• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬ রাত

৫০০ কিলো জুড়ে থাকা গাছ থেকে ১২৭ কেজি পেরেক তুললেন যশোরের রাজমিস্ত্রি

  • প্রকাশিত ০৪:৫১ বিকেল নভেম্বর ২৭, ২০১৮
wahid
ওয়াহিদ সরকার। ছবি- বিবিসি

এছাড়াও ২০০৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত নিজ খরচে এবং বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় প্রায় ৩০ হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোতে পারেননি যশোরের ওয়াহিদ সরকার। কিন্তু গাছেরও প্রাণ আছে তা ভালো করেই বুঝতে পারেন তিনি। গাছের প্রতি ভালোবাসার কারণে যশোর, ঝিনাইদহ, খুলনার রাস্তার দুপাশের ৫০০ কিলোমিটার জুড়ে বিভিন্ন গাছ থেকে এ পর্যন্ত ১২৭ কেজি পেরেক তুলেছেন ওয়াহিদ সরকার, আর রোপন করেছেন প্রায় ৩০ হাজার গাছ। 

বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই গাছ বন্ধু ওয়াহিদ সরকারের কথা। 

এ প্রসঙ্গে তিনি বললেন, “আমি মিনিমাম ৫০০ কিলোমিটার জুড়ে পেরেক তুলেছি। আমি পেশায় রাজমিস্ত্রি। পাশাপাশি আমি পেরেক, ব্যানার এসব গাছের শরীর থেকে অপসারণ করে গাছকে আংশিক স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

২০১৮ সালের জুলাই মাস থেকে গাছের পেরেক অপসারণ শুরু করেন যশোরের ওয়াহিদ সরকার। তিনটি জেলার বিভিন্ন রাস্তার ধারে থাকা গাছ থেকে ব্যানার, পেরেক অপসারণ করে যাচ্ছেন তিনি। 

“যারা করছে তারা সব শিক্ষিত, পয়সাওয়ালা, যার জন্য নিরাপত্তার একটা হুমকি ছিল। ভিতরে ভয় কিন্তু মুখে সাহস ছিল, এটা নিয়ে ওদেরকে বোঝাতে বোঝাতে আমি পেরেক তুলেছি”, জানালেন ওয়াহিদ।

এছাড়াও ২০০৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত নিজ খরচে এবং বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় প্রায় ৩০ হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি। 

“গাছকে আমি অতি ভালোবাসি, গাছ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, গাছ মারা যাচ্ছে তারকাঁটার আঘাতে। বিজ্ঞান বলছে গাছের জীবন আছে, যেহেতু জীবন আছে তার মানে তার যন্ত্রণা, ব্যথা আছে। এ কারণে আমি এ কাজটি করছি।”

পেরেক তুলতে গিয়ে মানুষের তিরস্কারের আর মুখোমুখিও হতে হয় ওয়াহিদ সরকারকে। 

ওয়াহিদ জানালেন, “প্রথমে জিজ্ঞেস করে কে অর্ডার করেছে, বেতন কতো। বলি আমি স্বেচ্ছাসেবক, বলে এটা অসম্ভব, ‘কিন্তু’ আছে ভিতরে।”

সন্দেহও করে কেউ কেউ, “পেরেকগুলো কী করেন? বলি সংরক্ষণ করি। বলে- না, বিক্রি করেন। এখানে তো অনেক পয়সা আছে।”

এ প্রসঙ্গে ওয়াহিদ বললেন, “এটা হচ্ছে আপনি ভালো কাজ করলে এমন সমালোচনার ভেতর দিয়ে যেতে হবে, তাই এটার দিকে আমি দৃষ্টি দেই না।” 

আর্থিক অনটনের কারণে তার এই স্বেছাসেবী কাজে সম্মতি ছিল না পরিবারের। 

“প্রথমে আমার প্রতি তাদের একটা ক্ষোভ ছিল যে আমাদের ভবিষ্যতটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যখন দেখলো যে আব্বার এটা নেশা, তখন তারা এ সঙ্কটের ভেতর দিয়ে সসম্মানে গড়ে উঠেছে।”

ওয়াহিদের মালয়েশিয়া প্রবাসী ছেলে বর্তমানে সংসারের হাল ধরেছে আর তিনি গাছ বাঁচানোর লড়াই করে যাচ্ছেন। 

গাছ থেকে পেরেক তোলার এই কাজকে তার যুদ্ধ বলে অভিহিত করলেন ওয়াহিদ সরকার, “আমি যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার একটি সু-পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যানারকে জাদুঘরে না নিবে ততক্ষণ আমি এটা চালু রাখবো।”