• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৫ সকাল

জার্মানিতে ১৬ বছর ধরে বন্ধ বঙ্গবন্ধু চেয়ার

  • প্রকাশিত ১০:৫৮ সকাল ডিসেম্বর ২৪, ২০১৮
হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়
জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়।ছবি: বিগস্টক।

চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে যায় প্রফেসরিয়াল চেয়ারটির কার্যক্রম

১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিল্প, সাহিত্যসহ নানা বিষয়ে গবেষণা, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশ বিষয়ে পড়তে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রফেসরিয়াল ফেলোশিপ’ চেয়ার।

তবে, এর ২ বছর পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশের বাইরে প্রতিষ্ঠিত প্রফেসরিয়াল চেয়ারটির কার্যক্রম। তারপর ১০ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলেও তা চালু করার কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ১৬ বছর ধরে বন্ধ হয়ে আছে হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু প্রফেসরিয়াল চেয়ার। সম্প্রতি ডয়চে ভেলের একটি প্রতিবেদনে এই সব তথ্য উঠে এসেছে।

চালু হওয়ার প্রথম দুই বছরে বাংলাদেশ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষকরা এ ফেলোশিপের আওতায় যোগদান করলেও ২০০২ সালের পর কোনো শিক্ষক এ ফেলোশিপের আওতায় যোগদান না করায় বন্ধ হয়ে যায় এই চেয়ারের কার্যক্রম। ফলে কাজে লাগানো যাচ্ছে না বাংলাদেশ বিষয়ে গবেষণার ও বাংলাদেশেকে বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার গুরুত্বপূর্ণ এ সুযোগটি।

এদিকে, হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা বলছেন, এ চেয়ারটির কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে ইনস্টিটিউটের অ্যাকাডেমিক কারিকুলামে বাংলাদেশ আগের মতো স্থান পাচ্ছে না।

জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ৫ই আগস্ট হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতাচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়৷ এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর একজন শিক্ষক হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটে যোগদান করার কথা।

এ বিষয়ে হয়নি সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের নির্বাহী সেক্রেটারি ড. মার্টিন গিজেলমান বলেন, “২০০২ সালের পর বাংলাদেশ থেকে নতুন কোন শিক্ষক এখানে যোগদান করেননি। এটি চালু করার অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল৷ কিন্তু নানা জটিলতায় এটি চালুর ব্যাপারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া যায়নি”।

দক্ষিণ এশিয়া ইন্সটিটিউটের শিক্ষক, মডার্ন ইন্ডোলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. হান্স হারডার বাংলা ভাষা ও সাহিত্যসহ নানা বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন৷ তিনি বলেন, “এ ইনস্টিটিউটের শিক্ষা কার্যক্রমে ভারতের অনেক বড় ভূমিকা আছে৷ তাদের দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা কাজ করছে৷ বাংলাদেশ নিয়ে আমাদের আগ্রহ আছে৷ বাংলাদেশের এ প্রফেসরিয়াল চেয়ারটি চালু হলে বাংলাদেশ বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার হবে”। 

এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে প্রফেসরিয়াল চেয়ারটি স্থাপনের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং বাংলাদেশি দূতাবাসের সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন বলেন, “হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একটি চেয়ার থাকা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ। বিভিন্ন দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস জানানোর জন্য চেয়ারটি চালু হওয়া দরকার।

অন্যদিকে, জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, চেয়ারটি চালুর সাথে যেহেতু অর্থনৈতিক বিষয় জড়িত থাকায় বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।