• বৃহস্পতিবার, মে ২৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৫ রাত

রিহ্যাব মেলায় সাড়ে তিন লাখ টাকায় কবরের জমি

  • প্রকাশিত ০৬:১৪ সন্ধ্যা ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯
কবর
ছবি প্রতীকী

কবর বুকিং দেওয়া কোনো ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর সকল আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন করে দেওয়া হবে

রিহ্যাব মেলায় সাড়ে তিন লাখ টাকায় বুকিং দেওয়া হচ্ছে কবরের জমি। এমআইএস হোল্ডিংস কবরের জন্য স্থায়ী জমি বুকিংয়ের ব্যতিক্রমী এই সুযোগ করে দিয়েছে ।

রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চলছে পাঁচ দিনব্যাপী রিহ্যাব ফেয়ার-২০১৯। এখানেই ৩১ নম্বর স্টলে গিয়ে দেখা যায় কবরের জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে বুকিং নিচ্ছে এমআইএস হোল্ডিংস।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পূর্বাচল রাওজাতুল জান্নাত প্রকল্পের আওতায় বুকিং নেওয়া হচ্ছে কবরের জমির। প্রায় ২০০ বিঘা জমির উপর ৮ হাজার কবরের সংকুলান হবে এখানে। ইতিমধ্যে দুই হাজার কবরের জমি তৈরি করা হয়েছে।

৭ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৩.৫ ফুট প্রস্থের (২৪.৫ বর্গফুট) এসব জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আর এককালীন সার্ভিস চার্জ ১৫ হাজার টাকা। মোট ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকায় পাওয়া যাবে একটি কবর।

এ উদ্যোগ সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানা বলেন, ঢাকা শহরে এখন আর কোথাও স্থায়ী কবর বরাদ্দ পাওয়া যায় না। তবে আমরা এখানে স্থায়ী কবর দিচ্ছি। যিনি জমি কিনবেন তাকে সাব-কাবলা রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে। এই জমি আর কাউকে দেওয়া হবে না। আমাদের এখানে শুধু কবরস্থান করা হবে, তা নয়। এখানে মসজিদ, মাদ্রাসা এবং এতিমখানাও করা হচ্ছে। যারা এখানে জমি কিনবেন তাদের টাকার একটি অংশ থেকে এগুলো করা হবে।

আফরোজা সুলতানা আরো বলেন, কবর বুকিং দেওয়া কোনো ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার স্বজনরা আমাদের জানানো মাত্রই মরদেহ সম্পর্কিত সকল আনুষ্ঠানিকতা আমরাই করবো। মরদেহের গোসল করানো, জানাজা ও দোয়াসহ দাফনও আমাদের লোক দিয়েই করে দেবো। আর সবসময় ২৪ ঘণ্টা কবরের নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করবো। এই সবকিছু ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকার মধ্যেই।

২৪ বর্গফুট জায়গার জন্য সাড়ে ৩ লাখ টাকা অনেক বেশি কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেখেন, ঢাকা শহরে এমনিতেই কোথাও আর কবরের জমি স্থায়ীভাবে পাওয়া যায় না। একজনের মরদেহের কবরেই কিছুদিন পর আরেকজনের মরদেহ কবর দেওয়া হয়। প্রিয়জনের মরদেহের সাথে এমনটা যারা হতে দিতে চান না তারা এখানে জমি কিনতে পারেন। এটা চিরস্থায়ী। এছাড়াও কেউ কোথাও এক কাঠা জমি কিনেও চাইলে কবর করতে পারবেন না। প্রতিবেশীরা আপত্তি করতে পারেন। কিন্তু এখানে মসজিদ, মাদ্রাসা এবং এতিমখানার মতো একটা পরিবেশে চিরস্থায়ী কবর পাওয়া যাচ্ছে। একটা ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়। আর কবর রক্ষণাবেক্ষণে চিরস্থায়ী যে খরচটি হবে তা আমরা একবারেই নিয়ে নিচ্ছি। তাই দাম বেশি বলা যাবে না।

মেলায় বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে স্টলটি। কবরের জমি কেনা যায় শুনে অনেকে অবাকও হচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বিজ্ঞাপন দেখে বিস্তারিত জানতে এসেছেন এ স্টলে।