• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৪ রাত

পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক

  • প্রকাশিত ০১:৪৩ দুপুর আগস্ট ১২, ২০১৮
রাজশাহীতে পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক

২০১৮ সালে পাট চাষ হয়েছে ১২ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে। বিগত বছরের তুলনায় ৮৭৫ হেক্টর কম।

রাজশাহী অঞ্চলে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়া ও দাম কমে যাওয়ায় পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক। জেলায় চলতি মৌসুমে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে। কিন্তু কৃষকের অনাগ্রহে পাট চাষের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি। জেলায় গত বছরের তুলনায় ৮৭৫ হেক্টর কম জমিতে পাট চাষ হয়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে রাজশাহীতে পাট চাষ হয়েছিল ১৩ হাজার ৬২২ হেক্টর জমিতে। ২০১৭ সালে ১৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। আর এবার ২০১৮ সালে পাট চাষ হয়েছে ১২ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের তুলনায় ৮৭৫ হেক্টর কম। 

জানা গেছে, কৃষি কর্মকর্তারা কৃষককে কম সেচের আবাদ হিসেবে সচেতনতা বৃদ্ধি করেন পাট চাষে। কিন্তু পাটের ভালো ফলন হলেও গেল বছর খরা ও অনুকূল আবহাওয়া না থাকায় পাটের দাম পাননি চাষিরা। এবারও রাজশাহীতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে কৃষকও পাট চাষে তেমন এগুচ্ছেন না। তাই বছরের পর বছর পাট চাষ কমছে এই জেলায়। এছাড়া কৃষকদের বেশি সমস্যা হচ্ছে পাট জাগ দিতে। কারণ পাট জাগ দিতে অনেক পানির প্রয়োজন হয়। খাল বিলে পানি না থাকায় ডোবায় জাগ দিতে হচ্ছে পাট। এতে করে পাটের রঙ নষ্ট হচ্ছে। ফলে কৃষক তেমন দাম পাচ্ছে না।  

রাজশাহীর পবা উপজেলার ভুগরইল সন্তষপুর এলাকার পাটচাষি মুসা ইসলাম জানান, এবার তিন বিঘা জামিতে পাট চাষ করেছেন। তিনি আশা করছেন বিঘাতে ১০ মণ পাট হবে। তবে বর্তমান সময়ে পাট চাষে লাভ হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কিত আছেন তিনি। 

সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের মোজাফফর হোসেন। তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে পাট উৎপাদনে চাষ, সার, বীজ কিনতে ব্যয় হয়েছে ২ হাজারটাকা। জমিতে নিড়ানি দিতে খরচ হয়েছে ৩ হাজার টাকা। পাট কাটা ও জাগ দিতে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে একজন কৃষকের ব্যয় হয় ৯ হতে ১০ হাজার টাকা। অথচ এক বিঘা জমিতে ভালো আবাদ হলে পাট পাওয়া যায় ৮ মণ। গতবার উঠতি বাজারে মণ প্রতি ১১শ’-১২শ’ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এতে কৃষককে বিঘা প্রতি এক হাজার থেকে ১২শ’ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুণতে হয়েছে। এবারও আশঙ্কায় আছি। 

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম বলেন, এ বছর পাটের রোগবালাই ও পোকা মাকড়ের আক্রমণ কম হয়েছে। এবার পাটের ফলন ভালো হবে। বাজার ভালো থাকলে আগামীতে আবারও বেশি আবাদ হবে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক দেব দুলাল ঢালী বলেন, জেলায় ১৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে ৯০ শতাংশ ভারতীয় জাতের ‘জিআরও ৫২৪’ পাট চাষ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে পাট কম চাষ হলেও ফল ভালো হয়েছে। আশাকরি পাট দিয়ে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হচ্ছে। এতে করে পাটের চাহিদা বাড়বে। আর চাহিদা বাড়লে পাটের দামও বাড়বে। তখন কৃষকও লাভবান হবে।