Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গণপরিবহন কি নারীদের জন্য নিরাপদ?

বাংলাদেশে গণপরিবহনে যাতায়াত করা ৯৪% নারীই মৌখিক, শারীরিক বা অন্য কোনোভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২২, ১২:৩৯ পিএম

বাংলাদেশে গণপরিবহনে যাতায়াত করা ৯৪% নারীই মৌখিক, শারীরিক বা অন্য কোনোভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। ফলে গণপরিবহনে চলাফেরা করা নারীদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অল্প বয়সী তরুণীরা যৌন হয়রানির সমস্যায় বেশি ভোগেন।

গণপরিবহনে নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার কারণে বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে অবদান রাখতে পারছেন না তারা। উপরন্তু যৌন হয়রানির কারণে ১৩% নারী গণপরিবহন ব্যবহার পারতপক্ষে এড়িয়ে চলেন।

একই সঙ্গে গণপরিবহনে চলাচল করতে নিরাপত্তাহীনতার জন্য ঢাকায় অনেক নারীকেই তাদের চলাচল বা কার্যকলাপ সীমিত করতে হয়। সহিংসতার ভয় বা হুমকির কারণে নারীর স্বাভাবিক কার্যকলাপ বাধাগ্রস্ত হয়। ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা নারীর ক্ষমতায়নের প্রধান অন্তরায়। 

গণপরিবহনে যৌন হয়রানির শিকার হওয়া নারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, "অশালীন" পোশাক পরে তারা নিজেরাই হয়রানি করতে পুরুষদের উস্কে দেয়।” 


আরও পড়ুন- টিপ নিয়ে অশালীন আচরণ: দেশজুড়ে হৈচৈয়ের কিছুই জানতেন না ‘ধার্মিক’ কনস্টেবল!



কিন্তু শালীন পোশাকের সংজ্ঞা কী?

গবেষণায় দেখা যায়, লেয়ার, লম্বা প্যান্ট এবং হাতা এবং উঁচু গলার পোশাক পরিধান করা নারীদের ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। গণপরিবহনে, বিশেষ করে বাসে চলাচল করা কিশোরী, অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং প্রাপ্তবয়স্ক নারীরা প্রতিদিন যৌন হয়রানি বা মৌখিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হন। অধিকাংশ সময় উপস্থিত জনসাধারণ তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসে না।

একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৩ জানুয়ারি সকালে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মহিলা ছাত্রীকে যৌন হয়রানির চেষ্টার অভিযোগে ঢাকার আজিমপুর-নতুন বাজার রুটে দেওয়ান পরিবহনের একটি বাসের চালক ও তার সহকারীকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। পরিবহন শ্রমিকরা তাকে ভেতরে রেখে অন্য যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দিলে ভুক্তভোগী নিজেকে বাঁচাতে চলন্ত বাস থেকে লাফ দেন। 

"সর্বজনীন স্থানে নারীর প্রতি সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে পাবলিক সার্ভিস" নামক গবেষণা পত্র অনুসারে, কমপক্ষে ৪২.৫% নারী সেবাপ্রার্থী হাসপাতালে পরিষেবা প্রদানকারীদের কাছে রুঢ় আচরণের সম্মুখীন হন। বাজারে অযাচিত স্পর্শের সম্মুখীন হন ৫০% নারী। ৩০% নারীদের দাবি, থানায় তাদেরকে হয়রানির স্বীকার হতে হয়েছে। 

ঢাকা উরবান ট্রান্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট গবেষণা অনুযায়ী, যৌন হয়রানির ভয়ে ২০.৭% নারীই গণপরিবহনে চলাচল বন্ধ করতে শুরু করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে কর্মজীবী নারীর সংখ্যা ৩৫.৬%। সামনের দিনগুলোতে তা আরও বাড়বে। কিন্তু নিত্যদিন গণপরিবহনে ক্রমাগত হয়রানির ফলে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন বর্তমানে ১৩টি শহরের রুটে ১৬টি একক ও ডাবল-ডেকার বাস পরিচালনা করে। শুধুমাত্র সকালে এবং বিকেলে নারীদের জন্য মাত্র দুটি ট্রিপ রয়েছে। নারী যাত্রী এবং অধিকার কর্মীরা এ পরিষেবাটিকে অত্যন্ত অপর্যাপ্ত বলে অভিহিত করেছেন। সেই সঙ্গে ভোগান্তি কমাতে গণপরিবহনে নারী্দের জন্য আরও বেশি আসন বরাদ্দ করার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

অধিকাংশ সিটি বাস এবং মিনিবাসের ইঞ্জিনের পাশে অতিরিক্ত আসন বসানো করা হয়েছে। এগুলো প্রধানত নারীদের জন্য তৈরি করা হলেও পুরুষ যাত্রীরা প্রায়শই মহিলা, শিশু, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আসন দখল করে।

এ কথা অনস্বীকার্য যে শালীন বা অশালীন পোশাকের কারণে গণপরিবহনে নারীদের যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার ধারণাটি ভিত্তিহীন। মূলত আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ার কারণেই এমনটা ঘটে থাকে। এ ধরনের অপরাধের জন্য কর্তৃপক্ষের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।

এখন সময় এসেছে আমাদের সমাজের সমৃদ্ধির জন্য আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করার।


সাবিহা মেহজাবিন ঐশী, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ডের একজন ফেলো


প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত। ঢাকা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ এর জন্য দায়ী নয়।



About

Popular Links