• বুধবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৭ রাত

সাদা ডিম বনাম লালচে ডিম

  • প্রকাশিত ১১:২৩ রাত সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮
সাদা ডিম না কি লালচে ডিম
সাদা ডিম না কি লালচে ডিম— কোনটার পুষ্টিগুণ বেশি। ছবি: সংগৃহীত

ডিম্ব-যুদ্ধে যাওয়ার আগেই যেটা আগে জানা দরকার তা হল, রঙের এই তারতম্যই বা কেন হয়। 

ডিম আগে না মুরগি আগে বিতর্কের চাইতে বড় বিতর্ক সাদা ডিম না কি লালচে ডিম— কোনটার পুষ্টিগুণ বেশি।

প্রায় প্রতিদিনই সব বাড়িতেই কম-বেশি ডিমের প্রয়োজন পড়ে। আর বাচ্চা থাকলে তো বটেই। 

বাচ্চাকে ডিম দেওয়ার সময় তাই অভিভাবকরা দ্বিধায় থাকেন, কোন ডিমটা কিনবেন। কারও মতে লাল ডিমে পুষ্টিগুণ বেশি তো কারও কাছে সাদা ডিমই সেরা।

তবে এভাবে ডিম্ব-যুদ্ধে যাওয়ার আগেই যেটা আগে জানা দরকার তা হল, রঙের এই তারতম্যই বা কেন হয়। 

বিজ্ঞানীদের মতে, সাদা ডিম পাড়ে সাদা পালকের মুরগিরা। লাল ডিম পাড়ে গাঢ় রঙের পালকের মুরগি। তাহলে কি, এই দুই ধরনের মুরগির ক্ষেত্রে কি পুষ্টিগুণ বদলে যেতে পারে?

কর্নেল ইউনিভার্সিটির প্রাণীবিজ্ঞানের ভিজিটিং ফেলো ট্রো ভি বুই সম্প্রতি এই নিয়ে গবেষণা করে জানান, এই দুই ধরনের ডিমে পুষ্টিগত ভাবে বিশেষ কোনও তফাত নেই। তাঁর সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে নিউ ইয়র্কের এক দল গবেষক জানান, লাল ডিমে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড একটু বেশি রয়েছে। কিন্তু এই পরিমাণ এতই অল্প যে তাতে খুব একটা ফারাক পড়ে না।

ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার (ইউএসডিএ)-র মতে, একটি বড় (৫০ গ্রাম ওজনের)  ডিমে ৭২ ক্যালোরি ও ৪.৭৫ গ্রাম ফ্যাট (যার মধ্যে মাত্র ১.৫ গ্রাম দ্রবণীয়)। তাই বলা যায় সাদা ও লাল ডিমে এই পুষ্টিগুণের পরিমাণ প্রায় এক।

তবে কলকাতার পুষ্টিবিদ সুমিত ঘোষের মতে, লাল ডিমে যেটুকু ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড বেশি, সেটুকুও শরীরের জন্য ভালই। 

তবে দিল্লির পুষ্টিবিদ গীতা মালহোত্র জানান, ওটুকু ফ্যাটি অ্যাসিড সে ভাবে আলাদা করে কোনও ভূমিকা পালন করতে পারে না। সুতরাং, দু’ধরনের ডিমের খাদ্যগুণই যে প্রায় সমান— সে কথাই মেনে নিচ্ছে চিকিৎসা মহল।

পুষ্টিগুণ না হয় এক, কিন্তু স্বাদের বেলায়? এর উত্তরে গবেষকরা জানান, ডিমের স্বাদ নির্ভর করে মুরগিকে কীভাবে প্রজনন করানো হচ্ছে এবং মুরগির খাদ্যাভ্যাসের উপর। সুতরাং, লাল হোক বা সাদা— ডিম খান এবং খাওয়ান নিশ্চিন্তে।