• বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৩ রাত

ময়লা ডোবাকে মিনি-লেকে পরিণত করলেন নড়াইলের এসপি

  • প্রকাশিত ০৭:০৩ রাত ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৯
ডোবা সংস্কার করে বানানো মিনি লেক
নড়াইলের নবনিযুক্ত এসপির উদ্যোগে ডোবা সংস্কার করে বানানো মিনি লেক। ছবি: সাইফুল ইসলাম তুহিন, নড়াইল

পুলিশ সুপার নিজ হাতে প্রতিদিন সকাল-বিকাল এই খামারের পরিচর্যা করেন

নড়াইল-মাগুরা সড়কের দূর্গাপুর-গোচর এলাকা। সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসিক বাসভবনসহ এবং কয়েকটি সরকারী বড় অফিস। তবে, এমনই গুরুত্বপূর্ণ এলাকার একটি রাস্তার পাশের ডোবাকে এতদিন ময়লা আবর্জনার ভাগাড় হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল স্থানীয় মানুষ।

এই ডোবাটি ঘেষে সরকারী মহিলা কলেজ, কলেজেটির ছাত্রীনিবাস, সার্কিট হাউজ, পুলিশ সুপারের বাসভবন, গনপূর্তভবনসহ সরকারের উর্ধতন কর্মকর্তাদের বাসভবন হলেও প্রায় ৩০ বছর ধরে এখানে ময়লা আবর্জনা ফেলানোর কারণে দূর্গন্ধে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যেতোনা।

তবে, বর্তমানে ত্রিশ বছর পুরনো এই মজা ডোবা একটি দৃষ্টিনন্দন মিনি লেকে পরিণত হয়েছে। আর এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন জেলার সদ্য নিযুক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার)।

তার উদ্যোগে ডোবার মাঝখানে বসানো হয়েছে ফোয়ারা। পথিকের চোখ আটকে যাচ্ছে ফোয়ারার দিকে। দূর্গন্ধের বদলে সেখানকার বাতাসে এখন ফুলের সুঘ্রাণ। লেকের পানিতে চাষ করা হয়েছে পদ্মফুল আর শাপলা, ছাড়া হয়েছে কই, শিং, মাগুর, পুটি, পাবদা, টাকি, চিতল, শোল, খল্লা, বেলেসহ অন্তত ১৫ রকমের দেশি মাছ। অন্যদিকে লেকের চারিদিকে রোপন করা হয়েছে বিভিন্ন রকমের ফলজ ও বনজ  গাছের চারা, জনসাধারণের বসার জন্য তৈরি করা হয়েছে বেঞ্চ।

ময়লা ডোবা সংস্কার করে তৈরি করা এই লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন এলাকার মানুষ লেকের পাড়ে ভীড় জমাচ্ছেন।

পুলিশ সুপার নিজ হাতে প্রতিদিন সকাল-বিকাল এই খামারের পরিচর্যা করেন। তিনি এই প্রকল্পটির নাম দিয়েছেন 'পুলিশ মৎস্য এ্যাকুরিয়াম'। তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় মানুষেরা।

লেকের পাশেই অবস্থিত মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাসের ইয়াসমীন খানম বলেন, "ময়লা ডোবার দূর্গন্ধ এবং মশার কামড়ে রাতে তারা হোষ্টেলে ঘুমতে পারতাম না। তবে, ডোবা সংস্কার করে লেক তৈরি করায় এখন আর এসব উৎপাত নেই।

নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের সাধারন সম্পাদক তরিকুল ইসলাম অনিক বলেন, "সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে এসপি মহোদয় একজন সৌন্দর্য পিপাসু মানুষের পরিচয় দিয়েছেন। আমরা নড়াইলবাসী তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই"।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ এনামুল হক জানান, "পুলিশ সুপার এই লেকে দেশী মাছ চাষ করার ফলে স্থানীয়দের মাঝে মজা ডোবা সংস্কার করে মাছ চাষে আগ্রহ বাড়ছে। পুলিশ সুপারের এ ধরনের উৎপাদনমুখী উদ্যোগকে স্বাগত জানাই"।

ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের মূল পরিকল্পনাকারী এসপি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এ প্রসঙ্গে ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "জাপানে দেখেছি ছোট ছোট প্রতিটি জলাশয়ে মাছ চাষ করছে। আমি এখানে আসার পরে দেখলাম, ময়লা

আর্বজনা ফেলায় পুরো এলাকার পরিবেশ দূষিত হয়ে গিয়েছে। আমার নিজের বাসভবনেও টেকা দায়। তাই শিক্ষার্থীসহ এলাকার সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেই এটি করা হয়েছে"।