• রবিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২৬ সকাল

নোকিয়া ফোনের শহরের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

  • প্রকাশিত ০৩:২৯ বিকেল অক্টোবর ১৯, ২০১৮
নোকিয়ার পুরনো কার্যালয়
নোকিয়ার পুরনো কার্যালয়, ওউলু, ২০১২| ছবি: এএফপি।

'সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটা হল, ওউলুর মানুষ কখনও হাল ছেড়ে দেয়নি'

ফিনল্যান্ডের একটি ছোট্ট শহর ওউলু। শহরের বেশির ভাগ মানুষই কাজ করতেন নোকিয়া কোম্পানিতে। এই কারণে শহরটির অর্থনৈতিক মেরুদন্ডই ছিল নোকিয়া কোম্পানি। ২০০০ সাল নাগাদ বিশ্বের চল্লিশ শতাংশ মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেটই বিক্রি করত নোকিয়া। তবে, পরবর্তী দশ বছরের মধ্যে তাদের সেই ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়লে একসঙ্গে শহরের প্রায় চার হাজার তিনশো লোক কর্মহীন হয়ে পড়ে, শহরটির ভবিষ্যৎ নিয়েই  তৈরি হয় শঙ্কা।

তবে, হাল না ছেড়ে ভেঙে পড়া এই ওউলু শহর আবার কীভাবে ঘুরে দাঁড়াল, সেটা এক অত্যাশ্চর্য বাস্তব কাহিনী। সম্প্রতি বিবিসির একটি প্রতিবেদনে শহরটির ঘুরে দাঁড়ানোর এই অবিশ্বাস্য বাস্তব কাহিনীটি প্রকাশ পেয়েছে।      

নোকিয়া কোম্পানির ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়ার দিনগুলোর কথা ভাবলে ওউলুর বাসিন্দারা আজও শিউরে ওঠেন। ওউলু রিং স্লিপ ট্র্যাকারে'র পেটেরি লাহটেলা বলছিলেন সেই দিনগুলোর কথা। তিনি বলেন, "সে সময় একটা বিরাট নিরাপত্তাহীনতা আর অনিশ্চয়তার মেঘ আমাদের ঘিরে ধরেছিল। এখন কী হবে, কীভাবে বাঁচব সেই প্রশ্নই ছিল সবার মনে।" 

বিজনেস ফিনল্যান্ডের কর্মকর্তা আর্টো পাসিনেন বলেন, "শহরের পরিবেশ তখন সত্যিই ছিল থমথমে। কিন্তু খুব শিগগিরি মানুষ আবার বুঝতে পারল, এই সঙ্কট কিন্তু একটা নতুন সম্ভাবনার সূচনাও হতে পারে।" 

শুরু হয় ঘুরে দাঁড়ানোর যুদ্ধ। পেটেরি লাহটেলা এই ঘুরে দাঁড়ানোর সময় নিয়ে বলেন, "যারা এতদিন মোবাইল ফোন বানাতেন তারাই ধীরে ধীরে নানা ওয়্যারেবল ডিভাইস, মেডিক্যাল ডিভাইস বা গাড়ি নির্মাণ শিল্পের জন্য কাজ করা শুরু করলো। বিশ্ববিদ্যালয়ে হবু শিল্পোদ্যোগীদের জন্য নতুন সেন্টার চালু হল, বিভিন্ন কোম্পানি যাতে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী খুঁজে পেতে পারে সেটারও ব্যবস্থা হল।"

আর্টো পাসিনেন বলেন, "সারা দুনিয়াতেই তখন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রতিভার অভাব ছিল। আর সেখানে হঠাৎ করে ওউলু এমন একটা শহরে পরিণত হল, যেখানে চার হাজারেরও বেশি দক্ষ কর্মী চাকরিতে নিয়োগের জন্য প্রস্তুত! সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটা হল, ওউলুর মানুষ কখনও হাল ছেড়ে দেয়নি। নোকিয়ার চাকরি যাওয়ার পরও তারা সক্রিয় ছিলেন, সারা দুনিয়ায় এতদিন তাদের যে সব কনট্যাক্ট গড়ে উঠেছিল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা বলতে শুরু করলেন, এই দ্যাখো এখানে কিন্তু বিরাট একটা দক্ষ লোকবল আছে।" 

ওউলুর মানুষ অবশ্য নানা ধরনের সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ থেকেও উপকৃত হয়েছিল। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল নোকিয়াও। নোকিয়ার এরিয়া সানকারি বলেন, "আমাদের কর্মীরা যাতে নতুন কর্মসংস্থান খুঁজে পায় সে জন্য আমরা 'ব্রিজ' নামে নতুন একটা প্রকল্প চালু করেছিলাম, যেটা দারুণ সফল হয়েছিল। যেমন, ওউলুতেই ওই প্রকল্পের মাধ্যমে গড়ে উঠেছিল প্রায় তিন-চারশো স্টার্ট-আপ।"

উল্লেখ্য, সারা বিশ্বেই টেক ইনোভেশনের একটি অন্যতম কেন্দ্র ওউলু। বর্তমানে অন্তত তিনটি ফাইভজি টেস্ট নেটওয়ার্ক আছে এখানে।

আর্টো পাসিনেনের বিশ্বাস নোকিয়ার মুখ থুবড়ে পড়াটা হয়তো ওউলু-র জন্য ভালই হয়েছে। এখন মোবাইল ফোন ছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তির অন্য নানা ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছেন শহরের বাসিন্দারা। যা ওউলুকে আগের থেকেও অর্থনৈতিকভাবে বেশী সমৃদ্ধশালী করে তুলেছে।