• রবিবার, ডিসেম্বর ০৫, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৩ সকাল

প্রয়াণেও অবিনশ্বর আইয়ুব বাচ্চু

  • প্রকাশিত ০৩:১০ বিকেল অক্টোবর ১৮, ২০২১
আইয়ুব বাচ্চু
আইয়ুব বাচ্চু। ছবি: সৌজন্য

মাত্র ৫৬ বছরের বাচ্চুর জীবনটি ছিল সঙ্গীত নিরীক্ষায় পূর্ণ, অ্যাকুইস্টিক বাদ্যযন্ত্রহীন লাগাতার গিটার, কিবোর্ড, ড্রার্মসে সয়লাব বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতকে তিনি ভিন্ন মাত্রা দেখান ‘ফেরারী মন’ অ্যালবামে

শুধু গিটার বাজানো আর গান গাওয়াই পেশা হিসেবে নিতে চেয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। অনেক বৈরীতার এ দেশে তা সম্ভবও করেছিলেন। কিন্তু পথটা মসৃণ ছিল কি?

চট্টগ্রামে ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট যে পরিবারে বাচ্চুর জন্ম তা ছিল রক্ষণশীলতায় মোড়ানো। শৈশবে একটি গিটার কেনার জন্য সংগ্রাম করতে হয় তাকে। স্বীয় ধ্যানে এই ছয়টি তারকে ভালোবেসে মিলেমিশে একাকার হয়ে যান তিনি। পরিণত বয়সে তার নাম হয় “গিটারের জাদুকর”।

অনেকে মনে করেন, এ দেশে আইয়ুব বাচ্চুর আর্বিভাব এক আর্শীবাদ। এ কথার অন্য পিঠে আবার দুঃখরচিত। বিশ্ব সঙ্গীতের কুলীন দরবারে তিনি তার সার্মথ্য প্রমাণের সুযোগ হারান। গুণীর প্রাপ্য সম্মান পাওয়া থেকে বঞ্চিত প্রাচ্যের আরও অনেক প্রতিভার মতো বাচ্চুর বেলায়ও তা সাক্ষ্য দেয়।

২০১৮ সালের আজকের এই দিনে আকস্মিক আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ বার্তা ছড়িয়ে পর উপমহাদেশের সঙ্গীত নক্ষত্রদের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা যেতে পারে।

কবির সুমন বলেছিলেন, “আইয়ুব বাচ্চু আর নেই? যাওয়ার কথা তো আমার। ও গেল। ভালো শিল্পী, কী ভালো মানুষ! ধুৎ।”

এআর রহমান সতীর্থ খ্যাতিমান পারকাশনিস্ট শিবমনি লিখেছিলেন, “ঠিক দুই রাত আগেই আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে পারফর্ম করা আমার কাছে গর্বের ব্যাপার ছিল। আমি ও আমার দল গত রাতেই আলাপ করছিলাম, কীভাবে আপনার সঙ্গে এক হয়ে বাংলাদেশ সফরের আগামী সাতটা শোতে আরও সেরা কিছু পরিবেশনা মঞ্চে তুলে আনা যায়। আপনাকে মিস করব। আপনার সঙ্গে তোলা ছবি সারা জীবনের অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে...”

অঞ্জন দত্তের প্রতিক্রিয়া ছিল এমন, “ভয়ংকর ক্ষতি হয়ে গেল...আইয়ুব বাচ্চু...।” 

সঙ্গীত তারকা অনুপম রায়ের প্রতিক্রিয়ায় অগাধ শ্রদ্ধায় পূর্ণ। “বাচ্চু ভাইয়ের (আইয়ুব বাচ্চু) এভাবে হঠাৎ করে চলে যাওয়াটা মেনে নেওয়া কঠিন। বাংলা গান চিরদিন মনে রাখবে এই চমৎকার গুণী মানুষটিকে।”


আরও পড়ুন - আইয়ুব বাচ্চু চলে যাওয়ার তিন বছর আজ


আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম একক অ্যালবাম ছিল রক্তগোলাপ (১৯৮৬)। যুক্ত ছিলেন সোলসের সঙ্গে। পরে গঠন করেন ব্যান্ড এলআরবি। ১৯৯২ সালে বাজারে আসে এলআরবি’র অভিষেকেই প্রথম ডবল অ্যালবাম। এরপর এলআরবি আর বাচ্চু মিলে বাংলা গানের ইতিহাসে নাম খচিত করার পালা।

