• বুধবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৫ রাত

বিয়ের ১৮ বছর পর যৌতুকের টাকা ফেরত

  • প্রকাশিত ০১:৪৮ দুপুর নভেম্বর ৮, ২০১৮
যৌতুকের টাকা ফেরত
যৌতুকের টাকা ফেরত দিচ্ছেন আব্দুর রহিম বাদশা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন।

বিয়ের সময় ছেলে এবং মেয়ের বাবা গোপনে যৌতুক হিসেবে ৪০ হাজার টাকা লেনদেন করেন

যৌতুক একটি সামাজিক ব্যাধি। আইন থাকা সত্ত্বেও প্রায়োগিক দুর্বলতার কারণে যৌতুক প্রথা সমাজ থেকে মুছে ফেলা এখনও সম্ভব হয়নি। এখনও যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে প্রতি বছর অনেক নারীকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হচ্ছে। 

ঠিক সেই সময় বিরল এক ঘটনার সূচনা করলেন আব্দুর রহিম বাদশা নামের এক ব্যক্তি। তিনি ১৮ বছর আগের করা তুল সংশোধন করতে নিজেই যৌতুকের টাকা ফিরিয়ে দেন তার শুশুর বাড়ির লোকজনের হাতে। টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের হাবিবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

জানা যায়, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের হাবিবপুর গ্রামের আব্দুর রহিম বাদশা ১৮ বছর আগে একই উপজেলার আলম নগর ইউনিয়নের দক্ষিণ নবগ্রামের লতা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় ছেলে এবং মেয়ের বাবা গোপনে যৌতুক হিসেবে ৪০ হাজার টাকা লেনদেন করেন। এর প্রায় তিন বছর পর আব্দুর রহিম বাদশা বিষয়টি জানতে পেরে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেন যেভাবেই হোক এই যৌতুকের টাকা ফেরত দিতে হবে। অবশেষে তার বিয়ের দীর্ঘ ১৮ বছর পর বিয়ের সময় বরযাত্রী হিসেবে অংশ নেয়া প্রায় সবাইকে শশুর বাড়িতে দাওয়াত করে শশুরের হাতে তুলে দিলেন যৌতুকের সেই ৪০ হাজার টাকা। 

আব্দুর রহিম বাদশা বলেন, "২০০০ সালে বেকার অবস্থায় আমি লতা বেগমকে বিয়ে করি। সে সময় আমার অজান্তে স্থানীয় ঘটকের মাধ্যমে আমার বাবা শুশুরের কাছ থেকে যৌতুক হিসেবে ৪০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে তখনই আমি প্রতিজ্ঞা করি যৌতুকের এই টাকা ফেরত দিয়ে নিজেকে অপরাধ মুক্ত করবো। পরবর্তীতে বেকার জীবন থেকে নিজেকে মুক্ত করতে ঢাকায় গিয়ে চাকরি পাই একটি ছোটখাটো কোম্পানিতে। নিজের এবং সংসার খরচের পর উপার্জন করা সামান্য বেতন থেকে কিছুকিছু টাকা আলাদাভাবে জমাতে শুরু করি। এরপর জনসম্মুখে শশুরের হাতে যৌতুকের সেই ৪০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে সমাজের জন্য ব্যাধি, ধর্মীয় ও সরকার কর্তৃক একটা অপরাধ বিষয় থেকে নিজেকে মুক্ত করলাম।"

রহিমের শশুর আব্দুল হালিম বলেন, "আমার জামাতার এমন বুদ্ধিমত্তা দেখে আমার খুব ভালো লাগছে। আমি চাই আর যেন কেউ যৌতুক নিয়ে বিয়ে না করে। এটা একটি সামাজিক ব্যাধি। এ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।"

এদিকে, বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রহিমের নিজের পরিবার থেকে শুরু করে এলাকার সবাই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।