• বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩০ দুপুর

টাঙ্গাইলে ‘বিষমুক্ত’ আনারস চাষ

  • প্রকাশিত ০৪:৩৫ বিকেল জুলাই ১৭, ২০১৮
tangail-pineapple-pic-17-7-2-1531823302987.jpg
‘বিষমুক্ত’ আনারস

আনারসে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে মানুষের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হতে পারে।

টাঙ্গাইলের সিংহভাগ আনারস চাষ হয় আনারসের ‘রাজধানী’ খ্যাত মধুপুরে। রসে ভরা এ ফলটি স্বাদ ও গন্ধে একসময় ছিল অতুলনীয়। কিন্তু অতীতের সেই ঐতিহ্য হারাতে বসেছিল। ফলে বিষাক্ত রাসায়নিক অতিরিক্ত প্রয়োগের মাধ্যমে আনারস আকারে বড় এবং আকর্ষনীয় রঙ তৈরি করায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল এর স্বাদ-গন্ধ ও গুণাগুণ। তবে এখন পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। অতিরিক্ত রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আনারসের পাশাপাশি বিষমুক্ত আনারসও চাষ হচ্ছে মধুপুরে। 

২০১৪ সাল থেকে মধুপুরের কয়েকজন চাষী রাসায়নিকমুক্ত আনারস চাষ শুরু করেন। এটি করতে গিয়ে শুরুতেই মোটা অঙ্কের টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। এতে তারা হতাশ হলেও ভেঙে পড়েননি। তাদের এ সংগ্রাম চালিয়েই যাচ্ছেন। এবার কিছুটা সুফলও আসতে শুরু করেছে। বিষমুক্ত আনারসের চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে আনারসের অতীত ঐতিহ্য আবার ফিরে আসবে বলে আশা করছেন মধুপুরে আনারস চাষের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তা না হলে রাসায়নিকের কবল থেকে আনারসকে রক্ষা করা যাবে না বলে জানান তারা ।

সারাদেশে জুড়ে পরিচিতি রয়েছে শালবন খ্যাত টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়াঞ্চল। এই পরিচিতিকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে ‘লালমাটির ফসল’ আনারসে। 


মধুপুরের বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানান, ‘তাদের প্রায় সবাই রাসায়নিকমুক্ত আনারস আবাদ করতে চান। কিন্তু ক্ষতির আশঙ্কায় তারা সেটা পারছেন না। ভোক্তাদেরকে রাসায়নিকমুক্ত আনারস কিনতে উদ্ধুদ্ধ করতে পারলে, তাদেরকে ভাল-মন্দ আনারস চেনানোর ব্যবস্থা করা হলে রাসায়নিকমুক্ত আনারস আবাদ করা যাবে।’ 

কৃষক হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি বিষমুক্ত আনারস আবাদের। কিন্তু এর চাহিদা থাকলেও ক্রেতাদের কাছে সরাসরি এ আনারস পৌছানো যাচ্ছে না। দশ-বিশটি আনারসের জন্য সাধারণ ক্রেতারা মধুপুর আসতে পারছে না আবার আমরাও তাদের কাছে পৌছাতে পারছি না। তবে এতে পরিবহনের সমস্যা রয়েছে’।  

মধুপুরচালা এলাকার দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিষমুক্ত আনারস আকারে ছোট এবং রঙও ভালো না। এছাড়া নরম থাকায় বহন করতেও সমস্যা। ফলে সময় মতো বিক্রি করতে না পারলে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।’ 

মধুপুর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আদনান বাবু বলেন, ‘রাসায়নিক দেয়া আনারস দেখতে বড় এবং সম্পূর্ণ হলুদ রঙ হয়ে পাকে। আর রাসায়নিকমুক্ত আনারস কখনো সম্পূর্ণ হলুদ রঙ হয়ে পাকে না। নিচ থেকে পাকে আর উপরের অংশে কাচা থাকে। মধুপুর থেকে বিষমুক্ত আনারস রপ্তানির চিন্তাভাবনা চলছে বলে তিনি জানান।’  

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের কনসালটেন্ট ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সুজাউদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘আনারসে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে মানুষের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হতে পারে। দেহের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হতে পারে। হাড় ও অস্থির ক্ষয়রোগ হয়ে সামান্য আঘাতে এগুলো ভেঙে সারাজীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করতে হতে পারে’।