• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৬ দুপুর

কাল থেকে বরগুনায় শুরু হচ্ছে জ্যোৎস্না উৎসব

  • প্রকাশিত ০৯:৪১ রাত নভেম্বর ২২, ২০১৮
জ্যোৎস্না উৎসব
ছবি: সৌজন্যে।

'শুভ সন্ধ্যা'র চরে জল-জ্যোৎস্নায় একাকার হবে জ্যোৎস্নাবিলাসী হাজারো মানুষ

২৩ নভেম্বর থেকে বরগুনার শুভ সন্ধ্যা সীবিচে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ জ্যোৎস্না উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বরগুনা জেলা প্রশাসন। 

দেশের সর্বদক্ষিনের উপকূলীয় জেলা বরগুনার খড়স্রোতা পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর মোহনায় নবগঠিত শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে চতুর্থ বারের মত এ উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। 

নয়বাভিরাম এই সমুদ্র সৈকতের একদিকে দীর্ঘ ঝাউবন, আরেকদিকে তিন তিনটি নদীর বিশাল জলমোহনা রয়েছে। সবমিলিয়ে নদ-নদী আর বন-বনানীর এক অপরূপ সমাহার তালতলী উপজেলার শুভ সন্ধ্যার চর। জ্যোৎস্না উৎসবে এখানেই জল-জ্যোৎস্নায় একাকার হবে জ্যোৎস্নাবিলাসী হাজারো মানুষ। এ উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যেই শুভ সন্ধ্যা সৈকতে বাহারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে স্টল বানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় বরগুনার নয়নাভিরাম সৌন্দর্যকে দেশ বিদেশের পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে এ উৎসবে উপলক্ষ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বরগুনা জেলা প্রশাসন। 

জেলা প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, এবারের জ্যোৎস্না উৎসবে বরগুনা থেকে দুটি দ্বিতল লঞ্চ সংযোজন করা হবে। উৎসবের দিন দুপুর দেড়টায় বরগুনা লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে যাবে। বরগুনার খাগদন নদী হয়ে বাইনচটকীর স্নিগ্ধ বনভূমির পাশ দিয়ে কুমীরমারা আর গোড়াপদ্মার নয়নাভিরাম বনবনানীর কোল ঘেষে বিকেল পাঁচটার দিকে লঞ্চ পোঁছবে শুভসন্ধার চরে। সেখানে রাতভর জ্যোৎস্নার গান, রাখাইন নৃত্য, বাউল সঙ্গীত, মোহনীয় বাশি, পুঁথী এবং কবিতা আবৃত্তির আয়োজন থাকবে। এছাড়াও থাকবে লোভনীয় পুরস্কারের আকর্ষণীয় লটারী।

বরগুনার জেলা প্রশাসক ও জ্যোৎস্না উৎসব আয়োজক কমিটি ২০১৮-এর আহবায়ক কবীর মাহমুদ জানান, “বরগুনায় যোগদান করেই এখানকার প্রতিটি পর্যটন স্পট আমি ঘুরে দেখেছি। বরগুনা হল এমন একটি জেলা যেখান থেকে নৌপথে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এবং বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের অভয়ারণ্যের দূরত্ব মাত্র ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার”।

“বরগুনার এসব আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকাগুলো পরিকল্পিতভাবে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরা গেলে পর্যটন শিল্প বিকাশের সাথে সাথে এখানকার অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে”, তিনি যোগ করেন।

এদিকে, এবারের জ্যোৎস্না উৎসবে স্থানীয় এলাকাবাসীসহ রাজধানী ঢাকা এবং দেশ বিদেশের ২০ থেকে ৩০ হাজার পর্যটক ভিড় জমাবেন বলে ধারণা আয়োজক কমিটির।

জ্যোৎস্না উৎসবের উদ্যোক্তা সোহেল হাফিজ বলেন, “স্থানীয় সমমনা বন্ধুদের নিয়ে যে উৎসবটি আমরা শুরু করেছিলাম তা আজ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের কাছে একটি প্রিয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। বরগুনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ উৎসবটি ধীরে ধীরে দেশ-বিদেশেও ব্যাপক পরিচিতি পাবে বলে আমরা আশাবাদী”। 

আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, জ্যোৎস্না উৎসব উপলক্ষ্যে বিশুদ্ধ খাবার পানির পাশাপাশি নারী ও শিশুদের জন্য বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও, থাকছে র‌্যাব ও পুলিশসহ আইনশৃংখলাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চাদনী রাতে তিন নদীর জলমোহনায় ছোট ছোট ট্রলার ভাড়া করে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ানোর জন্য থাকছে ভাড়ায় চালিত ট্রলারের সুব্যবস্থাও।