• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৫৪ সন্ধ্যা

মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহারে গজাবে 'শিং'!

  • প্রকাশিত ০৮:১৬ রাত জুন ২২, ২০১৯
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

এর দৈর্ঘ্য এক থেকে তিন সেন্টিমিটারের মধ্যে হতে পারে

ঘাড় ঝুঁকিয়ে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ফলে মাথার পিছনে ঘাড়ের কাছে অতিরিক্ত 'শিং' এর ন্যায় প্রবর্ধন তৈরি হওয়ার সমূহ আশঙ্কা জেগে উঠেছে। সম্প্রতি নেচার পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব সানশাইন কোস্টের(ইইউএসসি) গবেষকরা এই দাবি করেছেন।

বিজ্ঞানীদের দাবি, মুঠোফোনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে ঘাড় ও মাথা সংলগ্ন অঞ্চলের হাড় উঁচু হয়ে পাখির বাঁকানো ঠোট কিংবা হুক অথবা শিংয়ের মতো উঁচু হয়ে যাচ্ছে। এর কারণ মাথা ঝুঁকিয়ে মোবাইল স্ক্রিনে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকা।

ইউএসসি-র গবেষকরা মোট দু’দফায় একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে এই দাবি করছেন। প্রথম দফায় ১৮-৩০ বছর বয়সী ২১৮ জনের উপর এই পরীক্ষা চালানো হয়। ফলাফলে ৪০ শতাংশের ক্ষেত্রেই উঁচু হয়ে ওঠা হাড়ের এই প্রবর্ধনের সন্ধান পান বিজ্ঞানীরা। করোটির পিছনে তৈরি হওয়া এই প্রবর্ধনের উচ্চতা একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম। তবে, এর দৈর্ঘ্য এক থেকে তিন সেন্টিমিটারের মধ্যে হতে পারে বলে জানান গবেষকরা। ২য় দফায় ১৮-৮৬ বছর বয়সি প্রায় ১২০০ জনের উপর পরীক্ষা চালিয়ে একই ফলাফল পাওয়া যায়। এর পর করোটির অস্থি, মাথার পিছনের পেশী ও ঘাড়ের স্নায়ুগুলোর উপর নানা পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়ে এই প্রবর্ধনের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসে মোবাইলের ব্যবহার।  

গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাথা ঝুঁকিয়ে দীর্ঘ সময় মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে কাঁধের দিক থেকে ওজন সরাসরি মেরুদণ্ডের উপর না পড়ে পড়ছে ঘাড় ও মাথার পিছনের পেশীতে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘাড় ও মাথার সংযোগস্থলকে অতিরিক্ত চাপ বহন করতে হচ্ছে। এতে করে শরীরের ওই অংশের টেন্ডন ও লিগামেন্টের উপর খারাপ একটি প্রভাব পড়ছে এবং ক্রমাগত শরীর চাপের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে ওই সনযোগস্থলের চামড়া শক্ত হয়ে গিয়ে এই প্রবর্ধনের সৃষ্টি করছে। বিজ্ঞানীরা এই প্রবর্ধনের নাম দিয়েছেন ‘হেড হর্ন’, ‘ফোন বোনস’ কিংবা ‘উইয়ার্ড বাম্পস’। তবে এই সমস্যার আনুষ্ঠানিক নামকরণ এখনও করা হয়নি। 

এ প্রসঙ্গে গবেষণা দলের প্রধান ডেভিড শাহার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “হঠাৎ করে এই পরিবর্তন আসে না। বছরের পর বছর একই ভাবে মোবাইল ঘাঁটতে ঘাঁটতে এই সমস্যা তৈরি হয় শরীরে। মূলত ছোটবেলা থেকেই অতিরিক্ত মোবাইল ঘাঁটার ‘অসুখ’ থেকেই এই রোগের জন্ম। সারা ক্ষণ মোবাইল হাতে বুঁদ হয়ে থাকা মানুষ, বিশেষত তরুণ প্রজন্মই এর প্রধান শিকার”।