• রবিবার, মে ২৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:১৩ দুপুর

এসেছিলেন বিয়ে করতে, ঠাঁই হলো কারাগারে

  • প্রকাশিত ০৪:৩২ বিকেল মার্চ ১০, ২০১৯
বিয়ে
প্রতীকী ছবি

পাত্রীর পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পাত্র এবং তার বাবাকে গ্রেফতার করে পুলিশ

বর্ধমান থেকে বিয়ে করতে এসেছিলেন বর দেবদীপ পাল।কনের বাড়িতে পৌঁছাতেই বরকে ঘিরে ‘আত্মীয়’দের ভিড়। কনেপক্ষের দাবি, মেয়েবাড়ির আচার মেনে বরের পোশাক বদলাতে হবে। এদিকে, পোশাক বদলানোর কথা বলেই সোজা বর এবং বরের বাবাকে নিয়ে যাওয়া হলো পুরুলিয়ার বরাবাজার থানায়। 

পাত্রীর পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পাত্র এবং তার বাবাকে গ্রেফতার করে পুলিশ বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আনন্দবাজার। মুলত, আত্মীয়ের বেশে বিয়েবাড়িতে হাজির ছিলেন পুলিশকর্মীরাই। ধৃতদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগ ছিল।

শনিবার পুরুলিয়া আদালতের বিচারক তাঁকে সাত দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। বরের বাবা তপন পালের জামিন মঞ্জুর করেছেন বিচারক।

এদিকে, পাত্রীর বাবা বলেন, একটি ওয়েবসাইটে মেয়ের জন্য পাত্রের সন্ধান করছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে দেবদীপের পরিবারের সাথে তাদের যোগাযোগ হয়। খোঁজ নিতে দুর্গাপুরে পাত্রের বাড়িতেও গিয়েছিলেন তাঁরা।

বিয়ের ঠিক আগের দিন পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। হঠাৎই বিয়ের আগের দিন বৃহস্পতিবার পাত্রীর বাড়িতে তার ভাইকে নিয়ে হাজির হন উত্তর চব্বিশ পরগনার ইছাপুরের এক যুবতী। দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে দেবদীপের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। দিন কয়েক আগে তিনি খবর পান, দেবদীপ বিয়ে করছেন। যুবতী দাবি করেন, চেপে ধরায় দেবদীপ তাঁকে বলেন, বাড়ির চাপে বিয়ে করছেন। অল্প দিনের মধ্যেই বিবাহ বিচ্ছেদ চাইবেন। 

সেই মেয়েটির ভাই বলেন, ‘‘দেবদীপকে বিশ্বাস করে আমার বোন ভুল করেছিল। কিন্তু আর একটা মেয়ে যাতে না ঠকে, সে কথা ভেবে বরাবাজারে চলে আসি।”

এরপর ইছাপুরের যুবতীকে নিয়ে থানায় যান পাত্রীর বাবা। সম্পর্কের ‘প্রমাণ’ হিসেবে পুলিশের কাছে দেবদীপের কথাবার্তার রেকর্ড ও কিছু ছবি জমা দেন সেই মেয়েটি। দেবদীপ ও তাঁর বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন পাত্রীর বাবা।

শুক্রবার দুপুরে বরযাত্রী নিয়ে পাত্র এসে পৌঁছান বরাবাজারে। দেবদীপ ও তাঁর বাবাকে পুলিশ কী অভিযোগে তুলে নিয়ে গিয়েছে তা জানিয়ে বরযাত্রীদের রওনা করিয়ে দেওয়া হয় ফিরতি পথে। বামুনাড়ার ভৈরবতলা এলাকায় দেবদীপদের বাড়ি। এদিকে, পড়শিদের একাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা বিয়ের বিষয়টি জানতেন না। কেউ নিমন্ত্রণও পাননি।