Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গতি আর স্বপ্নের মিশেলে প্রথম বাংলাদেশি রেসকার বিজয়ী

‘ইউএই প্রো চ্যাম্পিয়নশিপ জিটি৮৬ ক্লাস’ জয়ের মাধ্যমে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন অভিক আনোয়ার

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৯:৩৭ পিএম

ইতোপূর্বে ভারত, মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হলেও প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ইভেন্টে বিজয়ী হয়েছেন অভিক আনোয়ার। এ বছর “ইউএই প্রো চ্যাম্পিয়নশিপ জিটি৮৬ ক্লাস” জয়ের মাধ্যমে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। 

সম্প্রতি ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে অভিক তার এই পথচলার বিভিন্ন রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন।

বাংলাদেশি হিসেবে ইতিহাসের অংশ হতে পেরে আপনার অনুভূতি কেমন?

আসলে এই চমৎকার অনুভূতি ভাষায় ব্যক্ত করার মতো নয়! এর আগেরবার এই ইভেন্টে আমি তৃতীয় হয়েছিলাম। তবে আন্তর্জাতিক রেসিং সংস্থা (FIA) কর্তৃক অনুমোদিত ইভেন্টে প্রথমবার বাংলাদেশি হিসেবে প্রথমস্থান অধিকার করাটা সত্যিই সম্মানের। ইতিহাসের অংশ হতে পারাটা সহজ নত কিন্ত যখন আপনি কোনো কিছুর বিষয়ে আবেগের জায়গা থেকে চেষ্টা করবেন তখন সাফল্য আসবেই। কারণ তখন আপনি আপনার সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেন লক্ষ্যে পৌঁছুতে। আর এই বিজয় আমাকে ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে অংশগ্রহণের অনুপ্রেরণা যোগাবে। যদি ইচ্ছা আর চেষ্টা থাকে পৃথিবীতে আপনি যা চাইবেন তাই সম্ভব।

আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশে মোটর স্পোর্টস সম্ভবনাময় হয়ে উঠতে পারে?

আমি অবশ্যই বিশ্বাস করি দেশে মোটর স্পোর্টস একটি ভালো সম্ভবনাময় খাত হয়ে উঠতে পারে। আমাদের দেশে অনেকেই আছেন যারা চমৎকার গাড়ি চালান। অনেকেই দক্ষ, অনেকে দ্রুততায় সেরা আবার অনেকে গাড়ি সম্পর্কে অগাধ জ্ঞান রাখেন। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে আমাদের দেশে সরকারি বা বেসরকারি খাতে এ বিষয়ক প্রশিক্ষণ বা অবকাঠামোগত কোনো উদ্যোগ নেই। তবে আমি আশাবাদী দেশে একসময় মোটররেস জনপ্রিয় খেলায় পরিণত হবে।

মোটর স্পোর্টসে আসার পেছনে আপনার প্রেরণা কি ছিল?

আম ফর্মুলা ওয়ান রেসের ভক্ত ছিলাম ছোটবেলা থেকেই। বলা যায় স্বভাবজাত ভালোলাগা। সেই ১৯৯৭ সালে মাইকেল সমাখার আর মিকা হ্যাকিনেন এর মধ্যকার শিরোপার দ্বৈরথ দেখেই মনে সুপ্ত ইচ্ছা জন্মেছিল রেসার হবার। শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল দেশের নাম উজ্জ্বল করব। তবে আজ আমি যে অবস্থানে পৌঁছেছি সেই পথ অতটা মসৃণ ছিল না। দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, অনুশীলনের ফলাফল আমার আজকের এই সফলতা। তবে সব কষ্ট আর ব্যয় আমার এখনকার প্রাপ্তির কাছে মলিন।

যেসব বাংলাদেশি তরুণ আপনার পথ অনুসরণ করতে চায় তাদের উদ্দেশে আপনার কোনো উপদেশ?

যারা বাংলাদেশ থেকে রেসার হবার ইচ্ছা পোষণ করছেন তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলব প্রথমে সিমুলেটরে অনুশীলন করুন। অনলাইন রেসিং এ অংশগ্রহণ করুন। এতে আপনাদের দক্ষতা বাড়বে। একটা সময়ে কিছু অর্থ সঞ্চয় করে ছোট পরিসরের ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে নিজের দক্ষতার পরীক্ষা নিয়ে নিতে পারবেন।

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু বলুন?

আমার স্বপ্ন বিশ্বব্যাপী রেস ইভেন্টে দেশের পতাকা গায়ে জড়িয়ে বিজয় অর্জন করা। মোটর রেসিংয়ে দেশের নাম সবখানে উজ্জ্বল করা। প্রতিক্ষেত্রেই বিজয়ী হবার পর অন্যান্য প্রতিযোগিরা আমার পতাকা দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে! ব্যাপারটা আমার জন্যে গর্বের এবং একই সাথে আনন্দের। দুবাই ইভেন্টের ফিনিশ লাইন অতিক্রম করে আমি “জয় বাংলা” এবং “বাংলাদেশ” বলে কেঁদে উঠেছিলাম আবেগে। আমি অদূর ভবিষ্যতে দেশের হয়ে আরও অনেক শিরোপা জয় করে দেশের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে চাই।

About

Popular Links