• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:১৭ সন্ধ্যা

সুস্থ হবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষ!

  • প্রকাশিত ১১:২৬ সকাল নভেম্বর ১, ২০১৮
পক্ষাঘাত
প্রতীকী ছবি।

পক্ষাঘাতগ্রস্ত হবার পর ঐ তিন ব্যক্তিকে তাদের বাকী জীবন হুইল চেয়ারেই কাটাতে হবে বলে জানিয়েছিলেন তাদের চিকিৎসকেরা

সুইজারল্যান্ডে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে আজীবন পঙ্গুত্ব বরন করে নেওয়া তিনজন আবার মানুষকে আবারো স্বাভাবিক হাটাচলা করাতে সক্ষম হয়েছেন দেশটির চিকিৎসকেরা। তারা পক্ষাঘাতগ্রস্ত এই ব্যক্তিদের মেরুদণ্ডে কৃত্রিম একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র স্থাপনের মাধ্যমে তাদের মস্তিষ্ক থেকে পা পর্যন্ত সংকেত পৌঁছানোর কাজ পুনরায় চালু করতে পেরেছেন বলে বিবিসির একটি খবরে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পক্ষাঘাতগ্রস্ত হবার পর ঐ তিন ব্যক্তিকে তাদের বাকী জীবন হুইল চেয়ারেই কাটাতে হবে বলে জানিয়েছিলেন তাদের চিকিৎসকেরা। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে সুইজারল্যান্ডের ইকোল পলিটেকনিক ফেদেরার ডি লাওসানের একদল গবেষক কর্তৃক আবিস্কৃত বৈদ্যুতিক ইমপ্ল্যান্ট তাদের হারানো জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে।

এই পদ্ধতিতে প্রথম চিকিৎসা নেওয়া ব্যক্তি ৩০ বছর-বয়সী সুইস নাগরিক ডেভিড এম'যি। খেলাধুলা সংক্রান্ত এক দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পেয়ে সাত বছর ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে ছিলেন তিনি। বর্তমানে ডেভিড আধা মাইলের বেশি হাঁটতে পারেন।

তিনি বলেন, ""আমার কাছে এর গুরুত্ব অনেক। যা করতে পেরেছি তাতে আমি অনেক বিস্মিত। আমি ভেবেছিলাম অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টা হচ্ছে। এটা ভীষণভাবে আনন্দের, সত্যিই এই অনুভূতি অসাধারণ।"

উল্লেখ্য, ইমপ্ল্যান্ট যন্ত্র বন্ধ থাকলেও ডেভিড এখন আট কদম হাঁটতে পারেন, ক্রনিক মেরুদণ্ডের জখমের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা প্রথমবারের মত ঘটলো।

নতুন এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছেন আরও দুইজন মানুষ। তারা হলেন নেদারল্যান্ডসের জার্টান ওসকান এবং জার্মানির সেবাস্তিয়ান টোবলার। তারা দুইজনই দূর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এরা দুইজনই নতুন এই চিকিৎসায় ধীরে ঢীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছেন।

তবে, গবেষণাগারের বাইরে দৈনন্দিন জীবনে এই পদ্ধতির প্রয়োগ এখনও যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠতে পারেনি এবং প্রক্রিয়াটি যথেষ্ট ব্যয়বহুলও।       

দাতব্য সংস্থা চ্যারিটি স্পাইনাল রিসার্চের বৈজ্ঞানিক পরিচালক ডক্টর মার্ক বেকন বলেন, "এটা প্রমাণ করেছে যে, অন্তত কিছুক্ষেত্রে পক্ষাঘাত নির্মূল করা যায়। বর্তমানে এটি রোগীদের জন্য বিকল্প উপায় কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ থাকতে পারে। কিন্তু এটা প্রমাণ করে যে, আমাদের সামনে কার্যকর একটি মডেল আছে।"

তবে, গবেষকরা ইতোমধ্যেই আগামী তিন বছরের মধ্যে ইউরোপ এবং আমেরিকাতে বড় পরিসরে এই ক্লিনিকাল পরীক্ষার পরিকল্পনা শুরু করেছেন। তারা আশা করছেন আগামীতে এই পদ্ধতি আরও অনেক সুলভ হবে।