Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জেনে নিন করোনাভাইরাসের লক্ষ্ণণ, ঝুঁকি ও সাবধানতা

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে হালকা ঠাণ্ডা লাগা থেকেও মৃত্যুর উপসর্গ দেখা দিতে পারে

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ০১:২৭ পিএম

সম্প্রতি চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন পর্যন্ত দেশটিতে কেড়ে নিয়েছে অন্তত ৪২৫ জনের প্রাণ। চীনের বাইরেও এই ভাইরাসে ২ জনের মৃত্যুর খবর জানা গেছে। বিশ্বব্যাপী করোনভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ২০,৪৩৮ জন।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার হার এতোটাই ভয়াবহ যে তা ২০০২-০৩ সালে ছড়িয়ে পড়া সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রমকেও (সার্স) ছাড়িয়ে গেছে।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাস সম্পর্কে কিছু সাধারণ তথ্য জানা থাকলে সাবধানতা অবলম্বন সহজতর হবে।

ভাইরাসটি কী ধরনের?

করোনাভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস যা এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি। এখন যে ভাইরাসটি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে সেটির আরেক নাম ২০১৯-এনসিওভি। এটি এক ধরণের করোনাভাইরাস।

করোনাভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে এমন ভাইরাস আছে ৭টি।

২০০২ সাল থেকে চীনে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া সার্স (পুরো নাম সিভিয়ার এ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) নামে যে ভাইরাসের সংক্রমণে পৃথিবীতে ৭৭৪জনের মৃত্যু হয়েছিল, সেটিও ছিল এক ধরনের করোনাভাইরাস।

লক্ষণগুলো কী?

জ্বর দিয়ে ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়, এরপরে শুকনো কাশি দেখা দিতে পারে। এক সপ্তাহের মধ্যে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। অনেক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়। প্রতি চারজনের মধ্যে অন্তত একজনের অবস্থা মারাত্মক পর্যায়ে যায় বলে মনে করা হয়। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে হালকা ঠাণ্ডা লাগা থেকেও মৃত্যুর উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

এদিকে এই আইরাসের কারণে সারা বিশ্বে জরুরি অবস্থা জারির কথা ভাবছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)

রোগটি কতোটা মারাত্মক?

রোগের প্রকোপের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা কম বলে উল্লেখ করা হলেও, এই পরিসংখ্যান নির্ভরযোগ্য নয়। তবে যেহেতু সংক্রমণ থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বেশ খানিকটা সময় লাগে, ফলে আরো অনেক রোগী মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


আরও পড়ুন - ‘চাইলেই ফেরত আনা হবে চীনে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের’


ভাইরাসটির উৎপত্তি

একবার যদি ভাইরাসের উৎস প্রাণীটি সনাক্ত করা সম্ভব হয়, তাহলে রোগটি মোকাবেলা করা অনেক সহজ হয়।করোনাভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্ক আছে চীনের উহান প্রদেশের একটি পাইকারি খাবারের বাজারের সঙ্গে।

ওই বাজারটিতে অনেক জীবন্ত বন্যপ্রাণী বিক্রি করা হয়ে থাকে থাকে। এসবের মধ্যে রয়েছে বাদুড়, কুমির, সিভেট বিড়াল, সাপ ইত্যাদি। এসব প্রাণী করোনাভাইরাসের উৎস হতে পারে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষকরা বলছেন, চীনের হর্সশু নামের একপ্রকার বাদুড়ের সঙ্গে এই ভাইরাসের ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে।

মানুষের মধ্যে কত সহজে রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে?

রোগটির প্রাদুর্ভাবের শুরুতে চীনের কর্তৃপক্ষ বলেছিল যে, ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে ছড়াচ্ছে না। কিন্তু বর্তমানে রি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২,৭৪৪ জন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, একেকজন সংক্রমিত ব্যক্তি রোগটি গড়ে ১.৪ থেকে ২.৫ জন ব্যক্তির মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

এই সংখ্যাকে বলা হয় "বেসিক রিপ্রোডাকশন নাম্বার অথবা মৌলিক প্রজনন সংখ্যা"। এই সংখ্যা একের বেশি হওয়া মানে হলো রোগটি স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে। যার অর্থ এটি এমন একটি ভাইরাস যা নিজে থেকে বিনষ্ট বা বিলুপ্ত হয়ে যাবে না।

এদিকে চীনের বাইরেও যেভাবে রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে, তাই ধারণা করা হচ্ছে যে চীনের সরকার আক্রান্তের যে সংখ্যা বলছে আসল রোগীদের সংখ্যা তার দ্বিগুণ।

যদিও এখনো রোগটির প্রাদুর্ভাব উহান কেন্দ্রিক, কিন্তু থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, নেপাল ও যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে।

ছড়িয়ে পড়া রোধে গৃহীত পদক্ষেপ

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিজ্ঞানীরা একটি ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছেন তবে সেটি ২০২১ সালের আগে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছানো সম্ভব হবে না।

চীন ইতোমধ্যে ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল উহান প্রদেশকে সফলভাবে সিল করতে পেরেছে। সেখান থেকে অন্যান্য জায়গায় যাতায়াত এখন স্থগিত। উদ্দেশ্য, ছড়িয়ে পড়া রোধ করে প্রাণহানি রোধ করা।

এটি কি বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা?

ইতোমধ্যে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ থাকায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাপী এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

About

Popular Links