ধারাবাহিকভাবে দেশের তারুণ্য মেতে ওঠে এলআরবি’র সৃষ্টিতে। একে একে দেশের অডিও ইন্ডাস্ট্রি কাঁপে তার বিভিন্ন অ্যালবামে।

সুখ (১৯৯৩), তবুও (১৯৯৪), ঘুমন্ত শহরে (১৯৯৫), ফেরারী মন (১৯৯৬), স্বপ্ন (১৯৯৬), আমাদের বিস্ময় (১৯৯৮), মন চাইলে মন পাবে (২০০০), অচেনা জীবন (২০০৩), মনে আছে নাকি নেই (২০০৫), স্পর্শ (২০০৮), যুদ্ধ (২০১২)

আইয়ুব বাচ্চুর অমিত সঙ্গীত সৃষ্টি শুধু এলআরবি’কে ঘিরেই চলেনি। নিজের সলো ক্যারিয়ারেও ভাস্বর তিনি। একক অ্যালবামসমূহের মধ্যে নাম নেয়া যায় নিচের গুলোর:

রক্তগোলাপ (১৯৮৬), ময়না (১৯৮৮), কষ্ট (১৯৯৫), সময় (১৯৯৮), একা (১৯৯৯), প্রেম তুমি কি! (২০০২), দুটি মন (২০০২), কাফেলা (২০০২), প্রেম প্রেমের মতো (২০০৩), পথের গান (২০০৪), ভাটির টানে মাটির গানে (২০০৬) , জীবন (২০০৬), রিমঝিম বৃষ্টি (২০০৮), বলিনি কখনো (২০০৯), জীবনের গল্প (২০১৫)।

বাচ্চুর ছোঁয়াতে জীবন পাওয়া গিটারের ঝংকার মেলে ২০০৭ এর গিটার ইন্সট্রুমেন্টাল অ্যালবাম ‘সাউন্ড অব সাইলেন্স’ এ। বহু মিশ্র অ্যালবামে সম্পৃক্ত ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। প্রিন্স মাহমুদের সুরে কিছু গান আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয় হয়। মূলত একজন রকার হয়েও গায়ক হিসেবে বাংলা ছবিতে গান গেয়েছেন তিনি। তার ‘আম্মাজান’ গানটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে জনপ্রিয়তার মাইলস্টোন স্পর্শ করে।

মাত্র ৫৬ বছরের বাচ্চুর জীবনটি ছিল সঙ্গীত নিরীক্ষায় পূর্ণ। অ্যাকুইস্টিক বাদ্যযন্ত্রহীন লাগাতার গিটার, কিবোর্ড, ড্রামসে সয়লাব বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতকে তিনি ভিন্ন মাত্রা দেখান “ফেরারী মন” অ্যালবামে। দেশের বরেণ্য বেহালা শিল্পী সুনীল চন্দ্র দাশের সঙ্গে যুগলবন্দি এর আগে শোনেনি বাংলা ব্যান্ড।

অ্যালবাম দিয়ে হিট হয়েছিলেন বাচ্চু পরে। দেশজুড়ে লাইভ কনসার্টে তিনি আগে স্বীকৃতি পান তারকা স্টেজ পারফর্মারের। বাচ্চু ও সমসাময়িক ব্যান্ডগুলো প্রভাবে অপসংস্কৃতির তকমা থেকে বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীত বিযুক্ত হয়। শুধু রাজধানী শহর নয়, জনপদের হাটে-মাঠে-গঞ্জে-গাঁওয়ে এলআরবি আর বাচ্চু একাকার হয়ে যান। এখানেই হয়তো এই মায়েস্ত্রোর অনিবার্যতা। যার সঙ্গীতের কাছে ফিরতে বারবার। প্রয়াণের পরে তো টের পাই আরও বিস্তৃত ও ব্যাপকমাত্রায় অবিনশ্বর আইয়ুব বাচ্চু।


হাসান শাওনের জন্ম , বেড়ে ওঠা ঢাকার মিরপুরে। পড়েছেন মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বাঙলা কলেজ, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনিস্টিটিউটে। ২০০৫ সাল থেকে তিনি লেখালেখি ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। কাজ করেছেন সমকাল, বণিক বার্তা, ক্যানভাস ম্যাগাজিন ও আজকের পত্রিকায়।

২০২০ সালের ১৩ নভেম্বর হাসান শাওনের প্রথম বই ‘‘হুমায়ূনকে নিয়ে’’ প্রকাশিত হয়।


প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রকাশিত লেখার জন্য ঢাকা ট্রিবিউন কোনো ধরনের দায় নেবে না।



50
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail