• রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩০ সকাল

গাছের বৃদ্ধিতে বাধা দিচ্ছে ফেলা দেওয়া সিগারেটের ফিল্টার

  • প্রকাশিত ০৫:০১ সন্ধ্যা জুলাই ২১, ২০১৯
সিগারেটের ফিল্টার
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবছর কমপক্ষে ৪.৫ ট্রিলিয়ন সিগারেটের ফিল্টার সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে

সিগারেট খাওয়ার পর তার ফিল্টার গাছের বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি এ্যাংগলিয়া রাস্কিন ইউনিভার্সিটির নেতৃত্বে এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে বলে বিবিসি বাংলার একটি খবরে বলা হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়, সেলুলোজ অ্যাসিটেট ফাইবার দিয়ে বানানো সিগারেটের ফিল্টারগুলো এক ধরনের বায়োপ্লাস্টিক। প্রতিবছর কমপক্ষে ৪.৫ ট্রিলিয়ন সিগারেটের ফিল্টার বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। গবেষকরা ক্যামব্রিজ শহরের আশেপাশের এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১২৮ টি সিগারেটের ফিল্টার পেয়েছেন। এর ফলে গাছের জন্য সবচেয়ে সবচেয়ে ক্ষতিকর প্লাস্টিক দূষণের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ফেলে দেওয়া এইসব সিগারেটের ফিল্টার।

শুধুমাত্র ব্যবহৃত সিগারেটের ফিল্টারই নয়; অব্যবহৃত সিগারেটের ফিল্টারও পরিবেশের জন্য সমান ক্ষতিকর হিসেবে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ফেলে দেওয়া এইসব সিগারেটের ফিল্টারের কারণে মাটিতে বীজের অঙ্কুরোদগমের সম্ভাবনা হ্রাস পেয়েছে ২৭-২৮%। ঘাসের ক্ষেত্রে অঙ্কুরোদগমের সম্ভাবনা হ্রাস পেয়েছে ১০ % এবং দৈর্ঘ্যের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে ১৩% ।    

প্রধান গবেষক ড্যানিয়েল গ্রিন এপ্রসঙ্গে বলেন, "আমাদের গবেষণার প্রধান বিষয় ছিল গাছের ওপর সিগারেটে গোঁড়ার কি প্রভাব সেটি দেখা। আমরা দেখেছি যে, সিগারেটের এই অবশিষ্টাংশ গাছের অঙ্কুরোদগমের সফলতা এবং চারাগাছের কাণ্ডের দৈর্ঘ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ঘাস এবং গুল্মের কাণ্ডের ওজন অর্ধেক হ্রাস করে দেয়।"

"যে সমাজে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ যত্রতত্র ছুঁড়ে ফেলার সংস্কৃতি রয়েছে সেসব স্থানে পরিবেশের গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে", যোগ করেন তিনি।

এদিকে গবেষণায় আরও জানা গেছে ক্ষতিগ্রস্ত এইসব গাছের পাতা কিংবা ঘাস খাওয়ার ফলে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গবাদিপশু।

গবেষণায় আরো উল্লেখ করা হয়, এইসব বায়োপ্লাস্টিক জাতীয় ফিল্টারের রাসায়ন উপাদানগুলো গাছের প্রাথমিক পর্যায়ের বিকাশে অত্যন্ত বাধার সৃষ্টি করে।

তাই দূষণের হাত থেকে পরিবেশ ও গাছ বাঁচাতে ধূমপায়ীদের আরো দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।