• শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৪ রাত

সিরিয়াল কিলার স্বাস্থ্যকর্মী: হিরো সাজতে ভুল ওষুধ খাইয়ে ৩০০ রোগী হত্যা

  • প্রকাশিত ০৩:০২ বিকেল মে ১৩, ২০১৯
সিরিয়াল কিলার
সহকর্মীদের কাছে হিরো সাজতে রোগীদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতেন জার্মানির স্বাস্থ্যকর্মী নিলস হোগেল। ছবি: সংগৃহীত।

প্রায় ১৫ বছর ধরে সবার চোখের আড়ালে এই নিষ্ঠুর কাজটি করে আসছিল হোগেল

হিরো হওয়ার জন্য রোগীদের ভুল ওষুধ খাইয়ে আরো অসুস্থ করে তারপর তাদের সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করতো সে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার এই অভিনব চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তেন রোগীরা।   

এমন সব অভিনব হত্যার অভিযোগে জার্মানিতে এক স্বাস্থ্যকর্মীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। নিলস হোগেল নামক ওই স্বাস্থ্যকর্মীর এই মরণঘাতি খেলার শিকার হয়েছেন ৩শ'রও বেশি রোগী।

জানা যায়, সহকর্মীদের কাছে হিরো সাজবার জন্য ভুল ওষুধ দিয়ে রোগীদের অবস্থা আরো সঙ্কটাপন্ন করে তুলতো সে। এরপর সে ওই রোগীদের বাঁচানোর জন্য প্রাণপন চেষ্টা করে সবার কাছে হিরো সাজতো। যদিও অধিকাংশ সময়েই ভুল ওষুধের প্রভাবে মারা যেত হতভাগ্য রোগীরা।

দেশটির পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে সবার চোখের আড়ালে এই নিষ্ঠুর কাজটি করে আসছিল হোগেল। শুধুমাত্র ২০০০ থেকে ২০০৫, এই পাঁচ বছরেই জার্মান হোগেল-এর শিকার হয়েছেন অন্তত ৩০০ রোগী।

জানা যায়, জার্মানির ওল্ডেনবার্গ শহরের একটি হাসপাতালে কাজ করতো নিলস হোগেল। তবে সে কাজে যোগ দেয়ার পর থেকেই ওই হাসপাতালে একের পর এক রোগীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে থাকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব মৃত্যুর কোনও কারণ খুঁজে না পেলেও লক্ষ্য করে যে প্রতিটি মৃত্যুর ক্ষেত্রেই রোগীর আশপাশে দেখা গিয়েছেন হোগেলকে। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ তারা খুঁজে পায়নি।

এদিকে রহস্যজনক মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় না পেরে হোগেলকে হাসপাতাল থেকে প্রত্যাহার করে নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কোনো প্রমাণ না থাকায় হোগেলের রিলিজ লেটারে তার অনেক প্রশংসা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে অন্য একটি হাসপাতালে সহসজেই চাকরি জুটিয়ে নেয় হোগেল।

নতুন কর্মস্থলে হোগেলের যোগদানের কিছুদিন পর ওই হাসপাতালেও শুরু হয় রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা। চার মাসের মধ্যে হোগেলের দায়িত্বে থাকা পাঁচ রোগীর রহস্যমৃত্যু হয় নতুন হাসপাতালেও। যদিও তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রায় ১০ বছর চেষ্টা করেও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি জার্মানির গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা।

অবশেষে জেরার মুখে হোগেল নিজেই তার অপরাধ স্বীকার করে। ৪৩টি খুনের কথা নিজেই স্বীকার করে সে। এছাড়াও ৫২টি মৃত্যুর ক্ষেত্রে তার দায় থাকতেও পারে বলে জানায় হোগেল। তবে, ৫ টি মৃত্যুর ক্ষেত্রে তার কোনো হাত নেই বলে জানিয়েছে এই কুখ্যাত খুনী। কিন্তু দেশটির গোয়েন্দা বিভাগ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অন্তত ৯০ টি মৃত্যুর সঙ্গে হোগেলের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। যার প্রেক্ষিতে হোগেলকে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। 

এদিকে হোগেলের ঘটনা প্রকাশ পেতেই তাকে বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের সব থেকে কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার হিসেবে অভিহিত করেছে দেশটির জনগণ। একই সাথে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সবার সামনে এই হত্যালীলা চালাতে সক্ষম হওয়ায় দেশটির পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।