• বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৫ রাত

কোকাকোলার ‘স্লো-পয়জনিং’

  • প্রকাশিত ১০:৫০ সকাল জুলাই ১৭, ২০১৮
canette-de-coca-cola-glace-810x405-1531802905710.jpg
কোকাকোলা পানের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করেছেন ফার্মাসিস্ট নিরাজ নায়েক। ছবি: সংগৃহীত

৩৩০ মিলি’র এক ক্যান কোকে অন্তত ১০ চা চামচ চিনি থাকে, যা প্রতিদিনের প্রয়োজনের আড়াই গুণ। সরাসরি একজন মানুষ এই পরিমাণ চিনি খেলে বমি করে ফেলতে পারেন, তবে কোকে থাকা ফসফরিক এসিড এই চিনির মিষ্টতাকে হালকা করে দেওয়ায় খুব সহজেই এটা আমরা খেয়ে ফেলতে পারি।    

বিশ্বে কোমল পানীয় হিসেবে সর্বাধিক জনপ্রিয় ব্র্যান্ড কোকাকোলা। গ্রীষ্মের দাবদাহে গলা ভেজাতে কিংবা ভারী খাদ্য গ্রহণের পর পেট হালকা করতে এই কোমল পানীয়র জুড়ি মেলা ভার। তবে এর ক্ষতিকর দিকগুলোও বর্তমানের স্যাটেলাইট যুগে এসে আমাদের কাছে অজানা নেই। ইন্টারনেটের সহজলোভ্যতায় সেই তথ্য এখন প্রায় সবার জানা। এমনকি এ পানীয় টয়লেট পরিষ্কারকের কাজ করার মতো শক্তিশালী। কিন্তু এতো কিছু জানা স্বত্বেও আমরা এ পানীয় বর্জন করছি না। 

কোকাকোলার ক্ষতিকর দিকগুলোকে আরও ভালোভাবে জানতে দীর্ঘদিন ধরে পরিক্ষা নিরীক্ষা করে আসছেন ফার্মাসিস্ট নিরাজ নায়েক। তার গবেষণায় যেসব তথ্য উঠে এসেছে তা সত্যিই বিপজ্জনক। 

এই গবেষক তার ব্যক্তিগত ব্লগে উল্লেখ করেছেন, ৩৩০ মিলি’র এক ক্যান কোকে অন্তত ১০ চা চামচ চিনি থাকে, যা প্রতিদিনের প্রয়োজনের আড়াই গুণ। সরাসরি একজন মানুষ এই পরিমাণ চিনি খেলে বমি করে ফেলতে পারেন, তবে কোকে থাকা ফসফরিক এসিড এই চিনির মিষ্টতাকে হালকা করে দেওয়ায় খুব সহজেই এটা আমরা খেয়ে ফেলতে পারি।    

নিরাজ নায়েকের এ গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে ইংল্যান্ড ভিত্তিক ডেইলি স্টার অনলাইন প্রকাশ করেছে প্রথম চুমুকের পর থেকে মানবদেহে ৬০ মিনিটে কি কি প্রতিক্রিয়া করে। মূলত কয়েকটি পর্যায়ে এই ক্ষতি সংঘটিত হয় বলে তিনি দেখিয়েছেন। 

চুমুক দেয়ার ১০ মিনিট পরে : প্রায় ১০ চা চামচ চিনি একসাথে আপনার শরীরের ভেতরের সিস্টেমে আঘাত করে। এর অতিরিক্ত মিষ্টতার কারণে আপনার বমন হতে পারে। কিন্তু এর ভেতরে থাকা ফসফরিক এসিড অতিরিক্ত মিষ্টতা কমিয়ে দেয় যাতে আপনি এটা পান করতে পারেন।

২০ মিনিট পরে : রক্তে শর্করার বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে যায় আর ইনসুলিনের বিস্ফোরণ ঘটে। প্রচুর পরিমাণ চিনি যকৃতের মধ্যে চর্বি সৃষ্টি করে।

৪০ মিনিট পরে : এই সময়ের মধ্যে ক্যাফেইন পুরোপুরি শুষে নিয়ে রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। ফলে যকৃতে আরো চিনি ঢুকে যায়।

৪৫ মিনিট পর : শরীরের ডোপামিন উৎপাদন বেড়ে মস্তিষ্কে উদ্দীপনা জাগায়। মাদকদ্রব্যের মতো আমাদের শরীরকে প্রভাবিত করতে থাকে।

৬০ মিনিট পর : শরীরের অন্ত্রের নিচের দিকে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়া ও জিংকের সাথে বিক্রিয়া করে ফসফরিক এসিড। যা বিপাককে হঠাৎ করে বাড়িয়ে দেয়। উচ্চমাত্রার চিনি ও কৃত্রিম চিনির কারণে রেচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্যালসিয়াম দেহ থেকে বের হয়ে যায়। 

এরপরে ক্যাফেইনের মূত্রবর্ধক বৈশিষ্ট্য কাজ করতে শুরু করে ও প্রস্রাবের বেগ আসে। অর্থাৎ প্রসাবের মাধ্যমে শরীর ও হাড় থেকে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক, সোডিয়াম, ইলেকট্রোলাইট ও পানি বের হয়ে যায়। 

এই ক্ষতিকর দিকগুলোর পরেও ১২৯ বছর ধরে মানুষ কোকাকোলাকেই বিশ্বের এক নম্বর কোমল পানীয় হিসেবে পান করে আসছে। এরপর হয়তো আপনি কোক খাবার আগে একটাবার হলেও চিন্তা করবেন।