• সোমবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:০৫ সন্ধ্যা

এশিয়ার ৪১৭ সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নেই বাংলাদেশের একটিও

  • প্রকাশিত ০৭:০১ রাত মে ৭, ২০১৯
বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতীকী ছবি/রয়টার্স

চার শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তালিকায় কোনোটির উন্নতি হয়েছে, কোনোটি নেমেছে কিছুটা নিচের দিকে। আবার নতুন করে তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে কয়েকটি ইউনিভার্সিটি।

ম্প্রতি লন্ডন-ভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, এশিয়া মহাদেশের ৪১৭টি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নেই বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম।

গত বছর ৩৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে এই জরিপ চালানো হয়েছিল।

তবে, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, বাংলাদেশের অনুমোদিত ৪২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটিও স্থান পায়নি এই তালিকায়।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাপদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রায়ই উঠে আসে বিভিন্ন অসঙ্গতি ও সমালোচনা।

মোট ১৩টি দিক বিবেচনা করে এই তালিকা প্রস্তুত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

গতবারের তালিকায় প্রথম স্থানে থাকা ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরকে টপকে এবার প্রথম স্থানে এসেছে চীনের সিনহুয়া ইউনিভার্সিটি। ৩ এবং ৪ নম্বরে রয়েছে হংকং এর দুটি বিশ্ববিদ্যালয়।

চার শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তালিকায় কোনোটির উন্নতি হয়েছে, কোনোটি নেমেছে কিছুটা নিচের দিকে। আবার নতুন করে তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে কয়েকটি ইউনিভার্সিটি।

এখন প্রশ্ন হতে পারে, কেন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এশিয়ার সেরা তালিকায় জায়গা করে নিতে পারল না?

এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা বিবিসিকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পদ্ধতি এখনো সনাতন পদ্ধতির মধ্যেই রয়েছে, সঙ্গে রয়েছে নানা অরাজকতা।

তিনি বলেন, আমাদের একটা বড় ঘাটতির জায়গা হল যে টিচিং এন্ড লার্নিং। এই দুটি পদ্ধতি খুব পুরনো আমলের রয়ে গেছে। লার্নিং কত ধরণের আছে সেটা নিয়ে গবেষণার অভাব আছে, বোঝাবুঝির অভাব আছে। এখানে তো অনেক দিন ধরে অনেক অরাজকতা চলছে সেসব মিটিগেট করার ব্যবস্থা নেয়া হয় নি। সেটাই বড় সমস্যা।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ফারজানা সিদ্দিকা বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পরেও গুটি কয়েক বিভাগে গবেষণা হয়।

বিশ্ব র‍্যাংকিং এর ক্ষেত্রে মৌলিক গবেষণা বড় ভূমিকা পালন করে। যেটা হচ্ছে না বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে একসময়ে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বরাবর এসেছে দেশের নানা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে।

কিন্তু এসব যে উচ্চ মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নাম লেখানোর জন্য কোনো কাজ করে না সেটাই বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা লুৎফা।

তিনি বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, পরিচালনা নিয়োগ থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে রাজনীতি মূল নিয়ামক হয়ে ওঠার কারণে পড়ালেখা, গবেষণা, প্রবন্ধ, নিবন্ধ বের করা একেবারেই একটা জটের সৃষ্টি করেছে। এখানে শিক্ষা ছাড়া সব কিছুকেই মূল্য দেওয়া হয়।