধ্যমে আমরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লব নির্ধারণ করছি

“শিল্পবিপ্লব” শব্দটি শুনলেই তৎক্ষণাৎ আমাদের মাথায় বড় কোনো বিদ্রোহের আভাস চলে আসে। বিদ্রোহ যেমন অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের জন্য নতুন কিছু এনে দেয়, ঠিক তেমনি শিল্পবিপ্লবের বিভিন্ন ধাপেও আমরা পেয়েছি পৃথিবী বদলে দেওয়া নানা আবিষ্কারের দেখা। 

প্রথম শিল্পবিপ্লব ঘটে ইংল্যান্ডে ১৮ শতকের শেষার্ধে প্রায় । বাষ্পীয় ইঞ্জিনের আবিষ্কার বদলে দেয় মানুষের চিন্তার ধরন, সহজতর করে শক্তির যোগান ও শিল্প কারখানার উৎপাদনে আনে গতি। বাষ্পীয় ইঞ্জিন ১৭৬০ সালে আবিষ্কৃত হলেও এখন অবধি তার ব্যবহার সর্বত্র। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিশেষভাবে এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। এই ইঞ্জিনটিতে পানি থেকে সৃষ্ট জলীয় বাষ্প ব্যাবহারের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করা হয় পিস্টনে। যেহেতু পানি ১৬০০ গুণ পর্যন্ত আয়তনে বৃদ্ধি পেতে পারে তাই বাষ্পীয় ইঞ্জিন তৈরিতে পানির ব্যবহার সর্বজনস্বীকৃত।

প্রথম শিল্পবিপ্লবের হাত ধরেই মূলত দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবের আগমন। ১৮৭০ সালে আবিষ্কৃত হয় বিদ্যুৎ। বিদ্যুতের আবিষ্কার তৎপরবর্তী পৃথিবীর সকল আবিষ্কারের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল। বিদ্যুতের আবিষ্কারের পর তার পূর্ববর্তী আবিষ্কারগুলোরও আধুনিকায়ন শুরু হয় বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে। এভাবেই বিদ্যুতের আবিষ্কার দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবের সূচনা করে।

বিদ্যুতের ছোঁয়ায় আবিষ্কারে আসে নতুন জোয়ার। তারই ফলশ্রুতিতে ১৯৬০ সালে আসে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের আগমন এবং ঘটে তৃতীয় শিল্পবিপ্লব। কম্পিউটারই মূলত বদলে যাওয়া পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু ও ইন্টারনেট তার সংযোগ সড়ক। তবে তখনও তেমনভাবে কোনটিরই প্রসার ঘটেনি কিন্তু মূল ভাবনা ও বাস্তবায়ন তখনই হয়েছিল। 

সময়ের আবর্তনে বর্তমানে সেই কম্পিউটারেরই উন্নত সংস্করণ তথা সুপার কম্পিউটার মহাকাশ গবেষণায় রাখছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আর গবেষণালব্ধ তথ্য পৃথিবীতে ও স্পেস স্টেশনে পৌঁছে দিচ্ছে জালের মতো বিস্তৃত ইন্টারনেট।

বর্তমানে আমরা পূর্ববর্তী সব শিল্পবিপ্লবের সুবিধাভোগী। ইন্টারনেট, কম্পিউটার, ইঞ্জিন, ইলেকট্রিসিটি সহ আরও হাজারো প্রযুক্তিতে আমরা আচ্ছাদিত হয়ে আছি। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের মাত্রা আরও একধাপ এগিয়ে নিতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ঘটতে যাচ্ছে বা ঘটে গেছে বললেও ভুল হবে না। তবে কী কী নিয়ামকের মাধ্যমে আমরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লব নির্ধারণ করছি!  

- আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স: এটি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের  অন্যতম প্রধান একটি আবিষ্কার। যার মাধ্যমে কম্পিউটার বা অন্যান্য সফটওয়্যার কথা শুনতে, বুঝতে ও প্রসেস করতে সক্ষম। প্রদত্ত প্রোগ্রামিংয়ের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্তও নিতে সক্ষম ব্যবহৃত সিস্টেমগুলো।

- ইন্টারনেট অব থিংস: ধরুন আপনার বাসায় এমন একটি সমস্যার উদ্ভব ঘটল, যার সমাধান বাজারে বিদ্যমান কোনো যন্ত্রের নেই। হতে পারে, আপনি চাচ্ছেন যেন আপনার বাসার পাখাটি, রুমে কারও উপস্থিতি না থাকলে পাঁচ মিনিট পর যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে আপনার নিজের মতো করে প্রোগ্রামিং করে সেটি করা সম্ভব। এমন উদ্ভূত হাজারো সমস্যার সমাধান সম্ভব ইন্টারনেট অব থিংস ব্যবহারের মাধ্যমে। এর একটি স্লোগান হতে পারে এরকম যে, “আপনার সমস্যা ও আপনার দ্বারাই সমাধান”। তবে এসব সমস্যা সমাধানে বা বাস্তবায়নে আপনাকে কোনো প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজে পারদর্শী হতে হবে না। বর্তমানে বিল্ট ইন ও ইউজার ফ্রেন্ডলি সফটওয়্যারগুলো আপনার স্বাভাবিক লেখাগুলোকে কনভার্ট করে নির্দিষ্ট ল্যাংগুয়েজে নিতে সক্ষম। ফলে ভাষার সমস্যায় ও পড়তে হলো না, একই সঙ্গে আপনার সমস্যারও সমাধান হয়ে গেল।

- ক্লাউড কম্পিউটিং: আমরা গত কয়েকবছর আগেও হার্ডডিস্ক ব্যতীত ডাটা সংরক্ষণের অন্য কোনো মাধ্যম চিন্তা করতে পারতাম না। পর্যাপ্ত স্টোরেজ না থাকার দরুণ  হাজারো ফাইল হারিয়ে যেত এবং কখনওবা হার্ডডিস্ক নিজেই হয়ে পড়ত অচল। যাকে প্রতিস্থাপন করে তার জায়গা নিয়েছে ক্লাউড সিস্টেম। এক্ষেত্রে কোনো হার্ডডিস্ক ছাড়াই আমরা হাজার হাজার টেরাবাইট পর্যন্ত ডাটা সংরক্ষণ করতে পারছি, সম্পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে। খরচও অনেক কম, কখনওবা বিনামূল্যে! যার ফলে ডাটা সুরক্ষা ও ডাটার তড়িৎ ব্যাবহার বহুলাংশে বেড়েছে। 

শিল্পবিপ্লব আপাতদৃষ্টিতে খুব ভালো ঠেকলেও আসুন এর ওপিঠটাতেও একটু নজর দেই।

শিল্পবিপ্লবে দুইটি পক্ষ দৃশ্যমান। একটি পক্ষ যুদ্ধে বিজয়ী আরেকটি পরাজিত। তবে এই যুদ্ধের ভয়াবহতার সঙ্গে বাস্তবিক যুদ্ধের পার্থক্য হলো- এই যুদ্ধে ধ্বংস শুরু হয় ধীরে ধীরে,সময় নিয়ে। হয়ত যুদ্ধের মঞ্চে কেউ মৃত্যুবরণ করছে না কারণ তাদের যুদ্ধটা যে আজীবনের! তাদের যুদ্ধের মরণফাঁদ তো গুলি নয়, তীরও নয়। কিন্তু এই অস্ত্র বড়ই বিষাক্ত ও প্রাণঘাতী। উপকূলবর্তী দেশগুলো এবং আফ্রিকার দেশগুলো বিশেষভাবে এই পরাজিত পক্ষে পড়ে গেছে।  উন্নত দেশগুলোর উন্নয়নের সঙ্গে সমানুপাতিকভাবে তাদের জীবনধারণ কঠিনতর হচ্ছে। এই তো কদিন আগেই খবরের কাগজের শিরোনাম হলো “মাদাগাস্কারে বৃষ্টির অভাবে দেখা দিচ্ছে খরা ও দুর্ভিক্ষ”।

শিল্পবিপ্লব শুধু শিল্পের বিকাশ যে ঘটাচ্ছে এমন কিন্তু নয় বরং ক্রমেই পৃথিবীকে ঠেলে দিচ্ছে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। উন্নত দেশগুলোর শিল্পায়ন যেন বাকি সব দেশের কথা চিন্তা করে করা হয়, তা আজ সময়ের দাবি। যদিও তাতে অনেক দেরি হয়ে গেছে।


আসিফ আলম, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়


প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রকাশিত লেখার জন্য ঢাকা ট্রিবিউন কোনো ধরনের দায় নেবে না।

50
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail