Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কী শিক্ষা পাচ্ছে নতুন প্রজন্ম?

যেকোনো ব্যক্তি তার সেই শিক্ষাগুলো সবচেয়ে দৃঢ়ভাবে বুকে ধারণ করে চলে, যে শিক্ষাগুলো সে তার জীবনের প্রথম দিকে তথা শিশুকাল, কৈশোরকাল ও যৌবনকালে পেয়ে থাকে। উল্লিখিত এই সময়কালে মানুষ যা শেখে, কর্মে তারই প্রতিফলন ঘটায় এবং পরবর্তী প্রজন্মের ওপরও তাই প্রয়োগ করে থাকে

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৪১ পিএম

শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। যত নতুন যুগ আসছে, শিক্ষার গুরুত্ব বেড়েই চলছে। শিক্ষা ছাড়া পুরো পৃথিবীটাই অচল। যেকোনো কাজ, তা যতোটাই সামান্য মনে হোক, সেই কাজ ঠিকমতো পারতে হলে সে সংক্রান্ত শিক্ষা থাকা অবিতর্কিতভাবে আবশ্যক। কীভাবে বৃহৎ প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে হয় বা কীভাবে বড়-বড় যানবাহন বানাতে হয় – এমন জটিল ব্যাপার-স্যাপার যেমন শিক্ষার বিষয়, তেমনই কীভাবে ভাত-তরকারির লোকমা বানিয়ে খেতে হয় বা

কীভাবে গরম চায়ের পাত্রটি ধরলে হাত জ্বলে যাবে না – এরূপ অতি সাধারণ বিষয়ও শিক্ষাবহির্ভূত কোনো আলোচ্য বস্তু নয়। পার্থক্য হলো কিছু কিছু কাজে পারদর্শিতার পারিতোষিক হিসেবে পাওয়া যায় সনদপত্র, বাকি অনেকগুলো কাজে দক্ষতার পুরস্কার সেই কাজের ওপর লব্ধ দক্ষতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

কতগুলো বিষয় আছে যেগুলোর ব্যাপারে পরিশ্রম করে শিক্ষা অর্জন করতে হয়। আবার, পরিস্থিতি শিখিয়ে দেয় এমন অনেক কিছু যা কোনো শিক্ষক বা পুস্তকের মাধ্যমেও কেউ তার জ্ঞানের সমাবেশে সমাবিষ্ট করতে পারে না। পরিশ্রম হোক কিংবা পরিস্থিতি, ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায়, কোনো না কোনোভাবে একজন মানুষ যতদিন সজ্ঞানে বেঁচে থাকে, সে ততদিন শিখতে থাকে। তবে যেকোনো ব্যক্তি তার সেই শিক্ষাগুলো সবচেয়ে দৃঢ়ভাবে বুকে ধারণ করে চলে, যে শিক্ষাগুলো সে তার জীবনের প্রথম দিকে তথা শিশুকাল, কৈশোরকাল ও যৌবনকালে পেয়ে থাকে। উল্লিখিত এই সময়কালে মানুষ যা শেখে, কর্মে তারই প্রতিফলন ঘটায় এবং পরবর্তী প্রজন্মের ওপরও তাই প্রয়োগ করে থাকে।

তো চলুন, শব্দের মাধ্যমে নিম্নে অঙ্কিত কিছু দৃশ্য দেখে আসি এবং তা থেকে কিছু উপলব্ধির সামনে আসার চেষ্টা করি।

দৃশ্য ১ - ভালো মানুষ হওয়ার চেয়ে ভালো নম্বর পাওয়া অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে নতুন প্রজন্মকে আগামীর জন্য তৈরি করার অভিমুখে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মানবসম্পদ উন্নয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। তবে আক্ষেপের বিষয় এই যে, পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য বাবা-মা, শিক্ষক, আত্মীয়স্বজন, পারা-প্রতিবেশী সবাই মিলে একজন তরুণকে যেমন চাপের মধ্যে ফেলে; একজন ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার জন্য কতজনই বা তাকে সেই তুলনায় কাছাকাছি পরিমাণও উৎসাহ দিয়ে থাকে তা এক অখণ্ডনীয় রহস্য।

দৃশ্য ২ – বিজ্ঞান বিভাগে পড়লেই ভালো শিক্ষার্থী, নাহলে “মাথা আগাছায় ভর্তি” । নতুন প্রজন্মের মাঝে ধর্মগ্রন্থের বাণীর ন্যায় সত্য করে সাজিয়ে এই গুজবের বিষ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যে, শিক্ষার্থী হিসেবে একজনের যোগ্যতা নির্ভর করে সে কোন বিভাগ নিয়ে লেখাপড়া করছে তার ওপর। অমৃতের মতো জেনেশুনে এই বিষ পান করে বৃহত্তর নতুন প্রজন্ম এটা অকপটভাবে স্বীকারও করে নিয়েছে যে কেউ বিজ্ঞান বিভাগে পড়লেই মেধাবী, এ ব্যতীত ব্যবসায় শিক্ষা, মানবিক বা অন্য কিছু নিয়ে পড়লে “হাবিজাবি”।

দৃশ্য ৩ – নেতিবাচককে আদর্শ মেনে চলার প্রবণতা। নতুন প্রজন্মের একটি বড় অংশের কাছে সমাজের বিভিন্ন নেতিবাচক বস্তু ও ব্যক্তি হয়ে ওঠে তাদের তীব্র আকর্ষণ ও আদর্শের পাত্র। হোক সেটা বিভিন্ন মাদক কিংবা ইতিহাসের সবচেয়ে কুখ্যাত কোনো “আপাত দৃষ্টিতে সফল” অপরাধী, এসব সেবন কিংবা উল্লিখিত প্রকারের কোনো ব্যক্তিকে অনুকরণ করতে পারা বা তাকেও ছাড়িয়ে যাওয়া এখন অনেক তরুণের স্বপ্ন, আবার অনেকের ক্ষেত্রে বাস্তবও বটে।

দৃশ্য ৪ – সাহসিকতা = সহিংসতা । আলোচিত এই নতুন প্রজন্মের সিংহভাগ এও মনে করে যে নিজের সাহসিকতা প্রমাণের এক কার্যকর অবলম্বন হচ্ছে সহিংসতায় লিপ্ত হওয়া এবং মানুষের মাঝে নিজের আতংক ছড়িয়ে দেওয়া। দেশের আনাচে-কানাচে “এলাকা” নামের কোনো এক বোনের কেজির দরে অসংখ্য “বড়ভাই” এর আবির্ভাব হওয়ার জন্যও এই সহিংসতার মাধ্যমে সাহসিকতা প্রদর্শনের প্রবণতা অনেকটাই দায়ী।

এমন আরও অনেক দৃশ্য ঘুরপাক খাচ্ছে সম্ভাবনাময় এই নতুন প্রজন্মের আশেপাশে দিয়ে। তাই “কী শিক্ষা পাচ্ছে নতুন প্রজন্ম?” এখন ভাবনার একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে । “তারা কী সঠিক শিক্ষা পাচ্ছে?” “যেই শিক্ষা তারা পাচ্ছে তার সম্পূর্ণটুকুই কী কল্যাণকর?” “তারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হচ্ছে না তো?” এরূপ পরিস্থিতিকে যত বেশি দিন প্রশ্রয় দেওয়া হবে, এমন প্রশ্নের মালা ততোই দীর্ঘ হতে থাকবে এবং আগামী দিনগুলো ততোই অবনতিকর অবস্থায় পতিত হতে থাকবে।

কাজেই আর দেরি না করে এই প্রশ্নগুলোর জবাব খোঁজার জন্য নতুন প্রজন্মকে ঘিরে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির দিকে গুরুত্ব সহকারে নজর দিতে হবে এবং এর মাধ্যমে উদ্ঘাটিত সমস্যাগুলোকে দ্রুত সমাধান করতে হবে। সেই সাথে প্রতিনিয়ত প্রয়োজনীয় নতুন যোগাত্মক পরিবর্তন সাধন করে নবীনদের জন্য অবশেষে একটি ইতিবাচক পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সৃষ্টি করা এখন সময়ের এক অন্যতম ন্যায্য দাবি।


নাফিস এহসাস চৌধুরী শিক্ষার্থী, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি


প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রকাশিত লেখার জন্য ঢাকা ট্রিবিউন কোনো ধরনের দায় নেবে না।

About

Popular Links