• শনিবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩৮ রাত

৫০০ টাকায় শনাক্ত হবে ক্যান্সার!

  • প্রকাশিত ০৯:৩৬ রাত সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮
ক্যান্সার শনাক্তকরণের যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক।
ক্যান্সার শনাক্তকরণের যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

ক্যান্সার পরীক্ষায় এই যন্ত্র সময় নেবে পাঁচ থেকে ১০ মিনিট, আর জনপ্রতি খরচ পড়বে ৫০০ টাকারও কম।

ক্যান্সার শনাক্তকরণের যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। আর এ যন্ত্রেরমাধ্যমে খুব অল্প খরচে জানা যাবে কোনো ব্যক্তির শরীরে ক্যান্সার আছে-কী নেই। এতে সময় লাগবে পাঁচ থেকে ১০ মিনিট, আর জনপ্রতি খরচ পড়বে ৫০০ টাকারও কম।

আজ বৃহস্পতিবার গবেষক দলের সদস্য ড. শরিফ মোহাম্মদ শরাফউদ্দিন ঢাকা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

শরিফ মোহাম্মদ বলেন, এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ২৫ সদস্যের গবেষণা টিম কাজ করেছে। যার মধ্যে পাঁচজন শিক্ষক এবং বাকিরা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পি.এইচ.ডি-এর শিক্ষার্থী ছিলেন।

এই গবেষক আরও বলেন, ‘রক্ত থেকে লাল অংশ বাদ দিয়ে কেবল সেরাম ডিভাইসে দিলে প্যারামিটারে মান জানা যাবে। আর সেটা থেকেই বোঝা যাবে শরীরে ক্যান্সার আছে-কী নেই। তবে শতভাগ কাজ করবে কী-না সেটা নিশ্চিত নয়। এ ছাড়া ডিভাইসটির উন্নতির জন্য আরও কাজ করতে হবে।’

এ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মূল বিষয় ‘নন-লিনিয়ার অপটিকস’ বাংলাদেশে ১৯৯৭ সালে প্রথম যাত্রা করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। শাবিতে প্রথমে শিক্ষার্থীদের থিওরিটিক্যাল কোর্স আকারে বিষয়টি পড়ানো হত এবং পরে ধাপে ধাপে তা ক্যান্সার শনাক্তকরণে হাত দেওয়া হয়েছে বলে জানান পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং গবেষক দলের প্রধান ড. ইয়াসমিন হক।

ড. ইয়াসমিন হক বলেন, ‘ক্যান্সার শনাক্তকরণের এই গবেষণা প্রথমে ১০জন সাধারণ এবং ৬০জন ক্যান্সার রোগীর ওপর পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এতে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর রক্তের সেরামে একটা চেঞ্জ আসে। সেটা নন-লিনিয়ার অপটিকস ব্যবহার করে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে আগে ভাগেই পূর্বাভাস পাওয়া যায়।’

ড. ইয়াসমিন আরও বলেন, ‘১৯৯৯ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে প্রথম আবেদন করা হয় এবং সেখান থেকে পাওয়া আট লাখ টাকা দিয়ে এই নন-লিনিয়ার অপটিক্সের মাধ্যমে ক্যান্সার শনাক্তকরণের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়।’ 

‘২০১১-তে হেকেপের সহায়তায় ৩ কোটি টাকার একটি বেসিক প্রোজেক্টের কাজ শুরু করা হয়।আর গবেষণার জন্য একটি নন-লিনিয়ার বায়ো-অপটিকস রিসার্চ ল্যাবরেটরি গড়ে তোলা হয় প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সংগ্রহ করে গবেষণার কাজ শুরু হয়।’

এই গবেষক আরও বলেন, “২০১৬ সালের মার্চ মাসে ‘নন-লিনিয়ার অপটিকস ব্যবহার করে বায়োমার্কার নির্ণয়’ শীর্ষক প্রকল্পটি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের প্রকল্প হেকেপের আওতায় গৃহীত হয় এবং ৬ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। যা নন-লিনিয়ার বায়ো-অপটিকস রিসার্চেরর আরেকটি ল্যাবরেটরি গড়ে তোলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সহায়তায় এই হেকেপ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।’

 ‘২০১৬ সালের মার্চ মাসে দ্বিতীয় প্রোজেক্টের কাজ শুরু হলেও এর রেজাল্ট পাওয়া যায় অক্টোবর মাসে। কিন্তু দেড় বছর এই বিষয়ে কোনো কথা বলা যায়নি। রেজাল্ট পাওয়ার পর সরাসরি তা আমেরিকায় পাঠানো হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রয়ারি মাসে গবেষণার এই কাজের থিওরিটিক্যাল কাজ আরম্ভ করা হয়েছে।’

শাবির ল্যাবরেটরিগুলোতে নন-লিনিয়ার অপটিক্স নিয়ে আরও উচ্চতর গবেষণা সম্ভব উল্লেখ করে ড. ইয়াসমিন হক বলেন, ‘গবেষণার ক্ষেত্রে আমাদের এখানে হাই পাওয়ার লেজার রশ্মি ব্যবহার করা হয়। পাশের দেশ ভারত এবং দেশেরবিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নন-লিনিয়ার সিম্বল এখানে পাঠানো হয়।’
 রক্তের নমুনা পরীক্ষা করেকোনো ধরনের যন্ত্রপাতি প্রবেশ না করিয়ে দ্রুত ক্যান্সার শনাক্ত করার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হকের নেতৃত্বে একদল গবেষক। আগামী এক বছরের ভেতরে মানুষ এই প্রযুক্তির সুফল পাবে বলে জানান গবেষক দলের সদস্যরা।