• বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০০ বিকেল

নাটেশ্বরে হারিয়ে যাওয়া উন্নত নগর সভ্যতার নিদর্শন

  • প্রকাশিত ০১:৪১ দুপুর ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৯
নাটেশ্বরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন
নাটেশ্বরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ছবি: তানজিল হাসান/ ঢাকা ট্রিবিউন।

অনুমান করা হচ্ছেভারতের স্বাচীর মতো এখানেও হাজার বছরের পুরনো বড় আকারের একটি স্তূপা আবিষ্কার হতে চলেছে

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ির নাটেশ্বরে হারিয়ে যাওয়া এক উন্নত নগর সভ্যতার নিদর্শন মিলেছে। প্রতিদিনই সেখানে আবিষ্কৃত হচ্ছে হারিয়ে যাওয়া সময়ের আরও নিত্য-নতুন নিদর্শন।

সেখানে বর্তমানে প্রায় ৬ একর জায়গা জুড়ে চলছে খনন কাজ। এতে অংশ নিচ্ছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি), কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আর চীনের হুনান প্রাদেশিক প্রত্নতত্ত্ব ও সাংস্কৃতিক বস্তু ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

খনন প্রকল্পের গবেষণা পরিচালক ও জাবি’র প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে একটি পয়েন্টে খনন চালানো হচ্ছে। এবারের প্রক্রিয়া চলবে ২০১৯ সালের মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত। এরপর এখানে প্রত্নতাত্ত্বিক পার্ক হবে।"

প্রত্নতাত্ত্বিক পার্ক তৈরি করা হলে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পট হয়ে উঠবে বলেও ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, খনন কাজের জন্য চীন থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে সরঞ্জামাদি। কয়েকটি ধাপে এখানে খনন কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। এসব দেখতে দেশি-বিদেশি পর্যটক সমাগম হচ্ছে নাটেশ্বরে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আসছেন। 

অনুমান করা হচ্ছে, ভারতের স্বাচীর মতো এখানেও একটি বড় আকারের স্তূপা আবিষ্কার হতে চলেছে। ছবি: তানজিল হাসান/ঢাকা ট্রিবিউন

নাটেশ্বরে খনন করে পাওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো সংরক্ষণ করে ঢেকে রাখা হয়েছে। এখানে যে ‘মন্দির নগরী’ পাওয়া গেছে তা বিরল। গত বছর এখানে একটি বড় বাহু পাওয়া গিয়েছিল। এবার আরেকটি বাহুর সন্ধান মিলেছে। সম্প্রতি নাটেশ্বরে একটি প্রাচীন দেয়াল আবিষ্কৃত হয়। এর আগে গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে বৌদ্ধ মন্দির, অষ্টকোণাকৃতি স্তূপ, চারটি অনন্য স্তূপ হলঘর, ইটের রাস্তা, কক্ষ, দেয়াল, মেঝে, ইটের নালা, অসাধারণ প্রবেশদ্বার প্রভৃতি। মাটির নিচে বৌদ্ধবিহারের সাতটি ভিক্ষু কক্ষ ও একটি হলঘর উন্মোচিত হয়েছে।

অনুমান করা হচ্ছে, ভারতের স্বাচীর মতো এখানেও একটি বড় আকারের স্তূপা আবিষ্কার হতে চলেছে। স্তূপা, মন্দির, চারটি করে ১৬টি আলাদা স্তূপা, হাজার বছর আগের রাস্তা, পানি নিষ্কাশন নালা ইত্যাদি আবিষ্কৃত হয়েছে। এসব থেকে বোঝা যায়, এখানে একটি উন্নত নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।

২০১৪ সালে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহযোগিতায় খনন কাজ শুরু হয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উন্মোচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী পাঁচ বছর খনন করা এলাকা ও আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণ করা হবে আধুনিক পদ্ধতিতে।

অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও প্রকল্প পরিচালক নূহ উল আলম লেনিন জানান, "সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এই খনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। আশা করা যায়, আগামী পাঁচ বছরে কাজ শেষের পর আধুনিকভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হবে। ইতোমধ্যে এর খসড়া মডেল তৈরির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। সম্পূর্ণ কাজ শেষ হলে এটি একটি প্রত্নতাত্ত্বিক পার্ক হবে। বাংলাদেশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পট হয়ে উঠবে নাটেশ্বর।" 

গবেষকদের ধারণা, নাটেশ্বর হয়ে উঠবে বাংলাদেশের অন্যতম সমৃদ্ধ বৌদ্ধস্থাপনা বা পুরাকীর্তির স্থান। এমনকি, ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে জায়গাটি।