• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৩ বিকেল

৮৬ শতাংশ মানুষই ভুয়া খবরের শিকার

  • প্রকাশিত ০৬:১০ সন্ধ্যা জুন ১৭, ২০১৯
ভুয়া খবর
প্রতীকী ছবি পেক্সেলস

বেশিরভাগ ভুয়া খবর ছড়ানো হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। তারপরেই অবস্থান রাশিয়া এবং চীনের। প্রতারিত হতে হতে ক্রমশ আস্থা হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৮৬ শতাংশই ভুয়া বা মিথ্যা সংবাদের শিকার। যার বেশিরভাগই ছড়ানো হয় ফেসবুকের মাধ্যমে।

গত মঙ্গলবার (১১ জুন) প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক জরিপের বরাত দিয়ে এমন খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

উদাহরণস্বরূপ কিছুদিন আগে গাড়ির ধাক্কায় কানাডার হাসপাতালে সাবেক শ্রীলংকান ক্রিকেটার সনৎ জয়াসুরিয়ার মৃত্যু হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত টুইটারে বিবৃতি দিয়ে নিজের জীবিত থাকার খবর জানাতে হয়েছিল জয়াসুরিয়াকে।

বাংলাদেশেও বিভিন্ন সময় ভুয়া বা মিথ্যা সংবাদের কারণে অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। গত বছর কোটা আন্দোলন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় একাধিকবার ভুয়া খবরের কারণে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়। ভুয়া খবর ছড়ানোর দায়ে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এখনও মামলা চলমান। 

সম্প্রতি ২৫টি দেশের ২৫ হাজার মানুষকে নিয়ে একটি জরিপ চালায় কানাডার থিংক ট্যাংক ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল গভর্নেন্স ইনোভেশন’। সেখানে দেখা যায়, বেশিরভাগ ভুয়া খবর ছড়ানো হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। তারপরেই অবস্থান রাশিয়া এবং চীনের। প্রতারিত হতে হতে ইন্টারনেটের ওপর ক্রমশ আস্থা হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। যার প্রভাব পড়ছে অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে।

বিভিন্ন সময় দেখা যায়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পুরনো কোনো দুর্ঘটনার একটা ছবি ঘুরেফিরে ফেসবুকে ঘুরতে দেখা যায়। সঙ্গে লেখা থাকে— ‘অমুক জায়গায় ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা’।

গত বছরের ২১ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, পুরো পৃথিবীর ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৮৬ শতাংশই ভুয়া খবরের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এসব খবরের বেশিরভাগ ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়ানো হলেও ইউটিউব, টুইটার এবং ব্লগেও ভুয়া খবরের কোনো কমতি নেই।

জরিপকারীরা দেখছেন, ভুয়া খবরে সবচেয়ে সহজে প্রভাবিত হচ্ছেন মিশরের মানুষ এবং সবচেয়ে বেশি সন্দেহগ্রস্ত পাকিস্তানিরা।