• রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৪ রাত

মানুষের জীবনসঙ্গী বাঘ! (ভিডিও)

  • প্রকাশিত ০৪:৩৯ বিকেল অক্টোবর ২৮, ২০১৮
আবদুল্লাহ সোলাহ ও তার পোষা বাঘ
বাঘের সাথে বসবাস করেন ইন্দোনেশিয়ার আবদুল্লাহ সোলাহ। ছবি: সৌজন্যে।

মজার বিষয় হল আবদুল্লাহ তার পোষা বাঘ মুলানের প্রতিদিন মাংসের ব্যবস্থা করলেও মুলানের সবচেয়ে প্রিয় হল আব্দুল্লাহ'র হাতের ইনস্ট্যান্ট নুডুলস

ইন্দোনেশিয়ার আবদুল্লাহ সোলাহ, যার জীবনসঙ্গী একটি বাঘ। হ্যাঁ ঠিকই দেখেছেন, ইন্দোনেশিয়ার মুলাং অঞ্চলে এমনই এক অবিশ্বাস্য সম্পর্ক রয়েছে আবদুল্লাহ এবং তার পোষা বেঙ্গল টাইগার মুলানের মধ্যে। সম্প্রতি সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একটি ভিডিওতে এই অবিশ্বাস্য কাহিনিটিই উঠে এসেছে।

ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিওটিতে প্রথমদিকে যেটাকে দেখে একটি ভয়ংকর আক্রমণ বলে মনে হচ্ছে সেটি আসলে একটু খুনসুটি ছাড়া আর কিছুই না। আবদুল্লাহ সোলাহ এবং তার পোষা বেঙ্গল টাইগার মুলানের মধ্যে এই ধরণের ভালবাসার খুনসুটি এক নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার।

মুলানের তিন মাস বয়স থেকেই তাকে পালন করছেন আবদুল্লাহ। এই দুইজনের সম্পর্ক এতটাই গভীর যে তারা পরস্পরকে জড়িয়ে ধরেন, চুমু দেন এমনকি নিজেদের মধ্যে খেলায়ও মেতে ওঠেন অবলীলায়। মাঝে মাঝে তো মুলান খেলার মধ্যে আত্মহারা হয়ে যায়।

আব্দুল্লাহ বলেন, "আমি খুবই খুশি যে আমি একটা বাঘের সাথে বসবাস করি। আমি ওর সাথে থাকার জন্য  ওর প্রতিদিনের এমনকি, প্রতি মুহুর্তের মেজাজ এবং গতি-প্রকৃতি বোঝার চেষ্টা করি।"


তবে এতো দীর্ঘ সময় ধরে ওর সাথে থাকা, কখনও কী আঘাত পাননি আবদুল্লাহ? আবদুল্লাহ নিজেই জানালেন সেই কথা।

তিনি জানান, "আমি একবার ভাগ্যের জোরে খুব বেঁচে গেছি। মুলানের একটি নখ একবার আমার একটা চোখ প্রায় নষ্টই করে ফেলেছিল। ও আমার চোখের একটু নীচে একটি আঁচড় দিয়েছিল। এতে আমার চোখের নীচের পাতা গভীর হয়ে কেটে যায়। তবে, আমি জানি যদি কখনও দূর্ঘটনাবসত ও আমাকে আহত করেই ফেলে সেটা ও ইচ্ছা করে করেনি। আমি জানি ও একটি বাঘ। এটা জেনেই ঝুঁকি নিয়ে আমি ওর সাথে থাকি।"

এলাকার মানুষ আবদুল্লাহকে 'টাইগার ন্যানী' হিসেবে ভূষিত করেছে। কারণ আবদুল্লাহ দিনের ২৪ ঘন্টাই তার প্রিয় মুলানের সাথে সময় কাটান এবং তার দেখভাল করেন।

আবদুল্লাহ এ বিষয়ে বলেন, "আমি দিনরাত ওর খেয়াল রাখি। আমি ওকে ছেড়ে যাই এটা ওর একদম পছন্দ না।"

মজার বিষয় হল আবদুল্লাহ তার পোষা বাঘ মুলানের প্রতিদিন মাংসের ব্যবস্থা করলেও মুলানের সবচেয়ে প্রিয় হল আবদুল্লাহ'র হাতের ইনস্ট্যান্ট নুডুলস। তবে, প্রতিদিনই মুলানকে ৬ কেজি মুরগি কিংবা ছাগলের মাংস দেওয়া লাগে।

২০০৯ সালে যখন মুলানের মাত্র ৩ মাস বয়স তখন থেকেই এই দুইজন অবিচ্ছেদ্য হয়ে ওঠেন। প্রচণ্ড ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও আবদুল্লাহ প্রতিদিনই তার প্রিয় বন্ধুকে নিয়ে খেলায় মেতে ওঠেন, তার দেখাশোনা করেন, তাকে আদর করেন, তারা একসাথে খান, এমনকি, তারা একসাথে ঘুমান পর্যন্ত।

তবে, মুলানের ওজন প্রায় ১৭৮ কেজি। তাই খেলার সময় কিংবা অন্যান্য সময় টুকটাক আঘাত পেলেও তা হাসিমুখে স্বীকার করে নেন আবদুল্লাহ। প্রতিদিনই তাদের বন্ধুত্ব আগের থেকেও গভীর হচ্ছে।